গিলোটিনে ভয়ঙ্কর শিরোচ্ছেদের ইতিহাস

গিলোটিনে ভয়ঙ্কর শিরোচ্ছেদের ইতিহাস

পৃথিবীর সবচাইতে কুখ্যাত যে মারণযন্ত্র যেটি এখনও পর্যন্ত মানুষকে বাকরুদ্ধ করে রেখেছে তার নাম গিলোটিন। এই যন্ত্রের আবিষ্কর্তা আবার একজন ডাক্তার। ডা. জোশেফ ইগনেস গিলোটিন এই মারণ যন্ত্রের প্রবর্তক। কতটা সহজে মৃত্যুদণ্ড দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে তা ভেবেই ১৭৮৯ সালে এই যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন। 

যন্ত্রটিতে রয়েছে পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি কোণে থাকা দীর্ঘ খাঁড়া ফ্রেম । ফ্রেমে আটকানো থাকে অত্যন্ত ভারী ওজনের তীক্ষ্ণ ফলা। দুটি লম্বা কাঠের বিমের উপরে দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকে ফ্রেমটি । নিচে থাকে একটি টেবিল । অপরাধীকে ওই টেবিলের ওপর শুইয়ে দেওয়া হয় এবং ওপর থেকে সজোরে নামিয়ে দেয়া হয় তীক্ষ্ণ ফলা।

গিলোটিনের প্রচলন ঘটার আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বেশিরভাগ পদ্ধতিই ছিল নির্মম ও অমানবিক। সেসময় কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তাকে জনসম্মুখে নানা ভাবে নানা রকম নিষ্ঠুর নির্যাতন করে হত্যা করা হতো। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী জল্লাদ আক্ষরিকভাবেই মুগুর দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে তার শরীরের প্রত্যেকটি হাড় ভেঙ্গে ফেলতো অপরাধীর। ফলে একসময় অমানবিক যন্ত্রণা ভোগ করে মৃত্যু হতো অপরাধীর।

তবে সেসময় শিরচ্ছেদের মাধ্যমেও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু সেগুলো কেবল মাত্র সমাজের উচ্চ শ্রেণীর মানুষের জন্য প্রযোজ্য ছিল। শিরচ্ছেদও করা হত অমানবিক ভাবে। যে অস্ত্রের মাধ্যমে কুপিয়ে শিরচ্ছেদ করা হতো সেটি বেশি ব্যবহারের ফলে প্রায়ই ভোঁতা হয়ে যেত। ফলে ধড় থেকে মাথা আলাদা করতে কয়েকবার কোপ দিতে হতো জল্লাদকে। এর ফলে মর্মান্তিক মৃত্যু যন্ত্রনা ভোগ করতে হত। 

এর পর গিলোটিনের মাধ্যমে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৭৯২ সালের ২৫ এপ্রিলে।  আশ্চর্যের কথা এটাই এই মৃত্যু দেখেও ফরাসি জনতা চেঁচিয়ে উঠে বিরোধিতা জানিয়েছিল মৃত্যুদন্ড বন্ধ করার জন্য নয় আগের মৃত্যুর মতো এই মৃত্যুতে  মজা না থাকার জন্য। 

রাজা ষোড়শ লুই এর সময় সন্ত্রাস খুবই বৃদ্ধি পেয়েছিল। সন্ত্রাসের রাজত্ব রোধ করতে ব্যবহার করা হয় গিলোটিনকে। গিলোটিনের এই জঘন্য মৃত্যুর সমাপ্ত হয় রাজা ষোড়শ লুই এর গিলোটিনে হত্যা এবং সন্ত্রাস রাজত্ব সমাপ্ত হওয়ার পর।