বাংলাদেশে বারছে হিন্দু নির্যাতন , ভাঙচুর একাধিক হিন্দুর বাড়ি, কেন্দ্রকে সতর্ক করলো অধীর চৌধুরীর

বাংলাদেশে বারছে হিন্দু নির্যাতন , ভাঙচুর একাধিক হিন্দুর বাড়ি, কেন্দ্রকে সতর্ক করলো অধীর চৌধুরীর

আজবাংলা     বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে কেন্দ্রকে সতর্ক হওয়ার আর্জি জানালেন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।সোমবার তিনি টুইটে লেখেন, বাংলাদেশে কিছু হিন্দু পরিবার আক্রান্ত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে মৌলবাদীরা ভারত সরকারের কাজের প্রতিবাদে অগ্নিসংযোগ ও হিংসাত্মক কাজ করছে।

পরিস্থিতির অবনতি রুখতে ভারত সরকারের উচিত দ্রুত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠকে বসা।  প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত মন্তব্যের পরেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বারছে হিন্দু নির্যাতন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বেশ কয়েকটি বাড়ি  অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট ও নারীদের শীলতাহানী করে একদল ইসলামিক মৌলবাদ ও জঙ্গি তৌহিদী জনতা। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা জেলার পূর্ব ধউর এলাকার মুরাদ নগরের কুরবানপুর ও আন্দিকূট গ্রামে।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইসলাম  ধর্মকে অবমাননা করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে রবিবার শংকর ও অনীকের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের আরও অনেক মানুষের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার-সহ উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কোরবানপুর ও আন্দিকূট গ্রামে প্রচুর পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’দিন কুরবানপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় একটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক শংকর দেবনাথ ও আন্দিকূট গ্রামের বাসিন্দা অনীক ভৌমিক।

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের  ঘটনা সব সময়ই ঘটেছে এবং তারা প্রতিকার পাচ্ছেন না৷ মানবাধিকার কর্মী বলেন বাংলাদেশে বরাবরই সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে৷ আর এখন মূলত রাজনৈতিক অস্থির অবস্থা এবং নীতিহীন রাজনীতি এর জন্য দায়ী৷ বাংলাদেশ যতই তার অসাম্প্রদায়িক চরিত্র থেকে সরে যাচ্ছে, ততই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-নির্যাতন বাড়ছে৷

 তাঁর মতে, ‘‘শাসক দলের পরিচিতি বা সমর্থন ছাড়া সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ খুবই কম৷ নেই বললেই চলে৷ তাই এই ধরনের অপরাধ যারা করে, তারা সব সময়ই রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকতে চায়৷ যেহেতু এই মূহূর্তে বাংলাদেশে শাসক দলের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির তেমন কোনো অবস্থান নেই বললেই চলে, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সরকারি দল বা সরকারি দলের মধ্যে ঢুকে দুষ্কৃতকারীরা বা ওই দলের নেতা-কর্মীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে৷

এটা নীতিহীন রাজনীতির ফল৷''তিনি বলেন, ‘‘আমরা এ পর্যন্ত যেসব সংখ্যালঘু নির্যাতেনের ঘটনা দেখেছি, তার টার্গেট হলো তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দখল ও নারী৷ আর আমাদের দেশের যে-কোনো সরকারেরই প্রশাসনিক লোকজন এই সব নির্যাতন-নীপিড়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সব সময়ই উদাসীন৷ এর একটা কারণ হয়তো ঘটনাগুলাতে অনেক সময়ই শাসক দলের সঙ্গে যুক্ত বা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা লোকজনই এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে৷।