চাণক্য নীতি অনুসারে বিপদে পড়লে এই বিষয়গুলি অবশ্যই মনে রাখুন

 চাণক্য নীতি অনুসারে বিপদে পড়লে এই বিষয়গুলি অবশ্যই মনে রাখুন

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে চাণক্যের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা। তিনি একজন বড় পন্ডিত, কূটনীতিবিদ ,দার্শনিক এবং অর্থনীতিবিদ ছিলেন। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে এমন অনেক গ্রন্থ আছে যেগুলো আজ পর্যন্ত মানুষকে সমানভাবে প্রভাবিত করে আসছে । তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল chanakya neeti চাণক্য-নীতি - যা চাণক্যের লেখা শ্রেষ্ট গ্রন্থ। শুধু কেতাবি গবেষণার বিষয় নয় ।

চাণক্য-নীতি সত্যি মানুষের জীবনে আজও সমানভাবে কার্যকর । চানক্য নীতি মেনে চললে জীবনে সফলতা পাওয়া যেতে পারে। চাণক্য-কে সেরা পণ্ডিতদের মধ্যে গণনা করা হয়। এই কারণেই চানক্যের নীতি আজও আলোচনা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উঠে আসে। চাণক্য বলেছেন জ্ঞান হল মানুষের সেরা সম্পদ। একজন জ্ঞানী ব্যক্তির কদর সর্বত্র। জ্ঞানের জোরে মানুষ এই পৃথিবীর সব কিছু অর্জন করতে পারে।

তাই নিজেকে জ্ঞানী করে তোলো। জ্ঞান সৌন্দর্য এবং যৌবনের থেকেও বেশি শক্তিশালী। তবে কখনও জ্ঞানের অহংকারে অন্ধ হওয়া ঠিক বিষয় নয়।  চাণক্য ছিলেন ভারতের শিক্ষক, দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং রয়্যাল অ্যাডভাইজার৷ চাণক্যের অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রভাবে আজ তিনি বিশ্বখ্যাত৷ বিশ্ব সংসার সম্পর্কে তার জ্ঞান ছিল অপার৷ কী করলে আপনার জীবন সুখের হবে সেই সম্পর্কেই বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন তিনি৷ দেখে নিন সেগুলি  

 চাণক্য নীতি   অনুসারে, যে কোনও ব্যক্তির জীবনেই খারাপ সময় আসতে পারে। সেই সময়ে যিনি ধৈর্য ধরে থাকতে পারেন এবং সংযম দেখান, তিনিই সেই খারাপ সময় কাটিয়ে উঠতে পারেন। এছাড়াও মানুষের জীবনের বিষয়ে আরও অনেক কিছু বলেছিলেন চাণক্য। তাঁর মতে, মানুষের কোনওদিনই সেগুলি ত্যাগ করা উচিত নয়। বিশেষ করে খারাপ সময়ে সেগুলি মাথায় রাখা উচিত। বিপদ ও সঙ্কটের সময় এগুলিই মানুষকে পথ দেখায়। এগুলির সাহায্যেই মানুষ জীবনে এগিয়ে যেতে পারে এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে খারাপ সময় কাটিয়ে উঠে ফের সাফল্য পেতে পারে।

 চাণক্য নীতির  মতে, খারাপ সময়ে কখনও ধৈর্য হারানো উচিত নয়। মানুষের জীবনে খারাপ সময় আসেই। তাতে দমে গেলে চলবে না। দিনের পর যেমন রাত আসে, তেমনই ভাল সময়ের পর খারাপ সময় আসেই। রাতের আঁধার কেটে গিয়ে ফের দিনের আলো ফোটে। তেমনই খারাপ সময়ও কেটে যায়। মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ এরকমভাবেই আসে-যায়। সুখ যখন কারও জীবনে স্থায়ী নয়, তখন দুঃখও স্থায়ী নয়। এই কারণে খারাপ সময়ের জন্যও মানুষের তৈরি থাকা উচিত। ধৈর্য ধরে খারাপ সময় কাটিয়ে ফেলা উচিত। যারা ধৈর্য হারিয়ে ফেলে, তাদের জীবন সঙ্কটময় হয়ে ওঠে।

 চাণক্য নীতি  অনুসারে সংযমের উপরেও অত্যন্ত জোর দিয়েছিলেন চাণক্য। তাঁর মতে, খারাপ সময়ে সবারই অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে যাওয়া উচিত এবং অত্যন্ত সংযমী হয়ে কাজ করা উচিত। খারাপ সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত সঙ্কট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ভেবে-চিন্তে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ভাল সময় আসার অপেক্ষায় থাকা উচিত।

  চাণক্য নীতি  আরও বলেছেন, রাগ সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিশেষ করে খারাপ সময়ে রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। খারাপ সময়ে মানসিক চাপের কারণে ক্রোধ স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ যাতে না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। খারাপ সময়ে ক্রোধ আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে। এর ফলে নতুন সমস্যা তৈরি হয়। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।