তেজপাতার গুণাগুণ সমন্ধে জানলে হবেন অবাক

তেজপাতার গুণাগুণ সমন্ধে জানলে হবেন অবাক

আজ বাংলা: তেজপাতা  Cinnamomum tamala দেখেনি, এমন মানুষ বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না আমাদের দেশে। মসলা হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। এর ভেষজ গুণ শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও এর জুড়ি মেলা ভার। এত গুণের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তেজপাতার কদর রয়েছে।  রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর জন্য এই তেজপাতার জুড়ি মেলা ভার।

তবে তেজপাতা শুধু রান্নায় নয়... তেজপাতায় রয়েছে স্বাস্থ্যজনিত বেশ কয়েকটি গুণ। যা আপনি জানলে হয়তো অবাকই হবেন।তেজপাতা আমাদের দেশের মানুষের কাছে খুবই পরিচিত একটি গাছ। এর পাতা ব্যবহার করা হয় মূলত মসলা হিসেবে। খাবারে এটি ব্যবহার করা হয় এর ভেষজ গুণাগুণের কারণে। ভেষজ গুণের কারণেই তেজপাতা ঘরোয়া চিকিৎসায় বহুলভাবে ব্যবহৃত হয় আমাদের দেশের আনাচকানাচে। 

তেজপাতা অরুচি দূর করে। এ জন্য তেজপাতা সেদ্ধ করে তার জল খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। মাথার হালকা ব্যথা বা মাথাধরা দূর করার জন্য লবঙ্গ ও তেজপাতা দিয়ে চা বানিয়ে খাওয়ারও প্রচলন আছে কোথাও কোথাও। মাড়িতে ব্যথা কিংবা ক্ষত হলে তেজপাতা–সেদ্ধ জলেতে অল্প পরিমাণ লবণ মিশিয়ে গার্গল করার প্রচলন রয়েছে।

তেজপাতায় জৈব যৌগের মধ্যে রয়েছে ক্যাফেক অ্যাসিড। এ উপাদানগুলো হার্টের দেয়ালকে মজবুত করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজমশক্তি বাড়াতে তেজপাতার জুড়ি মেলা ভার। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করে দেয় এবং শরীরকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

তেজপাতায় রয়েছে এমন জৈব যৌগ, যা পেটের অসুখ সারাতে সাহায্য করে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতার ত্রুটিজনিত সমস্যায় তেজপাতা খুব কার্যকর। অনেক সময় শরীর জটিল প্রোটিন সহজে হজম করতে পারে না, তেজপাতা তা হজমে সাহায্য করে। এছাড়া রূপচর্চার ক্ষেত্রেও তেজপাতাকে এড়ানো যায় না। তাহলে আসুন জেনে নিন রূপচর্চার ক্ষেত্রে কী কী কাজে আসতে পারে তেজপাতা।

১) শুকনো তেজপাতার গুড়োর সঙ্গে টক দই মেশান। মাথায় খুশকি থাকলে এই প্যাক নিয়মিত লাগান। তার পরে শ্যাম্পু করে নিন। মাথায় খুশকি কমে এতে। 

২) এক বাটি জল নিয়ে তার মধ্যে কয়েকটি তেজপাতা ফোটান। ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে জল ছেঁকে নিন। সেই জল দিয়ে নিয়মিত মুখ ধুয়ে নিন। এতে মুখের ব্রণ দূর হয়। 

৩) দাঁতে হলুদ ছোপ থাকলেও তেজপাতার জুড়ি মেলা ভার। পেস্টের সঙ্গে তেজপাতা বাটা  মিশিয়ে তা দিয়ে দাঁত মাজুন। 

৪) তেজপাতা জলে সিদ্ধ করুন। শ্যাম্পু করার পরে সেই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এই জল কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। 

৫) তেজপাতা বাটার সঙ্গে টক দইয়ের সঙ্গে পেস্ট দিয়ে হাতে বা ত্বকের রোদে ট্যান পড়া জায়গায় লাগিয়ে নিন। এতে কালো ছোপ দূর হবে সহজেই।