আমেরিকা-রাশিয়া যাওয়ার দরকার নেই। বাংলাতেই কাজ পাবেন সকলে, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

আমেরিকা-রাশিয়া যাওয়ার দরকার নেই। বাংলাতেই কাজ পাবেন সকলে, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

কয়েকদিন আগেই দুই মেদিনীপুরের সমস্ত দলীয় বিধায়ক ও নেতাদের এই সভায় আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক ও কাঁধির বিধায়ক অধিকারী পরিবারের শুভেন্দু ও শিশির অধিকারী। শুভেন্দু যে সভায় থাকবেন না তা নিশ্চিত।

এদিকে পায়ের অস্ত্রোপচারের কারণে শিশিরবাবুও আজ তৃণমূল সুপ্রিমোর সভাতে থাকতে পারছেন না। তবে তিনি যে মমতার সঙ্গেই আছেন, তা আগেভাগেই জানিয়েছে। মেদিনীপুরের জনসভায় চেনা মেজাজে সরকারের কাজের খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দাপুটে গলায় জানিয়ে দিলেন, এমন কোনও কাজ বাকি নেই যা এ সরকার করেনি। অন্য কেউ এর এক শতাংশও করে আসতে পারলে তবে তিনি ভেবে দেখবেন। কাজ না করা কারও কাছে কোনও কথা শুনতে অভ্যস্ত নন তিনি। জেলার উন্নয়ন ও যুব সমাজকে বার্তা দিতে গিয়ে বলেছেন, তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর হবে।

তাতে ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। প্রচুর ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থান হবে। তা ছাড়া খড়্গপুরেও একটা অফিস হবে। তাতেও কাজ পাবেন অনেকে। তিনি এদিন বাংলার ছাত্রযুব সমাজকে আহ্বান করেন, বাংলায় থেকে বাংলায় কাজ করতে। এত প্রকল্প আসছে, যে কারও কাজের কোনও অভাব হবে না বলে ঘোষণা করেন তিনি।

 জানান, আমেরিকা-রাশিয়া যাওয়ার দরকার নেই। বাংলাতেই কাজ পাবেন সকলে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'আমরা গভীর সমুদ্র বন্দর করব বলে ৬ বছর ধরে লড়াই করেছি কেন্দ্রের সঙ্গে। করে তো দাওনি (কেন্দ্রের উদ্দেশে)! এবার আমরা নিজেরাই করছি। আমরা রেডি করে ফেলেছি। তাজপুরে ডিপ সি পোর্ট হবে। তার মেকানিজমের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে সরকার।

শুধু তাই নয়, ২৫ হাজার মানুষের কাজ হবে। আমি অমিত মিত্রকে বলেছি, খড়্গপুরেও ইউনিট তৈরি করতে হবে যাতে খড়্গপুর-মেদিনীপুরের ছেলেমেয়ারা সুযোগ পায় কাজের।' এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, 'মেদিনীপুরের উন্নয়নের জন্য বিপুল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই তাজপুর বন্দরই রাজ্যের প্রথম ডিপ সি পোর্ট হবে। এতে ব্যবসার বিপুল প্রসার ঘটবে। সারা ভারতে লোহার রফতানি আরও বাড়বে। খড়্গপুর এলাকা-সংলগ্ন লৌহশিল্প উন্নত হবে। পুরুলিয়া-বর্ধমান-বাঁকুড়াও সুবিধা পাবে ইস্পাত রফতানিতে। মেদিনীপুর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও জাপানে অনেক সি-ফুড রফতানি হয়। এই বন্দর হলে তা আরও বৃদ্ধি পাবে। মতস্যজীবীদের ভাল হবে। রাজ্যের উন্নয়নের ইতিহাসে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।'