কলকাতায় লুটেরাদের খপ্পরে পরে সর্বস্ব হারাল জ্যোতিষী মহারাজ

কলকাতায়  লুটেরাদের খপ্পরে পরে সর্বস্ব হারাল জ্যোতিষী মহারাজ

কেপমারের খোঁজ করতে গিয়ে লুটেরাদের পাল্লায় জ্যোতিষী। উত্তর কলকাতার চিত্‍পুরে ঘটেছে এই ঘটনা। তদন্ত করে একদিনের মধ্যেই দুই দুষ্কৃতী সাহেব দাস ও কৃষ্ণ খাড়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে সাহেব দাস পুলিশের কাছে 'দাগী' বলেই পরিচিত। লুটপাটের অভিযোগে আগেও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় লুট হওয়া জিনিসপত্র।

শনিবার দু'জনকে শিয়ালদহ আদালতে তুললে তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার চিত্‍পুরে গঙ্গার ধারে বসেছিলেন জোড়াবাগান এলাকার গোপীকৃষ্ণ পাল লেনের বাসিন্দা ওই জ্যোতিষী। এক যুবক হাত দেখানোর ছুতোয় তাঁর সঙ্গে আলাপ করে। কথা বলার মধ্যেই সে পরিচিত একজনের সঙ্গে কথা বলার জন্য জ্যোতিষীর কাছ থেকে মোবাইল চায়।

তিনি বিশ্বাস করে মোবাইলটি দিলেই সে কেপমারি করে মোবাইলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি দৌড়ে যুবকের পিছু নিলেও তাকে ধরতে পারেননি। সেক্টর ফাইভে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, চলন্ত বাস থেকে নামার সময় অন্য বাসের ধাক্কায় মৃত যুবক ওই অবস্থায় তাঁকে দেখে 'বন্ধু' সেজে পাশে দাঁড়াতে চায় দুই দুষ্কৃতী সাহেব ও কৃষ্ণ। তারা তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নাম করে জোর করে কাশীপুর রোডের একটি পুরনো বাড়িতে নিয়ে যায়।

নির্জন বাড়ির ভিতর অস্ত্র দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে সোনার আংটি, গয়না ও অন্য একটি মোবাইল লুঠ করে তারা। চেঁচামেচি করলে তাঁকে খুনেরও হুমকি দেওয়া হয়। লুঠের পর পালিয়ে যায় তারা। জ্যোতিষী চিত্‍পুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ আধিকারিকরা ওই এলাকার পুরনো দুষ্কৃতীদের ছবি তাঁকে দেখান। ছবি দেখেই জ্যোতিষী সাহেবকে শনাক্ত করেন। সেই সূত্র ধরে কাশীপুর রোডে তল্লাশি চালিয়ে সাহেবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জেরা করে ধরা হয় কৃষ্ণকে। প্রথমে যে কেপমার মোবাইলটি নিয়ে উধাও হয়েছিল, তার সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।