ভারতের স্বাভিমানকে উস্কে দিয়েছেন যিনি, তাঁর নাম বঙ্কিমচন্দ্র : জেপি নাড্ডা

ভারতের স্বাভিমানকে উস্কে দিয়েছেন যিনি, তাঁর নাম বঙ্কিমচন্দ্র : জেপি নাড্ডা

ফের রাজ্য সফরে এসেছেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। বৃহস্পতিবার কলকাতার হেস্টিংসে ট্যাবলোর উদ্বোধনের পর তিনি সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভিটায় যান। দুপুর দেড়টার কিছু আগে নৈহাটিতে সাহিত্য সম্রাটের বাড়িতে পৌঁছন তিনি। পুষ্পবৃষ্টি করে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং।

এদিন সাহিত্য সম্রাটের জন্মভিটার পাশাপাশি বঙ্কিম সংগ্রহশালাও ঘুরে দেখেন নাড্ডাবাবু। শ্রদ্ধা জানান ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের মূর্তিতেও। কথা বলেন অছি পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে। নৈহাটির বঙ্কিম-জন্মভিটায় দাঁড়িয়ে জেপি নাড্ডা বলেন, "এমন পবিত্রভূমিতে আসতে পেরে আমি ধন্য। বাংলার গর্ব, স্বাভিমানের সঙ্গে ভারতের স্বাভিমানকে উস্কে দিয়েছেন যিনি, তাঁর নাম বঙ্কিমচন্দ্র। আনন্দমঠ তার উদাহরণ।

উনি যেখানে বসে জাতীয়তাবাদের মন্ত্র লিখেছিলেন সেই চেয়ার, ঘর দেখার সুযোগ পেলাম আমি। এমন পবিত্র স্থানে এসে আমি ধন্য।" নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় সাহিত্যসম্রাটের স্মৃতি বিজড়িত বঙ্কিম ভবন কিংবা মিউজিয়ামের কোনও অংশে মলিনতার ছাপ পর্যন্ত নেই। সযত্নে সুরক্ষিত বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষের বসত ভিটে।

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বসত ভিটে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর প্রশ্ন ওঠে বিরোধী মহলে। বৃহস্পতিবার এই বঙ্কিম ভবন দেখেন জেপি নাড্ডা। বিজেপির গেরুয়া শিবিরের সর্বভারতীয় সভাপতির নৈহাটিতে পা রাখাকে কেন্দ্র করে উত্‍সাহের শেষ ছিল না স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

জেপি নাড্ডাকে স্বাগত জানাতে সেজে ওঠে সাহিত্য সম্রাটের স্মৃতি বিজড়িত বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্র। যার পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে সাহিত্য সম্রাটের স্মৃতি মেদুরতা। ১৮৩৮ থেকে ১৮৭৯। জীবনের একটা লম্বা সময় এখানে কাটিয়েছেন কপালকুণ্ডলা, দেবী চৌধুরানী, আনন্দমঠ, দুর্গেশ নন্দিনীর মতো কালজয়ী লেখার প্রবক্তা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ না করলেও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির অভ্যর্থনায় প্রস্তুত হয় রাজ্য সরকারের উচ্চ শিক্ষা দফতরের পরিপোষিত বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্র। সাহিত্যসম্রাটের নিজের তৈরি বঙ্কিমচন্দ্রের বৈঠকখানাও দেখেন জেপি নাড্ডা। এই বৈঠকখানায় বসেই 'বন্দেমাতরম' রচনা করেছিলেন সাহিত‍্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির হাতে স্মারক হিসেবে তুলে দেওয়া হয় বন্দেমাতরম গানের দুর্লভ সিডি। যেখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া সুরে গীত হয়েছে বন্দেমাতরম। এছাড়াও তুলে দেওয়া হয় 'বন্দেমাতরম নিয়ে একটি অমূল্য স্মারক পুস্তক।

যেখানে বন্দেমাতরম-এর বিভিন্ন সুরের ইতিহাস লিপিবদ্ধ রয়েছে। বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কিউরেটর গৌতম সরকার জানান, "রাজ্য সরকারের উচ্চ শিক্ষা দফতরের পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্কিম ভবন সুরক্ষিত ছিল। নাড্ডাজি নিজের চোখে সেটা দেখে যাওয়ায় হয়তো বা সাহিত্যসম্রাটের জন্ম ভিটে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।