চাণক্য নীতি অনুসারে জীবন মানসিক কষ্টে থাকেন এই ধরনের মানুষরা

চাণক্য নীতি অনুসারে জীবন মানসিক কষ্টে থাকেন এই ধরনের মানুষরা

 প্রাচীন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক চাণক্য পরবর্তীকালে মৌর্য্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের উত্থানে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন। চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য ও তার পুত্র বিন্দুসারের রাজ-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আচার্য চাণক্যকে ভারতীয় শাস্ত্রের সেরা পণ্ডিতদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে গন্য করা হয়। আচার্য চাণক্য মানব জীবনকে প্রভাবিত করার প্রতিটি বিষয় খুব গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন।

এই কারণেই চানক্যের নীতি আজও প্রাসঙ্গিক। শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতরা এ কথা বিশ্বাস করেন যে, যিনি আচার্য চাণক্যের নীতি নিয়মিত অধ্যয়ন করেন, তাঁর জীবন থেকে দুঃখ ও দুর্দশা সহজেই দূর হয়। শুধু তাই নয়, যে কোনও বিপর্যয়েও অবিচল থাকার শিক্ষা ও শক্তি মেলে এই দর্শন থেকে।  চাণক্য সুপণ্ডিত, প্রকৃত শিক্ষক ছিলেন। আচার্য চাণক্যের বলে যাওয়া কথা যে আজও কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক তা চাণক্য নীতির দিকে চোখ রাখলেই বোঝা যায়।সব সময় ভাল মানুষের সংস্পর্শে থাকা উচিত। তাঁরা সব সময় আপনাকে ঠিক পরামর্শ দেবেন।

যখন চারপাশে অসৎ লোক ভিড় করে, তখন মানুষ ঠিক ভুলের পার্থক্য করতে পারে না। একদিন তার পরিণাম ভুগতে হয়, যন্ত্রণায় ভরে যায় গোটা জীবন। বলছে চাণক্য নীতি। আচার্য চাণক্য বলেছেন, মানুষকে তার সঙ্গীর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সঙ্গ অসৎ হলে ব্যক্তির মধ্যে ভুল চরিত্রলক্ষণ ফুটে ওঠে। বুদ্ধি-বিবেক প্রয়োগ করা বন্ধ হয়ে যায়, ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, ফলে পস্তাতে হয়। সেই রাজাই সফল হন, যাঁর পরামর্শদাতারা সৎ। যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য সবাইকে ভুল বোঝায়, তাদের থেকে দূরে থাকা ভাল।  তাই দেখে নিন চাণক্যের পরামর্শ।

 আলোচনা থেকে কখনও পিছিয়ে আসবেন না

যে আলোচনায় ভয় পায়, সে কখনও সফল হতে পারে না। আলোচনাই মানুষের ভুল ধরিয়ে তাকে এগিয়ে নিয়ে চলে। তাই যে বন্ধু আপনার সমালোচনা করেন তিনিই প্রকৃত বন্ধু। আর যে আপনার ভুল কাজেরও প্রশংসা করে, তার থেকে সাবধান হন।

 নিজের কাজ নিজে করুন

প্রত্যেকের নিজের কাজ নিজে করা উচিত। যে ছোট ছোট কাজের জন্যও পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তার সমস্যা বাড়তে থাকে। যাদের দিয়ে সে কাজ করায়, তারাই একদিন সমস্যায় ফেলে তাকে।

 লোভ থেকে দূরে থাকুন

 লোভ বহু সঙ্কটের কারণ। লোভ মানুষকে অনেক সময় এমন সঙ্গে এনে ফেলে যার ফলে সে অন্যায় করতে বাধ্য হয়।  তাই কোনও কিছুর ওপর লোভ করবেন না।

 নিজের সুখসুবিধেয় বেশি গুরুত্ব দিলে দুর্বল হয়ে পড়বেন

যতটা প্রয়োজন তার থেকে বেশি কিছুর প্রতি আকর্ষণ সংবরণ করুন। এ কথা ভুলে গেলে সঙ্কট দেখা দেয়। তাই নিজের ক্ষমতা বুঝেই ব্যয় করুন। যে এ কথা ভুলে যায় তার ভবিষ্যতে সমস্যা বাড়ে।