মোটা, মানসিক চাপ? দীর্ঘমেয়াদি জীবন চান....তাহলে আজই হয়ে যান নিরামিষভোজী

মোটা, মানসিক চাপ? দীর্ঘমেয়াদি জীবন চান....তাহলে আজই হয়ে যান নিরামিষভোজী

আজ বাংলা: বহু মানুষই নিরামিষভোজী। সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য  নিরামিষ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন অনেকে। নিরামিষজাতীয় খাবার একধরনের সুষম খাদ্য।

আমিষভোজীদের সামনে বসে খেলে তাঁদের অনেক টিপ্পনিই শুনতে হয় বৈকি। তবে নিরামিষ খাবারের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ তন্তু, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ফলিক অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম, সম্পৃক্ত স্নেহ পদার্থ ও প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক পদার্থ।

এই কারণে নিরামিষভোজী মানুষের মধ্যে উচ্চ কোলেস্টেরলজনিত বা নিম্ন রক্তচাপজনিত রোগ সাধারণত দেখা যায় না। এমনকি এ ধরনের মানুষদের হৃদ্‌রোগের আশঙ্কাও কম থাকে। নিরামিষজাতীয় খাবার বেশ সহজপাচ্য।

এসব খাবার রান্না করা সহজ, সাশ্রয়ীও বটে। এ কারণেই নিরামিষ আহার শুধু সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং পরিবেশের দিক থেকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

দীর্ঘমেয়াদি জীবনকাল এর জন্য উপকারীতা:

জীবনকালকে দীর্ঘায়িত করার অনেক পদ্ধতি রয়েছে, যার মধ্যে নিরামিষ ভোজন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় আপনি যত বেশি ফল বা সবুজ শাকসবজি রাখবেন, আপনার শরীরে তত কম রাসায়নিক ও বিষাক্ত পদার্থের প্রভাব তৈরি হবে। এটিই আপনাকে বহুদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে সহায়তা করবে।

দেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়:

প্রাণিজ ফ্যাটে আপনার শরীরের কোনো উপকার হয় না। কোলেস্টেরলের প্রায় সবটাই তৈরি হয় প্রাণিজ ফ্যাট থেকে। কারণ, উদ্ভিজ্জ ফ্যাটে কোনো রকম কোলেস্টেরল থাকে না। যদিও কোলেস্টেরল মানুষের কোষের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।

নিরামিষ খাবারের ওপর বেঁচে থাকলে শরীরের বিশেষ কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ, আমাদের শরীর সবুজ শাকসবজি থেকে নিজের প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল জোগাড় করে নেয়। কোরিয়ার গবেষকেরা তাঁদের বহু বছরের গবেষণা থেকে এ কথা স্বীকার করেছেন যে সর্বভুক মানুষের তুলনায় নিরামিষাশী মানুষের দেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেক কম থাকে।

মোটা ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়:

নিরামিষভোজী মানুষেরা পরিমিত মাত্রায় নিজেদের পছন্দসই খাবার খান। তাঁরা কখনোই বেশি পরিমাণে বা আবেগবশত অতিরিক্ত খাবার খান না।

এ কারণে নিরামিষভোজী মানুষের দেহে মেদ সমস্যা দেখা যায় না। বেলজিয়ামের পেডিয়াট্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মনে করেন, নিরামিষ মানুষের হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা কমায়।

সুন্দর ত্বক:

যদি সতেজ ও স্বাস্থ্যকর ত্বক চান, তাহলে আপনার উচিত সঠিক ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা। ফল ও সবুজ তরকারিতে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল এবং যথেষ্ট পরিমাণে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে।

এ ছাড়া যেহেতু সবজিতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, তাই বেশি করে নিরামিষ খেলে আপনার শরীরে এর মধ্যে নিহিত পুষ্টিদ্রব্যগুলো অক্ষত অবস্থায় সরবরাহ হয়ে থাকে। নিরামিষ খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, যা আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বেশি পরিমাণে তন্তুর উপস্থিতি:

ফল ও শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে তন্তু (ফাইবার) দেখা যায়। এই উদ্ভিজ্জ তন্তু আমাদের পরিপাক ক্রিয়ায় অনেক সহায়তা করে। শরীরের বিপাকক্ষমতা বাড়ানোর জন্য উদ্ভিজ্জ তন্তু হলো উৎকৃষ্ট উপাদান।

এ ছাড়া সবুজ সবজিতে প্রচুর জল থাকে, যা আমাদের শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে:

গবেষকদের মতে, আমিষাশী মানুষদের তুলনায় নিরামিষাশী মানুষেরা অনেক বেশি সুখী হন। আমিষাশীদের তুলনায় নিরামিষাশীদের মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি অনেক বেশি থাকে এবং তাঁরা সহজ জীবনযাপন করতে সক্ষম।

ফ্রেস সবজি গ্রহণে শরীর ও মনে অনেক বেশি সতেজতা বজায় থাকে। যদি এই সবজি জৈব উপায়ে উৎপাদন করা হয়, তাহলে তা আমাদের শরীরের সতেজতাকে বহুগুণ বাড়াতে পারে।

বিপাকীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি

নিরামিষ খাবার সহজপাচ্য এবং এটি আমাদের বিপাক ক্রিয়াকে যথাযথ রাখে। নিরামিষভোজী মানুষের ক্ষেত্রে রেস্টিং মেটাবলিজম রেট অনেক বেশি। আমিষভোজী ও নিরামিষভোজী মানুষের মধ্যে তুলনা করলে বিষয়টি আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। নিরামিষ শুধু সহজপাচ্যই নয়, এটি শারীরিক ফ্যাট বিপাকেও যথেষ্ট সহায়তা করে।

চোখের ছানি সমস্যা দূর করতে সহায়ক:

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুসারে, আমাদের খাদ্যাভ্যাস চোখের ছানি সমস্যার সৃষ্টির জন্য অনেকটাই দায়ী।  নিরামিষাশী মানুষের চোখে ছানি পড়ার হার আমিষাশীদের তুলনায় অনেকটাই কম। নিরামিষ খাবারের এমন হাজারো উপকার রয়েছে।

সব সময় মৌসুমি তাজা ফলমূল ও সবজি কেনার চেষ্টা করতে হবে। কৃত্রিম সার ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা শাকসবজির কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজার থেকেই এসব কিনুন। রান্নার আগে শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। আর সবজি রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল ও মসলা এড়িয়ে চলুন।