গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় মুঠো মুঠো ওষুধ? বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় মুঠো মুঠো ওষুধ? বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

আজবাংলা  আমাদের মধ্যে যত মানুষের অম্বলের জন্য কষ্ট হয়, তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ একেবারে ঠিকই থাকে। তবে, এই পাকস্থলীর মধ্যে স্পর্শকাতরতা বেশি থাকে বলে একটু অ্যাসিডেও পেট জ্বলে, বুক জ্বলে, ব্যথা হয়। এটিকে নন-আলসার ডিসপেপসিয়া বলে। কোন কঠিন রোগ নয়, শুধু একটু নিয়ম মানলেই রোগ ঠিকই থাকে।

তবে, বাকি ৪০ শতাংশের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জনের সমস্যা কিন্তু সত্যিই অ্যাসিডের জন্য। আর বাকি ২০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে কষ্টের কারণ হল বিভিন্ন ধরনের নেশা যথা বিড়ি, মদ এছাড়া ব্যথার ওষুধ ইত্যাদি। এটির দ্বারা খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে, যাঁরা কেবল অম্বলে কষ্ট পান তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে বেশি অ্যাসিড থাকাটা কিন্তু কারণ নয়। আসলে এদের মধ্যে প্রায় সবাই নিয়মিতভাবে পিপিআই বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর গোত্রের ওষুধ খেয়ে থাকেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক পিপিআই-এর বিপদ-

শরীরের মধ্যে যে নালীর দ্বারা তৈরি হয়ে মূল যে নালীর মাধ্যম হয়ে অ্যাসিড পাকস্থলীর মধ্যে এসে পৌঁছোয়, এটির নাম প্রোটন পাম্প। এই নালীর রাস্তাটিকে আটকে দেয় পিপিআই। এরফলে অ্যাসিড আর বেরতে পারে না। শরীরে আরামের অনুভুতি হয়। ওমিপ্রাজোল/প্যান্টোপ্রাজোল/র‍্যাবিপ্রাজোল হল এই জাতীয় ওষুধ। এর ফলে নানা রকম বিপদও হয়। কথায় কথায় বদহজম বা ডায়েরিয়া, হাড় নরম হয়ে যাওয়া বা কারও মতে ক্যান্সারের আশঙ্কা বাড়ে। আবার অ্যাসিডিটি কমে গেলে ভাল জীবাণুর পরিমাণ ও বৈচিত্র একেবারে কমে যায়। ফলে হজমে যেমন বিঘ্ন ঘটে, কমে যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। বাড়ে সংক্রমণের আশঙ্কা। ভাল জীবাণু কমলে বাড়ে কোভিডের আশঙ্কাও। 'আমেরিকান জার্নাল অফ গ্যাসট্রোএন্টেরোলজি'-তে প্রকাশিত প্রবন্ধে সিডার্স সিনাই মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসাবিজ্ঞানী ব্রেনান স্পিগেল জানিয়েছেন, যাঁরা নিয়মিত এই সব ওষুধ খান তাঁদের ২.৫-৩.৭ গুণ বেশি আশঙ্কা কোভিড হওয়ার। ৮৬,০০০ জন মানুষের উপর সমীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি।

পিপিআই-এর বদলে, গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট সব্যসাচী পট্টনায়কের মতে, “প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে পিপিআই কেন, কোনও অম্বলের ওষুধই নিয়মিত খাওয়ার দরকার হয় না। মাঝে মধ্যে সমস্যা হলে লিকুইড অ্যান্টাসিড বা ফ্যামোটিডিন জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন।কিছু গবেষণা থেকে জানা গেছে কোভিডের প্রকোপ কমাতে এই ওষুধের কিছুটা ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে। তবে নিয়মিত কোনও ওষুধই ভাল নয়।

তার বদলে খাওয়া ও জীবনযাপনের নিয়ম মেনে চলা উচিত। বা কোনও অসুখের কারণে অম্বল হলে, সেই রোগের চিকিৎসা করা উচিত “অম্বলের বাড়-বৃদ্ধির মূলে কিছু খাবারের হাত আছে। “সবার সব খাবারে হয় না। যাঁর যেটাতে হয়, সেটা বর্জন করে চলা উচিত। যেমন, মিষ্টি ও ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার, দুধ, টক ফল, কফি, শুকনো লঙ্কা, গোলমরিচ, খুব ঠান্ডা বা খুব গরম খাবার, ঘন্টায় ঘণ্টায় এটা সেটা খাওয়ার অভ্যাস, ধূমপান, মদ্যপান। খালি পেটে মদ্যপান করলে সমস্যা বাড়ে। খালিপেটে চা খেলেও অনেকের সমস্যা হয়। কারও দুধ-চায়ে সমস্যা হয়। কারও হয় লেবু-চায়ে।” অম্বল হলে প্রথমে খাওয়া-ঘুমের নিয়ম মেনে দেখুন সমস্যা কমে কিনা। না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে অম্বলের ওষুধ খাবেন না। বিশেষ করে এই কোভিডের মরসুমে নতুন করে বিপদ বাড়িয়ে কোনও লাভ নেই।