কলকাতায় শিশু পাচারের পর্দাফাঁস, উদ্ধার ২১ জন নাবালক ,গ্রেফতার ৩

কলকাতায় শিশু পাচারের পর্দাফাঁস, উদ্ধার ২১ জন নাবালক ,গ্রেফতার ৩

কলকাতা    গোপন সূত্রে খবর ছিল আগে থেকেই। সেইমতো সোমবার ভোর থেকেই কলকাতার স্ট্রান্ড রোডে ওঁৎ পেতে ছিলেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। তখনও লকডাউন শুরু হয়নি। তাও নজর রাখা হচ্ছিল দূরপাল্লার বাসগুলির ওপর। এলাকার মানুষ ভেবেছিলেন হয়ত লকডাউনের জন্য বাড়তি নজরদারি। কিন্তু ভুল ভাঙল একটু পরেই।

বিহার থেকে আসা একটি বাসকে দাঁড় করায় পুলিশ। ওই বাস থেকেই একে একে নামিয়ে আনা হয় ২১টি শিশুকে। সেইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয় শিশুদের সঙ্গে থাকা তিনজনকে। ধৃত তিনজনেরই বয়স ২০ থেকে ২৮।কলকাতায় বড়সড় শিশু পাচার চক্রের হদিশ মিলল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে উদ্ধার হওয়া শিশুরা প্রত্যেকেই নাবালক। এবং সবারই বাড়ি বিহারের সমস্তিপুর জেলায়। প্রত্যেকেরই পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ার সুযোগে তাঁদের কাজের লোভ দেখিয়ে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এদের শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানো হতো বলেই জানা যাচ্ছে।

ধৃত তিনজনকেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত সেটা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রত্যেক শিশুকেই আপাতত সরকারি হোমে পাঠানো হয়েছে।তাঁদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

ধৃতদের নাম মহম্মদ এহসান (২২), মহম্মদ আফজল (২৩) ও মহম্মদ চাঁদ (২৮)। জানা যাচ্ছে ভিনরাজ্যের এই শিশুদের কলকাতার বিভিন্ন ফুটপাথের হোটেল ও চায়ের দোকানে কাজের ব্যবস্থা করে দিত পাচারকারীরা।

তার বদলে মোটা টাকাও নিতেন এই দুষ্কৃতীরা। আর এই শিশুদের দুবেলা খাবার ছাড়া বেতন দেওয়ার দরকার হয় না বলে এই নাবালকদের কদর বেশি। আর এই সুযোগ নিয়েই এই চক্র বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ড থেকে শিশুদের পাচার করে কলকাতায় নিয়ে আসত।এদিকে, উদ্ধার হওয়া ওই নাবালকদের এক সরকারি হোমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।