বাঁকুড়া | বাংলার মল্ল রাজত্বের কেন্দ্রভূমি , মারাঠা বর্গিরাও আক্রমণ চালায় এই জেলায়  

বাঁকুড়া | বাংলার মল্ল রাজত্বের কেন্দ্রভূমি ,  মারাঠা বর্গিরাও আক্রমণ চালায় এই জেলায়   

পশ্চিমবঙ্গ  রাজ্যের অন্যতম একটি জেলা হল বাঁকুড়া । এই জেলার উত্তরে ও পূর্বে পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান, দক্ষিণে পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ-পূর্ব হুগলি এবং পশ্চিমে পুরুলিয়া জেলা। এই জেলাকে "পূর্বের বঙ্গীয় সমভূমি ও পশ্চিমের ছোটোনাগপুর মালভূমির মধ্যকার সংযোগসূত্র" বলে বর্ণনা করা হয়। বাঁকুড়া শব্দটির ব্যুৎপত্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। কোল-মুণ্ডাদের ভাষায় ওড়া বা ড়া শব্দের অর্থ বসতি। বাঁকু শব্দের অর্থ এবড়ো খেবড়ো।বাঁকুড়া নামটি বাঁকা শব্দ থেকেও উৎপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। জেলার সবচেয়ে প্রভাবশালী লৌকিক দেবতাদের একজন হলেন ধর্মঠাকুর। তাকে স্থানীয়রা 'বাঁকুড়া রায়' নামে ডাকেন। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে, জেলা সদর বাঁকুড়া শহরের নামকরণ হয়েছে এই শহরের প্রতিষ্ঠাতা তথা স্থানীয় গোষ্ঠীপতি নেতা বাঁকু রায়ের নামানুসারে। অন্য একটি কিংবদন্তি অনুসারে, বিষ্ণুপুরের রাজা বীর হাম্বিরের ২২ পুত্রের অন্যতম বীর বাঁকুড়ার নামে এই শহরের নামকরণ করা হয়েছে।অন্য একটি মতে, বাঁকুড়া নামটি বানকুন্ডা নামের অপভ্রংশ।

পুরনো সরকারি নথিপত্রে ইংরেজি বানকুন্ডা নামটি পাওয়া যায়। বাঁকুড়া জেলা ও এর আশেপাশের অঞ্চলগুলি ছিল মধ্যযুগীয় পশ্চিমবঙ্গের মল্ল রাজত্বের কেন্দ্রভূমি। মধ্যযুগের শেষভাগে এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে বৈষ্ণবধর্ম মল্লভূমের রাজধর্মের মর্যাদা অর্জন করে। এরপর এই ধর্মই এই অঞ্চলের সংস্কৃতির দিক-নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। ১৭৬৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মল্লভূম রাজ্য অধিকার করে নেয় এবং ১৮৮১ সালে আধুনিক বাঁকুড়া জেলাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলার নামকরণ করা হয় এর সদর শহরের নামানুসারে।  খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে দ্বারকেশ্বর নদের অংশে উত্তর তীরে তাম্র-প্রস্তর যুগীয় জনবসতি গড়ে উঠেছিল।বাঁকুড়া জেলার আদি বাসিন্দা ছিল একাধিক প্রোটো-অস্ট্রালয়েড ও প্রোটো-দ্রাবিড়ীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ। পরবর্তী প্রাগৈতিহাসিক যুগে আর্য জাতি এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যায়। এই সময় উত্তর ভারতের প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় সংস্কৃতি এই অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে। প্রাচীন যুগে বাঁকুড়া জেলা ছিল রাঢ় অঞ্চলের অধীনস্থ। প্রাচীন জৈন ধর্মগ্রন্থ আচারাঙ্গ সূত্র-এ   বলা হয়েছে, সূহ্ম ও লাড়া (রাঢ়) রাজ্যে সুসভ্য ও অসভ্য দুই প্রকার মানুষই বাস করে। সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষায় লেখা শুশুনিয়া শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে পুষ্করণার রাজা ছিলেন সিংহবর্মণের পুত্র চন্দ্রবর্মণ।  

বহু বছর বাঁকুড়া জেলা ভূখণ্ডটি দণ্ডভুক্তি ও বর্ধমানভুক্তি রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন, প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয়রা প্রথমে উত্তর ও পূর্ববঙ্গে বসতি স্থাপন করেন। বঙ্গে বৌদ্ধ ও জৈনধর্ম বিস্তারের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তবে খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যেই যে আর্যদের ধর্ম ও সংস্কৃতি পশ্চিমবঙ্গে প্রাধান্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল, তার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।বিষ্ণুপুর ও তৎসংলগ্ন এলাকা সেই সময় মল্লভূম নামে পরিচিত ছিল।  আদিবাসী রাজ্য সামন্তভূম, ধলভূম, টুংভূম,  বরাহভূম বা বরাভূম ধীরে ধীরে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশের অধীনস্থ হয়ে পড়ে। মল্ল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আদি মল্ল, তিনি কোতুলপুর থেকে ৮.৪ কিলোমিটার  দূরে লাউগ্রাম থেকে ৩৩ বছর শাসনকাজ চালিয়েছিলেন। ১৫ বছর বয়সেই তিনি একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী মল্লযোদ্ধা হয়ে ওঠেন। এই কারণেই তিনি আদি মল্ল নামে পরিচিত হন।

