অমরনাথ শক্তিপীঠ | একান্ন সতীপীঠের এক সতীপীঠ অমরনাথ শক্তিপীঠ

অমরনাথ শক্তিপীঠ |  একান্ন সতীপীঠের এক সতীপীঠ অমরনাথ  শক্তিপীঠ

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, সতী নিজের বাপের বাড়িতে তার বাবা দক্ষ রাজের কাছে স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে যজ্ঞকুন্ডেই দেহত্যাগ করেছিলেন। সতীর দেহত্যাগের খবর মহাদেবের কাছে পৌঁছতেই সেখানে উপস্থিত হন তিনি। সতীর মৃতদেহ দেখে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্য শুরু করেন মহাদেব।

মহাদেবের তান্ডব নৃত্যর কারনে পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কায় শ্রীবিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ একান্নটি খন্ডে খণ্ডিত করেন। সেই দেহ খন্ড গুলিই যে যে স্থানে পড়েছিল সেখানে একটি করে সতীপীঠ তৈরি হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, অমরনাথে সতীর কন্ঠ পড়েছিল। তাই, ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম সতীপীঠ হল অমরনাথ।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য অমরনাথ তীর্থযাত্রা। অমরনাথের গুহায় তাই শিবলিঙ্গ ছাড়াও রয়েছে সতীপীঠ। দেবী এখানে মহামায়া রূপে পূজিতা হন। শ্রীনগর থেকে প্রায় ১৪১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অমরনাথ। পহেলগাও শহরটিকে অতিক্রম করলেই পৌঁছানো যায় অমরনাথে। সমতল থেকে প্রায় ১২,৭২৯ ফুট উঁচুতে অবস্থিত অমরনাথ গুহা।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে জানা যায়, অমরত্ব ও সৃষ্টির রহস্য শোনানোর জন্য পার্বতীকে একটি নির্জন গুহায় নিয়ে যান মহাদেব। সেই গুহাটিই হলো অমরনাথ। এই গুহায় আসার আগে মহাদেব তাঁর সঙ্গী নন্দীকে রেখে এসেছিলেন পহেলগাওতে। তাঁর জটায় অবস্থিত চন্দ্রকে রেখে এসেছিলেন চন্দনওয়াড়িতে। তাঁর গলার সাপকে রেখে এসেছিলেন শেষনাগে এবং পার্বতীর প্রিয় পুত্র গনেশকে রেখে এসেছিলেন মহাগনেশ পর্বতে।

কথিত আছে, মহাদেব তাঁর সঙ্গী সাথী সবাইকে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে অমরনাথে বসে পার্বতীকে অমরত্বের জ্ঞান প্রদান করছিলেন। অমরনাথ গুহার প্রায় ১৩০ফুট ভিতরে গিয়ে তবেই শিব লিঙ্গের দর্শন পাওয়া যায়। গুহার ছাদ থেকে জল ছুঁইয়ে মেঝেতে পরে শিব লিঙ্গের আকার ধারণ করে । এই ভাবেই প্রতিবছর সৃষ্টি হয় অমরনাথ লিঙ্গের।

জানা যায়, লিঙ্গের উচ্চতা প্রতি বছর চন্দ্রকলার উপরেই নির্ভর করে। কখনও ৬ফুট, ৭ফুট তো আবার কখনও ৮ ফুটেরও শিব লিঙ্গের দর্শন পাওয়া যায়। প্রচলিত কাহিনী অনুসারে, এক মুসলমান মেষপালক অমরনাথ গুহাটি আবিষ্কার করেছিলেন। গুহায় তিনিই প্রথম অমরনাথ শিব লিঙ্গের দর্শন পেয়েছিলেন।

এই ভাবেই এই ধামের প্রচার হয়।আবার অনেকের মতে, একসময় গোটা কাশ্মীর জলে ভেসে গিয়েছিল। সেই জল কাশ্যপ মুনি নদীর দ্বারা বের করেছিলেন। আর এরপরই ভূগু মুনি অমরনাথ পাহাড়ে শিবের দেখা পেয়েছিলেন। সেই থেকেই চারিদিকে অমরনাথ এর প্রচার হয়। প্রতি বছর শ্রাবণ পূর্ণিমা পর্যন্ত চলে অমরনাথ যাত্রা। তারপর চাঁদ যত ছোট হতে থাকে, ততই ছোট হয় বরফের শিবলিঙ্গ।অমরনাথের গুহা শিবলিঙ্গ ছাড়াও মহামায়া সতীপীঠের জন্যও প্রসিদ্ধ।