বর্জ্য পদার্থ তৈরি হল আস্ত গাড়ি, গোটা বিশ্বের নজর কাড়ল ‘লুকা’

বর্জ্য পদার্থ তৈরি হল আস্ত গাড়ি, গোটা বিশ্বের নজর কাড়ল ‘লুকা’

আজ বাংলা:  ভাবা যায়!বর্জ্য পদার্থ  তৈরি হল চার চাকা গাড়ি, গোটা বিশ্বের নজর কাড়ল ‘লুকা’। হ্যা শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। 

সচরাচর পুরনো হয়ে গেলে যে কোনও জিনিসকেই আমরা বর্জ্য পদার্থ বলে ফেলে দেয়। কারণ পুরনো জিনিস ঘরে রাখা মানেই ঘর নোংরা হওয়া। তার থেকে আবর্জনাকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়াই ভালো। 


তবে কখনও ভেবেছেন কি ফেলে দেওয়া বর্জ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি হতে পারে একটা আস্ত গাড়ি? যদি না ভেবে থাকেন তাহলে এবার ভাবা শুরু করুন। কারণ এবার এই অবাক কাণ্ড করে দেখালো নেদারল্যান্ডসের ছাত্ররা। বিভিন্ন রকমের ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে ইলেকট্রিক গাড়ি বানিয়েছে তারা।

প্রশ্ন উঠছে, ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে ইলেকট্রিক গাড়ি, এও কি সম্ভব? কি ভাবছেন মজা করা হচ্ছে! এরকমটা ভাবলে কিন্তু একদম ভুল। কারণ এটা এক্কেবারে সত্যি ঘটনা।

জানা গিয়েছে, দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে দ্য টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ইন্দহোভেনের ২২ জন ছাত্র মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বাতিল করে দেওয়া জিনিস দিয়ে বানিয়েছে এক অভিনব গাড়ি। 


এই গাড়ির নাম রাখা হয়েছে লুকা। দুই আসনের এই গাড়ির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। সম্পূর্ণ চার্জ করলে ২২০ কিলোমিটার ছুটতে সক্ষম এই গাড়ি।

সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল যে আস্ত চলমান এই গাড়ি সমুদ্রে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য, পুনর্নবীকরণযোগ্য PET বোতল ও ঘরের বিভিন্ন বর্জ্য দিয়ে বানানো হয়েছে উজ্জ্বল হলুদ রঙের ইলেকট্রিক গাড়ি। গাড়িতে ব্যবহৃত মোটা প্লাস্টিকের বডি তারা বাড়ির পুরনো টিভি খেলনা ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত জিনিস দিয়ে বানিয়েছে।


এছাড়া গাড়ির সিট ঘোড়ার চুল নারকেল ছোবড়া দিয়ে বানানো হয়েছে। এই গাড়ি তৈরির প্রসঙ্গে তাদের প্রকল্পের ম্যানেজার লিসা ফান এতেন রয়টার্সকে জানান, ‘সত্যিই এই গাড়ি অন্যরকম। কারণ, এটি সম্পূর্ণভাবে ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে তৈরি।

 ফ্ল্যাক্স, বোতল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গাড়ির চ্যাসিস। কারণ লুকা দেখিয়েছে বর্জ্য পদার্থের ক্ষমতা। আরও অনেক ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে বর্জ্যকে। আশা রাখছি অনেক সংস্থা এই ব্যাপারে এগিয়ে আসবে।