তার মৃত্যুর পর তার পুত্র জয় মল্ল সিংহাসনে বসেন। এবং বিষ্ণুপুরের রাজ্যের রাজধানী স্থাপন করেন। মল্ল রাজবংশের ৪৯তম শাসক বীর হাম্বির ১৫৮৬ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে বসেন। তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সমসাময়িক ছিলেন। তিনি পাঠানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুঘলদের সাহায্য করেছিলেন। মুসলমান ঐতিহাসিকদের রচনায় তার উল্লেখ পাওয়া যায়। শ্রীনিবাস আচার্য তাকে বৈষ্ণবধর্মে দীক্ষিত করে বিষ্ণুপুরে মদনমোহনের পূজা প্রচলন করেন। বীর হাম্বিরের পুত্র রঘুনাথ সিংহ প্রথম ক্ষত্রিয় উপাধি ব্যবহারকারী মল্ল রাজা। তার সময় থেকে বিষ্ণুপুরে স্থাপত্যশিল্পের বিকাশ ঘটে। মল্ল রাজারা হিন্দু শিল্পকলা ও ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তবে এই সময় বিষ্ণুপুরের আর্থিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। বীর সিংহ তার আঠারোর পুত্রকে জীবন্ত হত্যা করেছিলেন। কনিষ্ঠ পুত্র দুর্জনের প্রাণ রক্ষিত হয় পরিচারকদের তৎপরতায়। পরবর্তীকালে মল্ল রাজারা সামন্ত রাজায় পরিণত হয়েছিলেন।  সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে বিষ্ণুপুর রাজ্য একটি সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে বিষ্ণুপুর রাজ্য একটি সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। এরপর প্রথমে বর্ধমানের জমিদারেরা ফতেপুর মহলটি দখল করে। তারপর মারাঠা বর্গিরা বিষ্ণুপুর আক্রমণ করে।ভাস্কর রাওয়ের নেতৃত্বে বর্গিরা বিষ্ণুপুর আক্রমণ করলে রাজা গোপাল সিংহের নেতৃত্বে বিষ্ণুপুরের সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই যুদ্ধ সম্পর্কে বিষ্ণুপুরের একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি হল, রাজ্যবাসীর প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে রাজবাড়ির কুলদেবতা মদনমোহন নিজে দলমাদল কামান দেগে মারাঠাদের বিতাড়িত করেছিলেন। সম্ভবত, মারাঠারা বিষ্ণুপুরের মূল দুর্গে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন এবং সেই জন্যই ফিরে যান।

২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে বাঁকুড়া জেলার মোট জনসংখ্যা ৩৫,৯৬,৬৭৪। তার মধ্যে পুরুষ ১৮,৩৮,০৯৫ ও মহিলা ১৭,৫৮,৫৭৯।  জেলার গ্রামীণ জনসংখ্যা ৩২,৯৬,৬০১ (মোট জনসংখ্যার ৯১.৭০%) ও পৌর জনসংখ্যা ২,৯৯,৭৭৩ (মোট জনসংখ্যার ৮.৩০%) । গ্রামীণ জনসংখ্যার ১৫,১৫,৪৫০ জন পুরুষ ও ১৪,৪১,৯৯৭ জন মহিলা। আবার পৌর জনসংখ্যার ১,২০,৫৫২ জন পুরুষ ও ১,১৪,৬৯৬ জন মহিলা। বাঁকুড়া জেলায় তপশিলি জাতির মোট ১১,৭৪,৪৪৭ জন ও তপশিলি উপজাতির ৩,৬৮,৬৯০ জন বাস করেন।

