বাংলায় প্রথম ভোটে হেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কটাক্ষ শুভেন্দুর

বাংলায় প্রথম ভোটে হেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কটাক্ষ শুভেন্দুর

একুশের ভোটে নজর ছিল নন্দীগ্রামের দিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর হাই ভোল্টেজ লড়াই। তাতে টানটান লড়াই শেষে শেষ হাসি হেসেছেন শুভেন্দুই। কিন্তু বুধবার যখন তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজভনে শপথ নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে ধর্নায় বসে তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ করলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মুরলীধর সেন লেনে বিজেপি রাজ্য দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছেন বিজেপি নেতারা।

সেখানেই শুভেন্দু বলেন, 'ভোটে হেরে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। এমনটা এর আগে বাংলায় কখনও হয়নি।' মমতাকে হারানো শুভেন্দু আরও বলেন, '২০১৩ জন বিধায়কের মধ্যে কাউকে পাওয়া গেল না মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য! এই জন্য তো বলেছিলাম, ওটা পার্টি নয়। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।' গণনার দিন মহানাটক হয়েছিল নন্দীগ্রামে। প্রথমে সংবাদসংস্থা এএনআই ঘোষণা করে দেয়, নন্দীগ্রামে মমতা জিতে গিয়েছেন। কিছুক্ষণ পরেই খেলা ঘুরে যায়।

দেখা যায়, পুণর্গণনায় ১৬০০-র বেশি ভোটে জিতেছেন শুভেন্দু। যদিও তা নিয়ে আদালতে যাওয়ার কথা বলেছেন তৃণমূলনেত্রী। এমনকি এও বলেছেন, নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসারকে জীবনহানির হুমকির মধ্যে কাজ করতে হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে গণনার পরের দিন বাড়ির সাংবাদিক সম্মেলনে একটি টেক্সট মেসেজও দেখান মমতা। তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মমতা নন্দীগ্রামে জিতলেন কি হারলে তা এখন অপ্রাসঙ্গিক। কারণ দিদি একথা বলেই ভোট প্রচার করেছেন, তিনিই ২৯৪টি কেন্দ্রে প্রার্থী।

তাই যে ২১৩টি কেন্দ্রে যে তৃণমূল জিতেছে সেটাও মমতারই জয়। এদিন ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে ধর্না করছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির আগেই ঘোষণা করেছিল বুধবার সারা দেশে এই কর্মসূচি হবে। দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীদের দাবি একটাই, হিংসা থামাতে প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, এবং এই তাণ্ডব, হত্যালীলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে।