লিবিয়ায় ২৬জন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা আহত আরো ১১ জন

আজবাংলা     লিবিয়ার মিজদা শহরে এক পাচারকারীর পরিবারের হাতে ২৬ বাংলাদেশি অভিবাসী নিহত হয়েছেন। এক পাচারকারীকে হত্যার প্রতিশোধে তার পরিবার ওই বাংলাদেশিদের সহ মোট ৩০ জন অভিবাসীকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে বাকি চার জন্য আফ্রিকান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১১ জন। তাদের জিনতান শহরের এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।গাদ্দাফি পরবর্তী গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত লিবিয়ার অর্থনীতি তেলনির্ভর । কাজের সন্ধানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেই তরুণেরা অবৈধ পথে দেশটিতে পাড়ি জমায়। একপর্যায়ে তাদের বেশিরভাগেরই লক্ষ্য থাকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ ভাবে ইউরোপের কোনো দেশে যাওয়া। এশিয়া–আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি— পুরো রুটে মানব পাচারকারী বিশাল চক্র সক্রিয় রয়েছে।এ ঘটনায় আরও ১১ বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে আহত। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।লিবিয়া প্রবাসী কল্যাণ ফোরামের ফেসবুক পেজেও এ খবর জানানো হয়েছে।ত্রিপলির বাংলাদেশ দূতাবাস প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনী বাংলাদেশিদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালালে, ২৬ জন নিহত হয়। গুলি থেকে রক্ষা পাওয়া এক বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, কাজের টোপ দিয়ে দিন ১৫ আগে বেনগাজি থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে পাচারকারীরা তাঁদের লিবিয়ার ত্রিপলি শহরে নিয়ে আসে। সবমিলিয়ে ৩৮ বাংলাদেশিকে মিজ্দাহ শহরে জোর করে আটকে রাখে অপহরণকারীরা। সেই অবস্থায় বাংলাদেশিদের উপর অকথ্য অত্যাচারও হয়। পুলিশের ধারণা, চরম অত্যাচারের একপর্যায়ে সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিরোধেই খুন হয় মূল অপহরণকারী। সেই ঘটনার আবার পালটা হিসেবেই ৩০ জনকে এ ভাবে হত্যা করা হয়েছে।