 বাঁকুড়া জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। আবার জেলার মোট শ্রমশক্তির ৩১% কৃষক ও ৩৫% কৃষিমজুর। এই জেলার প্রধান উৎপন্ন ফসলগুলি হল ডাল, তৈলবীজ,ধান, গম, মেস্তা,  পাট,  আলু, শুকনো লঙ্কা ও আদা। এছাড়া রেশমকীটের খাদ্য তুঁতগাছের চাষও হয়। তবে প্রতিকূল জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতি এবং জলের অপর্যাপ্ত সরবরাহের জন্য চাষাবাদ অনেক ক্ষেত্রেই বিঘ্নিত হয়। বাঁকুড়ায় বৃহদায়তন শিল্প গড়ে না উঠলেও ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে এই অঞ্চল ঐতিহ্যবাহী। এই শিল্পগুলির মধ্যে রেশম, সুতি ও তসরের বয়ন প্রধান। লাল ‘ধূপছায়া শাড়ি, রেশম ও সুতি মিশ্রিত ‘খুটনি’ কাপড়, ‘ফুলম’ শাড়ি ও বিশেষত বিষ্ণুপুরের ‘বালুচরি শাড়ি জগদ্বিখ্যাত। বাঁকুড়া সদর মহকুমার শুশুনিয়ায় পাথর কেটে দেবদেবীর মূর্তি ও থালাবাসন তৈরির শিল্প বাঁকুড়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। শালতোড়া, মেজিয়া, বড়জোড়া ও গঙ্গাজলঘাটি অঞ্চলের কয়লা, থানাপাহাড়, চেরাডংরি অঞ্চলের টাংস্টেন, রানিবাঁধ থানার ঝিলিমিলি অঞ্চলের অভ্র ও রাইপুর অঞ্চলের চিনামাটি এই জেলার উল্লেখযোগ্য খনিজ। এছাড়া পিতলের ডোকরা শিল্প আজ দেশ-বিদেশে লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বাঁকুড়ার সাংস্কৃতিক আইকন হল ঘোড়া। হাতি, ঘোড়া ও মনসার ঝাঁপি তৈরির জন্য খাতড়া মহকুমার তালডাংরা ব্লকের পাঁচমুড়া বিখ্যাত। চামড়ার জুতো তৈরিতেও জেলার ঐতিহ্য রয়েছে।

বাঁকুড়া জেলায় ৩ টি মহকুমা, ২২ টি ব্লক, ২১ টি থানা, ৩টি পৌরসভা, ১৯০ টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৫১৮৭ টি গ্রাম রয়েছে। এছাড়া, বাঁকুড়া জেলাতে ১২ টি বিধানসভা & ২ টি লোকসভা কেন্দ্র রয়েছে। বাঁকুড়া জেলার মহকুমা  ৩ টি হল বাঁকুড়া সদর, খাতড়া এবং বিষ্ণুপুর। বাঁকুড়া সদর মহকুমা, বাঁকুড়া পৌরসভা এবং  বাঁকুড়া প্রথম, বাঁকুড়া দ্বিতীয়, বড়জোড়া, ছাতনা, গঙ্গাজলঘাটি, মেজিয়া, ওন্দা এবং শালতোড়া এই আটটি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক নিয়ে গঠিত । খাতড়া মহকুমাটি ইন্দপুর, খাতড়া, রানিবাঁধ, সারেঙ্গা, সিমলাপাল , হিড়বাঁধ,  রায়পুর এবং তালডাংরা এই আটটি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক নিয়ে গঠিত। বিষ্ণুপুর মহকুমাটি বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী পৌরসভা এবং  ইন্দাস, সোনামুখী , পাত্রসায়ের,জয়পুর, কোতুলপুর  এবং বিষ্ণুপুর এই ছয়টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক নিয়ে গঠিত। বাঁকুড়া  জেলার দুটি লোকসভা কেন্দ্রগুলি হল বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর। এই জেলার বিধানসভা আসনগুলি হল বাঁকুড়া, ছাতনা, রানিবাঁধ, রায়পুর, কোতুলপুর, ইন্দাস, শালতোড়া, তালডাংরা,  সোনামুখী , বড়জোড়া, ওন্দা, বিষ্ণুপুর।  শুশুনিয়া ও বিহারীনাথ এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য পাহাড়।

বাঁকুড়া জেলার অধিকাংশ ল্যাটেরাইট ও পলি মৃত্তিকা দ্বারা গঠিত। তবে পশ্চিমাংশ সিস্টোস ও নিসোস শিলা দিয়ে ও দক্ষিণাংশ পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। এই জেলা মূলত ল্যাটেরাইট কাঁকর ও বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে গঠিত হলেও উত্তরে দামোদর উপত্যকার কিছু অঞ্চল সাম্প্রতিক পলি দ্বারাই গঠিত। দামোদর, দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী ও শিলাই এই জেলার প্রধান নদনদী। বাঁকুড়া জেলার উষ্ণ ও শুষ্ক, । মূলত শুষ্ক ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য বা শালবন বেশি দেখা যায় এই জেলা জুড়ে। এছাড়া পলাশ, সেগুন, বহেড়া, কুসুম, মহুয়া, পিয়াশাল,কাঁঠাল, পারাষি , পিপুয়া, বাবলা, আম প্রভৃতি গাছও দেখা যায়। বাঁকুড়া জেলার প্রধান পাহাড় গুলি হল  বিহারীনাথ, শুশুনিয়া, মশক, কোড়ো প্রভৃতি। প্রধান নদ-নদী গুলি হল  গন্ধেশ্বরী, কংসাবতী, দামোদর, দ্বারকেশ্বর, ভৈরাবাঁকি, শালি  শিলাবতী, জয়পন্ডা, প্রভৃতি।

