পুজোয় ভ্রমণ পিপাসুদের গন্তব্য হতে পারে উত্তরাখণ্ডের আউলি

পুজোয় ভ্রমণ পিপাসুদের  গন্তব্য হতে পারে উত্তরাখণ্ডের আউলি

হরিদ্বার  থেকে গাড়িতে জোশীমঠ প্রায় ঘণ্টা পাঁচেকের পথ। দূরত্ব জাতীয় সড়ক-৫৮ ধরে প্রায় ২৭৬ কিমি। জোশীমঠ থেকে প্রায় মাইল দশেক দূরে আরও এক নির্ভেজাল প্রকৃতিপাঠ নিয়ে পড়ে আছে তপোবন নামক মনোরম অঞ্চলটি। প্রাকৃতিক একটি উষ্ণ প্রস্রবনও আছে এখানে। এশিয়ার মধ্যে উচ্চতম ও দীর্ঘতম বিখ্যাত কেবলকার যাত্রাপথ হল জোশীমঠ থেকে আউলি ৩০১০ মিটার উচ্চতা দিয়ে যাতায়াত। কাশ্মীরের গুলমার্গের পরই এর স্থান। শীতকালভর এই রোপওয়ে যাত্রা চালু থাকে।

জোশিমঠ থেকে আউলির যাওয়া-আসার কেবলকার ভাড়া ৪০০ টাকা। ৩. ৯৬ কিমি দূরত্বের ১১১০ মিটার লম্বা রোপওয়ে যাত্রা পেরোতে সময় লাগে মোটামুটি ১৫ থেকে ২০ মিনিট। সমস্ত যাত্রাপথে মোট ১০টা কেবল টাওয়ার আছে। দুই পাশে বরফ মোড়া পাহাড় আর নীচে খাদে ওক গাছের জঙ্গল। অদ্ভূত আকর্ষণীয় সে রোপওয়ে যাত্রাপথ। স্থানীয় গাড়োয়াল ভাষায় কেবল কার-কে বলা হয় ‘গাণ্ডোলা’। তুষাররঞ্জিত হিমালয়ের শোভা ও প্রাকৃতিক ব্যাঞ্জনার জন্য পর্যটকদের কাছে আউলির এই গাণ্ডোলা যাত্রার কদর খুব।

জোশিমঠ থেকে সড়ক পথে ১৬ কিমি দূরত্বে আউলির যাত্রাপথটিও কম আকর্ষণীয় নয়। জোশীমঠের মূল বাজার এলাকা পেরোতেই পাহাড়ি পথ চলে গেছে আরও উপরে আউলির দিকে। মসৃণ রাস্তা। সর্পিল বাঁক। প্রায় চারদশক আগে পর্যন্ত আউলির বুগিয়াল ছিল ঘাসে ঢাকা সবুজ প্রান্তর। এটি ছিল মূলত গবাদি পশুদের চারণভূমি। জুলাই থেকে অগস্ট পর্যন্ত সবুজ তৃণে ছাওয়া থাকতো আউলি। তারপরই আস্তে আস্তে শ্বেত শুভ্র তুষারে ঢেকে যাওয়া আউলির অপার প্রান্তর। প্রতি জন্মাষ্টমীতে স্থানীয় গাড়োয়ালি মানুষজন এবং গবাদি পশুপালকরা এখানে উৎসব পালন করেন। আউলি বুগিয়াল শব্দবন্ধটি গাড়োয়াল ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

এখানে ‘বুগিয়াল’ অর্থ হল ‘পশুচারণ ক্ষেত্র’। আউলির গন্ধমাদন রেঞ্জের সঞ্জবনী চূড়ায় হনুমানজির ভক্তরাও উৎসবের আমেজে আসেন। এই হনুমান মন্দিরটির আবিষ্কর্তা হলেন সন্ত ফতোরামজি। প্রতি বছর শুক্লা চৈত্র পূর্ণিমায় হনুমানজি মন্দিরের দ্বার উদঘাটন হয়। এবং মার্গ শিষ্য পূর্ণিমায় মন্দির দ্বার বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় সাধু-সন্ত-ভক্তদের সমাগম হয় এই মন্দিরে।

সাগরতল থেকে আউলির উচ্চতা ২৫০০-৩০৫০ মিটার। আউলির হিলটপ-এ পৌঁছে সৌন্দর্যে দিশেহারা হয়ে যাই। বরফের ছ’টায় চমকদমকে ভরে আছে আউলির সমস্ত চরাচর। রোদের বিচ্ছুরণে বরফ পাহাড়ে ক্রমশ চোখ ঝলসে য়ায়। ক্যামেরা সচল রেখেছি হিমালয়কে লেন্সে ধরে রাখতে। এখন বরফ নেই। মিলিটারি সেনারা ঘোড়া নিয়ে চলেছেন। ক্যামেরায় বন্দি করে রাখি তাও। কোথাও কোথাও সাদা ছাউনি খাটিয়ে সেখানে সেনাবাহিনীর জটলা। কোথাও আবার খোলা ময়দানে ফৌজিদের প্যারেড।

ভারতীয় সেনা ১৯৬২ সালের ইন্দো-চায়না যুদ্ধের সময় থেকেই বদরিকাশ্রম তথা এই পুরো গন্ধমাদন রেঞ্জের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। জোশিমঠে এটির সদর দফতর। সেনাবাহিনীর প্রধানেরা আউলির মনলোভা সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ব্যবস্থাপনায় এবং ইন্দো-টিবেটিয়ান বর্ডার ফোর্স-এর সহায়তায় আউলিতে উপযুক্ত নানান ক্রীড়া বিভাগ চালু করেন।

এই ক্রীড়া বিভাগে পর্বতারোহণ-এর যাবতীয় খুঁটিনাটি, মিলিটারি স্পোর্টস এবং রকমারি স্নো গেমস অনুষ্ঠিত হয়। গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগম-এর তত্ত্বাবধানে ইদানীং পর্যটকদের দৃষ্টি আউলির দিকে ঘোরাতে বিভিন্ন স্নো গেমস ট্রেনিং, স্কি-র মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস আউলির বরফে স্কি উৎসব পালিত হয়। এ ছাড়া ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ লেভেলও অনুষ্ঠিত হয়।