ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব পদে ফের এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব পদে ফের এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত

বরিস জনসন এখন অতীত। ব্রিটেনের মসনদে এবার তৃতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস (British PM Liz Truss)। তবে তাঁর ক্যাবিনেটে থাকতে নারাজ প্রীতি প্যাটেল (Priti Patel)। সোমবারই ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। শোনা গিয়েছে, প্রীতির জায়গায় ওই পদে বসতে চলেছেন আরও এক ভারতীয় বংশোদ্ভূতই।

নাম সুয়েল্লা ব্রেভারম্যান (Suella Braverman)। বরাবরই বরিস জনসনের অনুগত হিসেবে পরিচিত প্রীতি প্যাটেল। আর তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিসের (Boris Johnson) মেয়াদ শেষ হতেই তিনি ক্যাবিনেট থেকে পাত্তারি গুটিয়ে নিলেন। সোমবার বরিসকে লেখা একটি চিঠিতে প্রীতি প্যাটেল জানিয়েছেন, ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে তিনি আর থাকতে চান না।

তবে লিজ ট্রাসের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে প্রীতির।  উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নিজের ক্যাবিনেটে প্রীতি প্যাটেলকে জায়গা দিয়েছিলেন বরিস জনসন। ৫০ বছরের এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত এসেক্স প্রদেশের উইথহামের সাংসদ ছিলেন। প্রীতি প্যাটেলই বরিস ক্যাবিনেটের এমন একজন সদস্য ছিলেন, যিনি ঋষি সুনক (Rishi Sunak) কিংবা লিজ ট্রাসের লড়াইয়ে কোনও পক্ষকেই সমর্থন করেননি।

নিজের ইস্তফাপত্রে তিনি লিখেছেন, "ক্যাবিনেট থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত একান্তই আমার। লিজ ট্রাস (Liz Truss) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া পর্যন্ত এবং নয়া স্বরাষ্ট্র সচিব নিযুক্ত হওয়া পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব পালন করব।" পুরনো বস বরিসের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। প্রীতি বলেন, "বরিস জনসনের প্রশাসনের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।"

 প্রীতি প্যাটেলের জায়গায় ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব হতে পারেন সুয়েল্লা ব্রেভারম্যান। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে লিজ ট্রাসের মন্ত্রিসভায় তিনিই একমাত্র ভারতীয় বংশোদ্ভূত হবেন। ৪২ বছরের এই কূনীতিবিদের জন্ম গোয়ায়। বর্তমানে তিনি ব্রিটেনের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে রয়েছেন। এখানেই শেষ নয়। সুয়েল্লাও এ বছর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে ছিলেন।

তবে অনেক আগেই লিজ ট্রাস বনাম ঋষি সুনকের লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে লিজ ট্রাসের কাছে পরাজিত হয়ে তিনি লড়াই থেকে বেরিয়ে যান। নয়া প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে সুয়েল্লা ব্রেভারম্যান বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার জন্য লিজ সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। এই কাজটা তাঁর আলাদা করে শেখার কোনও প্রয়োজন নেই। কাজটা কঠিন, শক্তহাতে দেশ চালাতে হবে। গত ছয় বছর ধরে এই দল টালামাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একটা স্থিতাবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।"