বাংলাদেশের জয়পুরহাটে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ১১

বাংলাদেশের  জয়পুরহাটে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ১১

জয়পুরহাটে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আজ সকাল পৌনে সাতটার দিকে জয়পুরহাট সদরের পুরানাপৈল রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় ক্রসিংটির গেট খোলা ছিল ও সংশ্লিষ্ট গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। 

দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মো. সালাম কবির ও সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সারোয়ার হোসেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, পার্বতীপুর থেকে রাজশাহীগামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে বাঁধন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের ওই সংঘর্ষ হয়। জয়পুরহাট থেকে পাঁচবিবি যাচ্ছিল বাসটি। 

পথে বাসটি পুরানাপৈল রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনটিও সেখানে চলে আসে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা সকলেই বাসের যাত্রী।  পাঁচজনকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হতাহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ বলেছে, দুর্ঘটনার আগে রেলক্রসিংটির গেট খোলা ছিল। গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন।নিহতদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন,পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের আলতাফ হোসেনে ছেলে সরোয়ার হোসেন (৩৫) ও তার ছোট ভাই আরিফুজ্জামান রাব্বি (২৫)।

জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম জানান,পুরানাপৈল রেলগেটে গেটম্যান তার দায়িত্ব পালন না করায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দাফন কাজ সহ সার্বিক খরচ বহন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর থেকে রেলের পশ্চিমাঞ্চলের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার জন্য উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। চেষ্টা চলছে দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও ট্রেন অপসারণের। জেলা প্রশাসক ছাড়াও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবীর,সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায় ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক খন্দকার ছানাউল হক বলেন, ট্রেনের সাথে সংঘর্ষে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর ৫ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে আরো দু’জন বগুড়া হাসপাতালে মারা গেছেন।