দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য সায়ন্তন বসু ও গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাকে শো-কজ করল বিজেপি

দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য সায়ন্তন বসু ও গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাকে  শো-কজ করল বিজেপি

প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য শো-কজ করা হল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুকে। সায়ন্তন ছাড়াও শো-কজ করা হয়েছে নাগরাকাটার মণ্ডল সভাপতি সন্তোষ হাতি এবং আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাকেও।

ঠিক কোন অভিযোগে তাঁদের শোকজ, তা স্পষ্ট করে বলা নেই এই চিঠিতে। তবে মনে করা হচ্ছে, জিতেন তিওয়ারি বা দশথরথ তিরকেদের নিয়ে লাগামছাড়া মন্তব্যের কারণেই এই কোপ। দলের তরফে ওই চিঠিতে সায়ন্তন বসুকে বলা হয়েছে ১৮ ডিসেম্বর তিনি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় দলবিরোধী মন্তব্য করেছিলেন।

এই মন্তব্য দলের ২৫০ নং ধারা অনুযায়ী দলীয় স্বার্থের পরিপন্থী। এই অবস্থায় সায়ন্তনকে সাতদিনের মধ্যে জানাতেও বলা হয়েছে যে কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। প্রসঙ্গত জিতেন তিওয়ারি যখন বিজেপিতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন, বিজেপির অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।

কোন মন্তব্যের জন্য ওই শাস্তি, তা চিঠিতে লেখা নেই। তবে বিজেপি-র অন্দরের খবর, জিতেন্দ্র তিওয়ারির দলে যোগদান নিয়ে মন্তব্যের জেরেই ওই শাস্তি। তবে জিতেন্দ্রের দলে যোগদানের বিরোধিতা করেছিলেন বাবুল সুপ্রিয় এবং দিলীপ ঘোষও। আপাতদৃষ্টিতে তাঁদের কোনও শাস্তি দেওয়া হয়নি।

 সন্তোষের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, ১৯ ডিসেম্বর তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় যে সভা হয়েছে, সেখানে দলবিরোধী স্লোগান তোলা হয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে মণ্ডল সভাপতির সরাসরি হাত ছিল। সে কথাও চিঠিতে লেখা হয়েছে।

নাগরাকাটার বিধায়ক শুক্রা মুণ্ডা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর, সেখানেও দলবদল নিয়ে বিজেপি-র পুরনো নেতা-কর্মীরা উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। সেই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন সন্তোষ। গঙ্গাপ্রসাদও উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। দলের অন্দরের খবর, সে কারণেই শো-কজ করা হয়েছে তাঁদের।

কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ‘দিলীপের নির্দেশে’ই ওই শাস্তি বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। যা থেকে বিজেপি-র অন্দরের জল্পনা— সায়ন্তনকে শাস্তি দিয়ে আসলে বাবুল এবং দিলীপকেও বার্তা দিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব। যাকে বলে, ঝি-কে মেরে বউকে শেখানো। দিলীপকে দিয়ে ওই নির্দেশ দেওয়ানো এবং সে কথা শো কজের চিঠিতেও উল্লেখ করার মধ্যে একই উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দলের নেতাদের একাংশের ব্যাখ্যা।