পারিবারিক অশান্তিতে নিজের দুই সন্তান-সহ পাঁচজনকে খুন করল এক ব্যক্তি

পারিবারিক অশান্তিতে নিজের দুই সন্তান-সহ পাঁচজনকে খুন করল এক ব্যক্তি

পারিবারিক অশান্তিতে রক্তপাত। ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের দুই সন্তান-সহ পাঁচজনকে খুন করল এক ব্যক্তি। প্রাণহানি হয়েছে এক পুলিশ আধিকারিকেরও। ঘটনায় জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। স্থানীয় বেশ কয়েকটি বাড়িতেও সে ব্যাপক ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ। নৃশংস ঘটনার সাক্ষী ত্রিপুরার (Tripura) খোয়াই। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছে ওই ব্যক্তি। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত প্রদীপ দেবরায় উত্তর রামচন্দ্রঘাটের শেওড়াতুলির বাসিন্দা।

সে পেশায় রাজমিস্ত্রি। শুক্রবার সন্ধেয় কাজ সেরে নিজের বাড়িতে আসে সে। স্ত্রীর সামনে ধারাল অস্ত্র দিয়ে দুই কন্যাসন্তানকে কোপায় সে। চোখের সামনে নিজের সন্তানদের উপর অত্যাচার মানতে পারেননি প্রদীপের স্ত্রী মীনা পাল দেবরায়। দুই সন্তানকে বাঁচাতে যান তিনি। সেই সময় স্ত্রীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে প্রদীপ। বাড়ি ছেড়ে কোনওক্রমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মীনা।

স্ত্রীকে ধরতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দৌড়তে শুরু করে প্রদীপ।  পথে একটি অটো দেখতে পায় সে। ওই অটোতে চালক-সহ মোট পাঁচজন ছিলেন। হাত নাড়িয়ে অটোটি দাঁড় করায় সে। ধারাল অস্ত্র দিয়ে অটোর সামনের কাচে সজোরে আঘাত করে। অটোয় থাকা যাত্রীদের আঘাত করে। একজনের চোট গুরুতর। খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছন খোয়াই থানার সেকেন্ড অফিসার সত্যজিৎ মল্লিক।

তাঁকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রত্যেককে উদ্ধার করে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্তের স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অভিযুক্তের দুই সন্তান, পুলিশ আধিকারিক, অটোচালক-সহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু কেন এমন কাজ করল সে? অভিযুক্ত প্রদীপ জানায়, “সকলেই বিশ্বাসঘাতক।” তবে কী কারণে খুন করেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই জানায়নি প্রদীপ।