বাংলার পাবজি গেমের সঙ্গীর জন্য দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিলেন কর্ণাটকের যুবতী

বাংলার  পাবজি গেমের সঙ্গীর জন্য দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিলেন কর্ণাটকের যুবতী

ধূপগুড়ি  মোবাইল ফোনে তো অনেকেই পাবজি খেলেন। এখন এই খেলার নাম আবার পাবজি: ব্যাটেলগ্রাউন্ডস। তবে পাবজির আগের নাম জানা আছে? প্লেয়ার্স আননোন ব্যাটেলগ্রাউন্ডস। অনলাইন এই খেলায় প্রতিযোগীরা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলেন। পরস্পরকে তেড়ে আক্রমণ করার পাশাপাশি অনেকে দিব্যি মন দেওয়া নেওয়াও করে বসেন। তা চূড়ান্ত পরিণতিও পায়।

পাবজিকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্বে এমন বহু ঘটনাই ঘটেছে। এ বারে উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়িতেও ঘটল। অনলাইন পাবজি বন্ধুর টানে ধূপগুড়িতে ছুটে এসে ঘর বাঁধলেন কন্নড় যুবতী। এই সুবাদে ধূপগুড়ির আজব ইতিহাসে আরও একটি অধ্যায় যুক্ত হল। ‘ধূপগুড়ির আজব ইতিহাস’ শুনে কি অবাক লাগছে? যাঁরা এই ইতিহাস জানেন তাঁরা কিন্তু বিলকুল অবাক হবেন না।

ধূপগুড়ির বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য বড়াগাড়ির আলসিয়ার মোড়ের বাসিন্দা সাইনুর আলম নিয়মিত পাবজি খেলেন। এই গেম খেলতে খেলতেই একদিন কর্ণাটকের ফ্রিজার সঙ্গে পরিচয়। ধুমধাড়াক্কা গেমে কখন যে প্রেমের ফুল ফুটল প্রথমে তা কেউই খেয়াল করেননি। যখন খেয়াল করলেন, গেমের মধ্যে মারামারিটা বিলুকল বন্ধ।

তারপর? লজ্জা লজ্জা করে ফোন নম্বর চালাচালি, হোয়াটসঅ্যাপ আর তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কানে ফোন নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকা। অনলাইনে দুজন দুজনকে দেখেছেন বটে। কিন্তু সামনাসামনি? সেই দেখা সারতেই ফ্রিজা শনিবার ধূপগুড়িতে উপস্থিত হন বেঙ্গালুরু থেকে উড়ানে চেপে বাগডোগরা হয়ে। ডোরবেলের আওয়াজ শুনে সাইনুর দরজা খোলেন।

আর ফ্রিজাকে সশরীরে দেখে রীতিমতো তখন বিষম খাওয়ার জোগাড়।  কিন্তু হল কী? বাড়ির লোকের প্রশ্নে সাইনুরের জবাব শুনে পরিবারের সদস্যদের তখন আক্কেল গুড়ুম! স্রেফ প্রেমের টানে ফ্রিজা যে ২৫৫৪ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এখানে আসতে পারেন তা প্রথমে তাঁদের বিশ্বাসই হয়নি। পরে দু'জনের নাছোড়বান্দা মনোভাবে সেই বিশ্বাস মজবুত করে।

পরিবারের কাছে দু'জনেই বিয়ের দাবি জানান। ফ্রিজার বাড়ির সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। রবিবার তাঁরা ধূপগুড়িতে উপস্থিত হন। দুই পরিবারের উপস্থিতিতে চার হাত এক হয়। কর্নাটকের বধূকে দেখতে এ দিন সকাল থেকেই গ্রামে ভিড়। খবরের কাগজে পাবজির এত দুর্নাম শুনেছেন।

সেই পাবজির কল্যাণেই গ্রামে নতুন বউ আসায় এলাকাবাসী মকবুল হোসেন, ফিরোজ হোসেন খুব খুশি। সাইনুর বাবার গালামালের দোকান সামলান। তিনি বলেন , 'পাবজি খেলতে গিয়ে চার বছরের সম্পর্ক এ দিন পূর্ণতা পেল।' আর ফ্রিজা? লজ্জারাঙা মুখে কোনও কথা বলার অবস্থাতেই ছিলেন না। তবে তাঁর খুশিতে ভরা দু'চোখই যেন সব বলে দিচ্ছিল।