করোনার কালে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য রইল সুস্ততার ৯টি টিপস

করোনার কালে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য রইল সুস্ততার ৯টি  টিপস

আজবাংলা    মায়ের কোল আলো করে সন্তান আসবে, এর থেকে বড় আনন্দ আর কি হতে পারে? বর্তমান করোনার পরিস্থিতি দিনদিন গুরুতর হচ্ছে। এখন বাকিদের তুলনায় সন্তান সম্ভবাদের করোনা সংক্রমণ হলেও তা একেবারেই বিশাল আকার ধারণ করছে না। এছাড়া দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণের হলেও তার প্রায় ৯৯ শতাংশ সন্তানসম্ভবা মহিলার অল্প মৃদু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সন্তানসম্ভবা হলে আপনি চেষ্টা করুন নিজেকে আইসোলেশনে রাখার। তবে, সন্তান সম্ভবনা মায়েদের একটু সতর্ক থাকলেই সংক্রমনের হাত থেকে রেহাই মিলবে। দেখে নেওয়া যাক, কি কি সাবধানতা পালন করতে হবে। যথা-

 ১}  প্রেগন্যান্ট মহিলার কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, বয়স ৩৫ বছরের বেশি, উচ্চরক্তচাপ, সিকল সেল ডিজিজ এবং এর পাশাপাশি স্থূলকায়া-এর মতো শারীরিক সমস্যা থাকলে একটু বেশি সতর্ক হতে হবে।

২} আপনি যদি অফিসে কর্মরত হয়ে থাকেন, তাহলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ শুরু করুন। চেষ্টা করুন বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার, আর মুখে মাস্ক পরে থাকতে। এছাড়া ডাক্তারের কথামত ফোলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট, ক্যালশিয়াম, আয়রন ট্যাবলেট খেতে থাকুন। তবে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একেবারেই ওষুধ খাবেন না।

৩} এইসময় অনেকেই ভয় পেয়ে সঠিক সময়ের আগে সন্তানের ডেলিভারি করাতে চাইছেন। মনে রাখবেন, প্রি-টার্ম ডেলিভারি মা এবং বাচ্চা, উভয়ের স্বাস্থ্যের পক্ষেই ক্ষতি।

৪} এইসময়ে সিজার বা নর্মাল, কোনও পদ্ধতির আলাদা সুফল নেই। তবে হ্যাঁ, বাচ্চা ও মায়ের শারীরিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সিজার কখনই ৩৬ সপ্তাহের আগে করানো উচিত নয়।

৫} সবার আগে চেষ্টা করুন সর্বদা মাথা ঠান্ডা রাখার। তেমন হলে নিউজ দেখবেন না। কোনও শারীরিক সমস্যা হলেই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার নেই। আগে ফোনে কথা বলে সাহায্য নিন। তেমন প্রয়োজন বুঝলে তিনিই চেম্বার বা হাসপাতালে যেতে বলবেন।

৬} ফার্স্ট, সেকেন্ড ও থার্ড ট্রাইমেস্টারে সন্তানসম্ভবা মায়ের কোনওরকম উপসর্গ দেখা না গেলে সাধারণত করোনা পরীক্ষা করাতে হয় না। তবে সিজার বা সাধারণ প্রসবের তিন থেকে পাঁচদিন আগে পরীক্ষা করানো হয়। করোনার রিপোর্ট পজিটিভ এলে ভয় না পেয়ে প্রথমেই ডাক্তারকে জানান। 

৭}শুকনো কাশি, সর্দি, বমি, ডায়ারিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হন। এই ধরনের উপসর্গের সঙ্গে নাকে গন্ধের বোধ উবে যাচ্ছে কি না খেয়াল রাখতে হবে। চিকিৎসা পরিভাষায় এই সমস্যার নাম অ্যানোসমিয়া। মনে রাখবেন করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণই হল গন্ধবোধ চলে যাওয়া।

৮} ফ্লুইড লিক, রক্তপাত, ব্যথার মতো আপদকালীন পরিস্থিতিতে সন্তানসম্ভবা মাকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে প্রসবের প্রয়োজন পড়ে। এই অবস্থায় আগেভাগে করোনা টেস্ট করা সম্ভব হয় না। তবে সন্তান প্রসবের পর যত দ্রুত সম্ভব, মায়ের কোডিভ টেস্ট করানো হয়। রিপোর্ট পজিটিভ এলে সন্তানেরও পরীক্ষা করাতে হবে। বাচ্চার ক্ষেত্রে আইজিজি ও আইজিএম রক্তপরীক্ষা করাতে হয়।

৯} গত কয়েক মাসের সমীক্ষায়, মাতৃদুদ্ধ থেকে করোনা সংক্রমণের নজির মেলেনি। মাকে মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক ও হাতে ভালোভাবে স্যানিটাইজার নিয়ে তারপরেই বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে হবে। কোনওভাবেই মাতৃদুগ্ধ থেকে সন্তানকে বঞ্চিত করবেন না। এই দুধই ওর শরীরের প্রথম রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

সবশেষে এখন করোনা কতদিন চলবে কেউ তা বলতে পারে না। পৃথিবীর বুকে এই সঙ্কটকালেও  কোটি কোটি শিশু জন্মাচ্ছে। নিয়মকানন মেনে, সতর্ক হয়ে তারা দিব্যি সুস্থ আছে। তাই, মনের আতঙ্ককে দূরে রাখুন।