আপনার জন্ম কি কার্তিক মাসে? তা হলে আপনার চরিত্রের বিশেষ দিক হল

আপনার জন্ম কি কার্তিক মাসে? তা হলে আপনার চরিত্রের বিশেষ দিক হল

কার্তিক মাসে যাঁদের জন্ম এদের জীবন অতি কষ্টের মধ্যে দিয়ে কাটে। তবে এদের মানসিকতা উদার প্রকৃতির। এরা শিল্প রুচিসম্পন্ন, আলাপী, ভদ্র, বিনয়ী স্বভাবের হয়ে থাকে। এরা যে কোনও কাজ করার আগে প্রচুর চিন্তা-ভাবনা করে তারপরেই সিদ্ধান্ত নেন। এরা জনসাধারণের মধ্যে থেকে কাজ করা পছন্দ করে। আবার জনসাধারণ থেকে অপমানিতও হয়। এরা কোনও অবস্থাতেই অমর্যাদাপূর্ণ কাজ করে না। এদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কং বয়সে বিবাহের যোগ দেখা যায়।

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
কার্তিক মাসে Kartik Maas জন্ম গ্রহণ করলে জাতক খুব শান্তিপ্রিয় এবং বিচক্ষন বুদ্ধি সম্পন্ন হয়। সব জিনিস তন্ন তন্ন করে বিচার করে তবেই সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছয়। অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা একদম সহ্য করতে পারে না। এরা খুব ধার্মিক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এই জাতকরা আনন্দ প্রিয় হয়। কর্মক্ষেত্রে খুব নিষ্ঠাবান। স্পষ্ট বক্তা হয়। ব্যবহার মধুর হওয়ায় সকলে এদের সঙ্গ কামনা করে।

বন্ধুত্ব 
এদের জীবনে বন্ধুর স্থান খুব ভালই বলা চলে। এরা বন্ধুর দ্বারা খুব উপকার পেয়ে থাকে। বন্ধুর সৎ উপদেশে অনেক কাজে সফলতা পাবেন। প্রায় সব শ্রেণীর মানুষের সাথেই বন্ধুত্ব ভাল হবে। 


বিবাহ
এই জাতকদের সাধারণত অল্প বয়সে বিবাহ হয়। বিবাহিত জীবন শান্তি অশান্তি মিলিয়ে কাটবে। বিবাহিত জীবনে যেসব ঝামেলা আসবে তার বেশির ভাগটাই আপনার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করার জন্য হবে। যদি পুরুষ হন তাহলে বৈশাখ, আষাঢ় ও ফাল্গুনমাসে জন্ম এরকম কোনও মহিলাকে বিবাহ করা উচিত এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে বিবাহ করা উচিত যার জন্ম বৈশাখ, আষাঢ় অথবা ফাল্গুন।


পেশা               
এই জাতকরা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হয়। বিজ্ঞান বিষয়ে এবং নতুন কিছু আবিষ্কারে এদের অস্বাভাবিক ঝোঁক থাকে। তবে চাকরির থেকে ব্যবসায় অগ্রসর হতে পারবে বেশি। তাছাড়া সাহিত্যিক, সঙ্গীতশিল্পী, উকিল, অভিনেতা প্রভৃতি কাজে নিযুক্ত হতে পারেন। 


স্বাস্থ্য                  
এদের শরীর স্বাস্থ্য বেশ ভালই থাকবে। তবে মূত্রাশয় বা শুক্রজনিত রোগে ভোগান্তির আশঙ্কা থাকে। হাড়ের সমস্যা, চক্ষুরোগ, পিঠ ও কোমরের সমস্যা মাঝে মাঝে হতে পারে। 

আপনার জন্ম যদি কার্তিক মাসে হয়ে থাকে, তবে দেখুন তো আপনার প্রকৃতির এগুলো সঙ্গে মিলছে কিনা—

১। কার্তিক মাসের জাতক বা জাতিকারা যে কোনও কাজ করার আগে প্রচুর বিচার বিশ্লেষণ করে তারপরে এগোন।

২। এঁরা খুব আরামপ্রিয় ও শান্তিপ্রিয় প্রকৃতির হয়ে থাকে। অশান্তির ভয়ে এঁরা অন্যায়ের প্রতিবাদ পর্যন্ত করেন না।

৩। এঁদের মধ্যে ব্যালেন্সিং প্রকৃতি লক্ষ্য করা যায়। যে কোনও পরিস্থিতি পরিচালনা করার ক্ষমতা এঁদের থাকে।

৪। সহজেই লোকের সঙ্গে মিশে যেতে, বন্ধুত্ব করতে এঁরা খবু ভাল পারেন।

 ৫। পড়াশোনার প্রতি খুব আগ্রহ থাকে এঁদের। আইন, প্রশাসন, শিক্ষকতা, গবেষণা ইত্যাদিতে এঁরা সাফল্য পেয়ে থাকেন।

৬। এঁরা একটু খুঁতখুঁতে প্রকৃতির হন। অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণের ফলে ভাল সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।

৭। জন্মছকে যদি গ্রহণ দোষ, বিশ দোষ, চন্দ্রভঙ্গ কালসর্প দোষ থাকে, তা হলে যথাযথ প্রতিকার করতে হবে। না হলে বিলাসিতার জন্য প্রচুর অর্থ নষ্ট হবে এবং পরে অর্থ কষ্টে ভুগতে হবে।

৮। অর্থের প্রতি এঁদের মমতা কম, বিলাসিতার জন্য বিপুল অর্থ নষ্ট করে।

৯। ১৬, ২৪, ৩২, ৪০, ৪৮, ৫৬ এই বয়সগুলিতে শুভ পরিবর্তন দেখা দেবে।

১০। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই মাসের জাতক জাতিকার বিয়ে কম বয়সে হয়। কিন্তু বিবাহিত জীবনে বিভিন্ন মানসিক অশান্তি হয়। কারণ একটাই, সঙ্গীকে অতিরিক্ত জ্ঞান দেওয়া, সব ব্যাপারে বোঝানো, খুঁত ধরা ইত্যাদি।

১১। বৈশাখ, আষাঢ়, ফাল্গুন মাসের জাতক জাতিকার সঙ্গে বিবাহ শুভ। জ্যৈষ্ঠ, আশ্বিন, চৈত্র মাসের জাতকের সঙ্গে বিবাহ অশুভ।

১২। এঁদের শুভ রং সবুজ ও ফিকে নীল।