উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিখোঁজ মালদার বাসিন্দা আনেশ শেখ

উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিখোঁজ মালদার বাসিন্দা আনেশ শেখ

 উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল এরাজ্যে। চামোলির বিপর্যয়ে নিখোঁজ মালদার ইংরেজবাজারের ভগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা আনেশ শেখ। চামোলির জলবিদ্যুত্‍ প্রকল্পে কাজ করতেন বছর ঊনচল্লিশের ওই শ্রমিক। পরিবার সূত্রে খবর, লকডাউনের সময় চামোলিতে থাকলেও, ৪ মাস আগে বাড়ি ফেরেন আনেশ শেখ।

একমাস থাকার পর, মাসতিনেক আগে ফের ফিরে যান। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সকালে শেষবার ফোনে কথা হয়। তারপর থেকেই আর যোগাযোগ করা যায়নি। গ্রামের বাড়িতে আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ওই শ্রমিকের পরিবার। তাঁর খোঁজ পেতে রাজ্য প্রশাসনের মাধ্যমে উত্তরাখণ্ড সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

তুষারধস, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে যুদ্ধকালীন তত্‍পরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। আড়াই কিলোমিটার লম্বা তপোবন সুড়ঙ্গে প্রায় ৩৫ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। সুড়ঙ্গের ভিতরে মাটি, পাথর, কাদা জমে থাকায় তা দুর্গম হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে খনন কাজ চালিয়ে রাস্তা তৈরি করে দেওয়াল হাতড়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন সেনা জওয়ানরা।

জোশীমঠের কাছে এই টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, ভারতীয় সেনা, আইটিবিপি, এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ-এর জওয়ানরা। নিকষ অন্ধকার সুড়ঙ্গে জওয়ানদের হেলমেটে লাগানো আলোটুকুই ভরসা। সুড়ঙ্গের বাইরে অপেক্ষা করছে মেডিক্যাল টিম। আটকে পড়া কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেই যাতে প্রাথমিক চিকিত্‍সার ব্যবস্থা করা যায়।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩২ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২০৬ জন। লোকসভায় উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে, দেবভূমিতে বিপর্যয়ের রেশ এখনও কাটেনি।

তারই মধ্যে ভূস্বর্গে ধসের আতঙ্ক। বুকে ভয় ধরিয়ে দেওয়া এই দৃশ্য জম্মু-কাশ্মীরের বানিহালের। মঙ্গলবার দুপুরে, জম্মু-শ্রীনগরের হাইওয়ে সংলগ্ন পাহাড় থেকে আচমকাই ধস নামে। আশেপাশে অনেকেই তখন উপস্থিত! দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যান তাঁরা। বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান।