কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ৮ ডিসেম্বর দেশ জুড়ে ধর্মঘটের ডাক

কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ৮ ডিসেম্বর দেশ জুড়ে ধর্মঘটের ডাক

কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ৮ ডিসেম্বর দেশ জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিলেন আন্দোলনরত কৃষকরা। কৃষক স্বার্থবিরোধী কেন্দ্রের তিনটি কালো আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে তাঁদের বিরত করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষভকারীরা।

কৃষক নেতাদের দাবি, বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডেকে কেন্দ্রের নয়া কৃষি আইনগুলি সরকারকে প্রত্যাহার করতে হবে। তবেই প্রত্যাহার করা হবে চলতে থাকা কৃষক আন্দোলন। শুক্রবার নবম দিনে পড়েছে আন্দোলন। দিন যত গড়িয়েছে ততই বেড়েছে দিল্লির কৃষক আন্দোলনের তেজ।

এ দিকে পঞ্জাব, হরিয়ানার কৃষকদের পাশাপাশি ইতিমধ্যেই দিল্লি সীমান্তে এসে জড়ো হয়েছেন অন্যান্য জায়গা থেকে আসা হাজার হাজার কৃষক। সমর্থিত সূত্রে পাওয়া শেষ খবর অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই গাজিয়াবাদ-দিল্লি ২৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, উত্তরাখণ্ড-দিল্লি ৯ নম্বর জাতীয় সড়ক, দিল্লি-হরিয়ানার সিঙ্ঘু সীমানায় প্রায় ১২ লক্ষ কৃষকের জমায়েত হয়েছে।

এ দিকে, বৃহস্পতিবার টানা সাত ঘণ্টা বৈঠক হয় কৃষক নেতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের। যদিও তারপরও কোনও রফাসূত্র মেলেনি। কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে বসে কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতেই অনড় রয়েছেন কৃষকরা। যদিও কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর বলেন, 'কেন্দ্রের কোনও ইগো নেই। আলোচনা চলবে।'

এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবারের পর ৫ ডিসেম্বর, অর্থাত্‍ শনিবার ফের বৈঠকে বসার কথা দু-পক্ষের। তার আগেই এ দিন দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিলেন কৃষক নেতারা। অন্দোলন প্রসঙ্গে কৃষক নেতাদের দাবি, তাঁর দীর্ঘ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েই দিল্লিতে এসেছেন। ফলে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

এ দিকে, কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে বুধবারই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেস।পাশাপাশি শুক্রবারই কৃষকদের আন্দোলনে সমর্থন করে গোটা রাজধানীতেই 'চাক্কা জ্যাম' শুরু করেছে দিল্লির ট্রান্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনগুলি।

এতে ফে আন্দোলনে ঘৃতাহুতি হল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্লেখ্য, কেন্দ্রের কৃষি আইন নিয়ে প্রতিবাদের সুর ছড়িয়েছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবারই ট্যুইটারে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহার না হলে রাজ্য এবং দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস।

এদিন তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘোষণা, কেন্দ্রের নয়া কৃষি আইনের প্রতিবাদে পথে নামছে তারা। গান্ধিমূর্তির নীচে ৮ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অবস্থান বিক্ষোভ। ১০ তারিখ থাকবেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।