২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, বাঁকুড়া জেলার সার্বিক সাক্ষরতার হার ৭০.২৬ শতাংশ, বাঁকুড়া সদর মহকুমার সাক্ষরতার হার ৬৯.৫৬ শতাংশ, খাতড়া মহকুমার সাক্ষরতার হার  ৬৯.৭৯ শতাংশ এবং বিষ্ণুপুর মহকুমার সাক্ষরতার হার ৭১.৬০ শতাংশ। জেলায় পুরুষ সাক্ষরতার হার ৭৬.৭৬% ও মহিলা সাক্ষরতার হার ৪৯.৪৩%। গ্রামীণ সাক্ষরতার হার ৬২.০৯% ও পৌর সাক্ষরতার হার ৮০.২২%।  বাঁকুড়া জেলা জুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩,৫৫০ টি, মধ্য বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৬৯ টি , উচ্চ  বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৯৭ টি , উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৮৪ টি, সাধারণ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ২১ টি , প্রযুক্তিগত/পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪ টি।এই জেলার কতকগুলি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি হল বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজ , এই কলেজ ১৯০৩ সালে ওয়েসলিয়ান মিশনারি সোসাইটি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন রেভারেন্ড জে মিচেল।বাঁকুড়া সাম্মিলনি কলেজ,  বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল , এছাড়াও বাঁকুড়া জেলা জুড়ে রয়েছে আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।স্বাস্থ্যব্যবস্থাতেও উন্নতি করছে এই জেলা।এই জেলা জুড়ে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ১৫। এছাড়া ৮৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৫০৮টি ক্লিনিক, ৪২টি ডিসপেনসারি রয়েছে। বাঁকুড়া পুরসভায় ৩টি, বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী পুরসভায় ১টি করে হাসপাতাল রয়েছে। বাঁকুড়া জেলায় চব্বিশটি সমষ্টি প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চব্বিশটি অতিরিক্ত সমষ্টি প্রাণী স্বাস্থ্য কেন্দ্র ছাড়াও তিনটি রাজ্য প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে।

এই জেলার মোট সড়কপথ ১১৮৬ কিলোমিটার। তারমধ্যে জাতীয় সড়ক ১২৬ কিলোমিটার, রাজ্য সড়ক ৩৫৫ কিলোমিটার, জেলা সড়ক ৩৮৫ কিলোমিটার ও গ্রামীণ সড়ক ৩২০ কিলোমিটার।  দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথের ৭০ কিলোমিটার ব্রডগেজ লাইন এই জেলাকে পুরুলিয়া-আদ্রা ও খড়গপুরের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। ন্যারোগেজ রেলপথে বর্ধমান জেলার সঙ্গে বাঁকুড়ার যোগাযোগ রক্ষিত হচ্ছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলি হল বাঁকুড়া, সোনামুখী বিষ্ণুপুর, ওন্দা,   পাত্রসায়ের।বাঁকুড়া জেলার  দামোদর, শিলাই, ভৈরববাঁকী, তারাফেনী ,দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী   প্রভৃতি নদনদীতে প্রায় ৩২টি ফেরি সার্ভিস চালু আছে। কোতুলপুর, ওন্দা  শালতোড়া, মেজিয়া,  সোনামুখিতে ৪টি করে, ইন্দাস, সারেঙ্গা, বিষ্ণুপুর ও পাত্রসায়েরে ২টি করীবং রানিবাঁধ ও জয়পুরে একটি করে ফেরি সার্ভিস চালু আছে।

 বাঁকুড়া জেলার কয়েকটি দর্শনীয় স্থান হল মুকুটমণিপুর, কংসাবতী বাঁধ , পরেশনাথ শিব মন্দির, ঝিলিমিলি , তালবেরিয়া বাঁধ, ঝিলিমিলি-বারো মাইল জঙ্গল, বিষ্ণুপুর , রসমঞ্চ, মৃন্ময়ী মন্দির, জোড়বাংলা মন্দির,শ্যাম রায় মন্দির, মদনমোহন মন্দির,   জয়রামবাটি , শ্রী শ্রী মাতৃ মন্দির,আমোদার ঘাট এবং মায়ের ঘাট , শিহড়,   শুশুনিয়া, নরসিংহ মন্দির,  শুশুনিয়া লিপি , বিহারিনাথ পাহাড় , বিহারিনাথ মন্দির ।