অক্ষয় তৃতীয়াঃ জেনে নিন অক্ষয় তৃতীয়ার পুজোবিধি ও পুজোর দিনক্ষণ

অক্ষয় তৃতীয়াঃ জেনে নিন অক্ষয় তৃতীয়ার পুজোবিধি ও  পুজোর দিনক্ষণ

বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয় দিনে হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী উদযাপিত হয় অক্ষয় তৃতীয়া বা অক্ষ তিজ। হিন্দুদের জন্য এই দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতে অক্ষয় কথার অর্থ চিরস্থায়ী। তাই বৈদিক বিশ্বাস অনুযায়ী এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য করা গেলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। এই দিন কোনও নতুন ব্যবসা বা শুভকাজ শুরু করলে তা সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। এই দিন অনেকেই তাই পুজো করে কোনও শুভ কাজ শুরু করেন বা সোনা কিনে স্থায়ী বিনিয়োগ করেন। হিন্দুদের পাশাপাশি জৈনরাও অক্ষয় তৃতীয়া উদযাপন করেন। এই দিন আখের রস খেয়ে তাঁর এক বছরের উপোস ভেঙেছিলেন তীর্থঙ্কর ঋষভ।

 

ভালো কাজ করা হলে তার জন্যে আমাদের লাভ হয় অক্ষয় পূণ্য আর যদি খারাপ কাজ করে ফেলি আমরা তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের লাভ হয় অক্ষয় পাপ। তাই এদিন খুব সাবধানে ও সংযতভাবে প্রতিটি কাজ করা উচিত আমাদের। এদিন পুজো, জপ, ঈশ্বরের ধ্যান, দান এসবের কার্যের মাধ্যমেই অপরের মনে আনন্দ দেওয়ার মত কাজ করা উচিত। এই দিন অনেকেই ব্যবসায় লাভের আশায় লক্ষ্মী ও গণেশের পুজো করেন ও নতুন খাতা তৈরি হয় যাকে বলা হয় “হালখাতা”।

এই দিন বন্ধু সুদামা ও দ্রৌপদীকে অক্ষয়পত্র দিয়ে ধনসম্পদে ভরিয়ে দিয়েছিলেন কৃষ্ণ।

এই দিন মা অন্নপূর্ণার জন্ম। এই দিন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম।

এই দিনেই মহাভারত লিখতে শুরু করেছিলেন বেদব্যাস।

এই দিন সত্য যুগের সূচনা হয়েছিল। আর তাই অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির উত্থান হিসেবে দেখা হয় এই দিনকে।

এ বছর পুজোর সময়

 ২০২১- এ অক্ষয় তৃতীয়া পালিত হবে ১৪ ই মে, শুক্রবার। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ৩০ শে বৈশাখ ১৪২৮- এ পালিত হবে এই শুভ তিথি। অক্ষয় তৃতীয়া পালন করতে গেলে যা যা লাগবে তা হলো- সিদুঁর, চিনি, ঘি, পঞ্চগুঁড়ি, পঞ্চগর্ব্য, প্রদীপ, তিল, হরিতকী, দুর্ব্বা, তুলসি, বিল্বপত্র, ধূপ, ধূনা, মধুপর্ক বাটি ২, আসনাঙ্গুরীয় ২, দই, মধু, পুজোর জন্য কাপড় ১, শাটী ১, নৈবেদ্য ২,কুচো নৈবেদ্য ১, ফুল, সভোজ্য জলপূর্ণ ঘট ১, বস্ত্র ১, পাখা ১, দক্ষিণা। এবার জেনে নেওয়া যাক এই পুজোর তাৎপর্যগুলি কী?

১. এই শুভ দিন থেকেই পুরীধামে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণ করা শুরু হয়।

২. এদিনই নাকি গণপতি গনেশ বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে শুনে মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন।

৩. এদিনই মহাভারত অনুসারে দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং বোন “কৃষ্ণা” অর্থাৎ দ্রৌপদীর শ্রী রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ।

অক্ষয় তৃতীয়া পুজোর বিধি:

এই দিন পরিবারের সমৃদ্ধি বাড়াতে বিষ্ণু-লক্ষ্মী অথবা কুবেরের পুজো করতে পারেন। কাঠের আসনে হলুদ বা লাল রঙের কাপ়ড় পেতে নিন। এ বার আসনের উপর লক্ষ্মী-নারায়ণ বা লক্ষ্মী-কুবেরের মূর্তি স্থাপন করুন। নারায়ণের সঙ্গে থাকলে লক্ষ্মী যেন বাঁ পাশে থাকে, কুবেরের সঙ্গে থাকলে ডান পাশে থাকবে লক্ষ্মী। রুপো, ব্রাস বা মাটির প্রদীপ জ্বালান। কলা, নারকেল, পানসুপারি, মিষ্টি ও জল নিবেদন করুন। প্রার্থনা করুন যেন আপনার বাড়িতে এসে ওঁরা আপনার নিবেদন গ্রহণ করেন। কিছু ক্ষণ আসনে বসে ধ্যান করুন ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করুন। এ বার ঘণ্টা বাজিয়ে আরতির মাধ্যমে পুজো সমাপ্ত করুন।

সম্পদ বৃদ্ধির কিছু মন্ত্র:

ওঁ মহালক্ষ্মী চ বিধমে

বিষ্ণু পত্নী চ ধীময়ী

তনৌ লক্ষ্মী প্রচোদয়া

উপোসের নিয়ম: এ দিন উপোস করলে আখের রস পান করেই উপোস ভাঙার নিয়ম।

কী খাবেন: এই দিন সাধারণত চাল ও মুগডালের খিচুড়ি খাওয়ার রেওয়াজ।

কী দান করবেন: দান-ধ্যান ছাড়া কখনওই জীবনে সমৃদ্ধি আসে না। ভাত, ঘি, ফল, জামাকাপড়, তেঁতুল, সব্জি ও ফল দান করুন এই দিন।