গোহত্যা বিরোধী আইন আনতে চান অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা

গোহত্যা বিরোধী আইন আনতে চান অসমের মুখ্যমন্ত্রী  হিমন্ত বিশ্বশর্মা

 অসমেও বন্ধ গোহত্যা। গোমাংস খাওয়া বন্ধের পক্ষেই সওয়াল করলেন উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর সাফ কথা, 'গরু আমাদের মা। তাই যে কোনও মূল্যে গরু পাচার বন্ধ করা হবে। অসমের বিজেপি সরকার গরুদের রক্ষা করবে।' মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের পর সোমবার ছিল হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রথম বিধানসভা অধিবেশনের শেষদিন।

সেই অধিবেশনেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'গোমাতা আমাদের কাছে পূজনীয়। তাই বাংলা থেকে অসমে গরু পাচার বরদাস্ত করব না।' একইসঙ্গে গোমাংস খাওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি। বিশ্বশর্মা জানান, 'যেখানে গরুকে পুজো করা হয় সেখানে গোমাংস না খাওয়াই ভাল। তবে একসঙ্গে্ সকলের একধাক্কায় অভ্যেস বদলে ফেলার দরকার নেই।' এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লখনউয়ের এক মুসলিম সংগঠনের বিবৃতিকে হাতিয়ার করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা লখনউয়ের এক মুসলিম সংগঠন দারুল উলমের বিবৃতি পড়ে শোনান। বিবৃতিতে ওই সংগঠন জানিয়েছিল, 'যে অঞ্চলে গোমাংস না খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি সেখানে তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংবেদনশীলতা দেখাতে হবে।' এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে অসমের কোন কোন এলাকায় গোমাংসের হোটেল থাকবে না, তাও কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিশ্বশর্মা। তাঁর কথায়. 'ফ্যান্সি বাজার, শান্তিপুর, গান্ধিবস্তির মতো এলাকায় গোমাংস পাওয়া যায় এমন হোটেল চালু করা ঠিক নয়। কারণ এতে অনেকেরই ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'সংবিধান মেনে রাজ্যে গরু পাচার এবং গোহত্যা বন্ধ হওয়া দরকার।'

উল্লেখ্য, একই সুরে অসমের রাজ্যপাল জগদীশ মুখি জানিয়েছেন, আগামী বিধানসভা অধিবেশনে অসমে গরু পাচার রুখতে বিল আনা হতে পারে। যার মূল উদ্দেশ্য গরুদের উপর হিংসাত্মক আচরণ বন্ধ করা। গরু পাচারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বছর কর্ণাটকেও গোহত্যা বিরোধী আইন পাশ হয়েছিল। এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে আরও এক বিজেপি-শাসিত রাজ্য অসম।