ত্রিপুরায় জেলবন্দি এবং বিচারাধীন আসামীর দেহে এইডস-এর জীবাণু,

ত্রিপুরায় জেলবন্দি এবং বিচারাধীন আসামীর দেহে এইডস-এর জীবাণু,

ত্রিপুরার জেলে বন্দি এবং বিচারাধীন আসামীর দেহে এইডস-এর জীবাণুর খোঁজে হাইকোর্ট নোটিশ জারি করেছে। আদৌ তারা এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা, তার সঠিক পর্যবেক্ষণ চাইছে উচ্চ আদালত। তাই, আদালত সুয়োমোটো জনস্বার্থ মামলায় আগামী ৯ নভেম্বরের মধ্যে এ-সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। ত্রিপুরা সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার, আইজি কারা এবং কারা দফতরের সচিবকে ওই সময়ের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

পরবর্তী শুনানির দিন ১২ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে। সম্প্রতি অসমের দুই কারাগারে কয়েদিদের দেহে এইডস-এর সংক্রমণ মিলেছে। এই খবর নিশ্চিতভাবে বিভিন্ন মহলে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। ফলে, জেলে বন্দি কয়েদিদের নিরাপত্তার প্রশ্নে এইচআইভি সংক্রমিতদের খুঁজে বের করা খুবই প্রয়োজনীয়। ধারণা করা হচ্ছে, অসমের ঘটনায় ত্রিপুরার জেলে বন্দি কয়েদিদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেছে উচ্চ আদালত।

এ-সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলায় ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইন্দ্রজিত্‍ মোহান্তি এবং বিচারপতি শুভাশিস তলাপাত্রের ডিভিশন বেঞ্চ ত্রিপুরা সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশ দিয়েছে। সাম্প্রতিক আদেশে আদালত বলেছে, ত্রিপুরার জেলে বন্দি আসামী এবং বিচারাধীন আসামীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমিতের খোঁজে এইডস্ কন্ট্রোল সোসাইটিকে সাথে নিয়ে ত্রিপুরা সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করুক।

এক্ষেত্রে কোনও কয়েদির দেহে এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেলে তার প্রয়োজনীয় চিকিত্‍সার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে, এমন ঘটনায় মহামারির পরিস্থিতি এড়ানোর ব্যবস্থা ত্রিপুরা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। আদালতের সাফ নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় চিকিত্‍সা কাল-বিলম্ব না করে ব্যবস্থা করতে হবে। এ-সংক্রান্ত রিপোর্ট আগামী ৯ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

জনস্বার্থ মামলায় আদালত-বান্ধব আইনজীবী নিযুক্ত হয়েছেন পারমিতা ধর। বিবাদিপক্ষের সকলকে রিপোর্টের প্রতিলিপি আদালতে জমা দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে ওই রিপোর্টের যাবতীয় তথ্যাবলি সম্পূর্ণ গোপন রাখতে হবে। আদালতের আরও নির্দেশ, ত্রিপুরা সরকারকে আদালত-বান্ধব আইনজীবীকে বিভিন্ন কারাগার পরিদর্শনের অনুমতি দিতে হবে। এক্ষেত্রে যাবতীয় সমস্ত সুবিধাও প্রদান করতে সরকারকে।