পৃথিবী থেকে মুছে যাবে ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটা, জেনে নিন কেন

আজবাংলা   ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটায় আর কেউ জন্মাবেন না! হবে না কারও মৃত্যু, দুর্ঘটনাও। গৃহপ্রবেশ, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন, বা কোনও উৎসব, পার্বণ কিছুই হবে না এই দিনে। কেনা যাবে না জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটও। কারণ, পৃথিবী থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটাই মুছে যাবে।পৃথিবী থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটির বিলুপ্তি। আমাদের উপর চাঁদের ‘মায়া’ কমে যাওয়ার ফলেই পার্থিব বছর থেকে আস্ত একটা ২৪ ঘণ্টার দিন হারিয়ে যাবে। চিরতরে। আজ থেকে ২ হাজার ৬৬ বছর আগেকার কথা। খ্রিস্টের জন্মের ৪৬ বছর আগে (৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। পৃথিবীর বছরের হিসাব তখন অন্য ভাবে করা হত। ভাবা হত, একটা বছর শেষ হতে লাগে ৩৬৫ দিন।কিন্তু তাতে কোথাও যেন একটা ভুল থেকে যাচ্ছে, প্রথম আন্দাজ করা গেল রোমের তদানীন্তন সম্রাট জুলিয়াস সিজারের সময়। গলদটা সম্রাটকে ধরিয়ে দিলেন এক জ্যোতির্বিজ্ঞানী। সসিজেনিস।সিজার বুঝলেন, তড়িঘড়ি বানাতে হবে নতুন ক্যালেন্ডার। আর সেটা কার্যকর হতে হবে পরের বছর (৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) থেকেই। সেই ক্যালেন্ডারের নামকরণ করা হল সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নামেই। ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’।আর সেটা তড়িঘড়ি ৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে করতে গিয়েই রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের সাম্রাজ্যে ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দটি হয়ে পড়ল পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দিনের বছর। ৪৪৪ দিনের।তার পর কেটে গেল আরও প্রায় ১৬০০ বছর। সেটা ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দ। তদানীন্তন পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি চার বছর অন্তর ‘লিপ ডে’গুলিকে আরও নিখুঁত ভাবে সাজাতে চাইলেন।পার্থিব বছরের আয়ু ৩৬৫.২৪২১৯ গড় সৌর দিবস বলে প্রতি ৪০০ বছরে ৯৭টি দিন বেশি হয়। সেই দিনগুলিকে পার্থিব বছরের হিসেবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে কোনও শতাব্দীর যে বছরগুলির শেষে রয়েছে দু’টি শূন্য (০), তাকে ৪০০ দিয়ে ভাগ করতে হবে। তাতে ভাগশেষ থাকলে সেই বছরগুলি আর লিপ ইয়ার হবে না। না থাকলে, সেগুলি লিপ ইয়ার হবে। তাই ২০০০ সাল লিপ ইয়ার হলেও, ২১০০, ২২০০ এবং ২৩০০ সাল তিনটি লিপ ইয়ার হবে না।’’জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পৃথিবীর নিজের অক্ষের চার দিকে ঘূর্ণনের গতি উত্তরোত্তর কমে আসছে। চাঁদ আমাদের ছেড়ে একটু একটু করে দূরে চলে যাচ্ছে বলে। তার ফলে, আমাদের উপর চাঁদের টান (‘টাইডাল ফ্রিকশন’) কমে যাচ্ছে। তাই একটু একটু করে বেড়ে যাচ্ছে দিনের আয়ু। প্রতি শতাব্দীতে ১৪ মিলিসেকেন্ড করে।যার অনিবার্য পরিণতি, পৃথিবী থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটির বিলুপ্তি।