বড়ন্তি পর্যটন কেন্দ্রে বিখ্যাত পাহাড়ের উপরে ছিন্নমস্তা মন্দির এবং রেশম শিল্প !!

বড়ন্তি পর্যটন কেন্দ্রে বিখ্যাত পাহাড়ের উপরে ছিন্নমস্তা মন্দির এবং রেশম শিল্প !!
Baranti Pahar

আজ বাংলা : বিহারীনাথ আর পাঞ্চেত এই দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত সাতুরি ব্লক এখানেই এক ছোট্ট পাহাড়ি অঞ্চলের নাম হল বড়ন্তি । এই পাহাড়ি অঞ্চলে একবার যদি প্রকাশ করেন তাহলে দেখতে পাবেন মহুয়া, সাল, পলাশ, রিয়াল ,

সেগুন ইত্যাদি যেন আপনাকে চারিদিক দিয়ে ঢেকে রেখেছে ।  আর তার সাথে সাথে পায়ের তলায় থাকবে লালমাটি মাথার উপরে নীল আকাশ চারদিক থেকে ভেসে আসবে পাখির কলরব । সব মিলিয়ে এক যেন স্বর্গীয় অনুভূতি ।

শহুরে জীবনের দৈনন্দিন প্রাণঘাতী অস্থিরতা যেন দম বন্ধ করে আনে । রিদম বন্ধ কর পরিস্থিতি থেকে কিছুদিনের জন্য শান্তি খুঁজতে যদি বড়ন্তি তে এসে পৌঁছানো যায় । কয়েকদিন স্বর্গীয় অনুভুতি কে স্পর্শ করা যাবে আর কি । 

দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ঘিরে রেখেছে মুরাডি পাহাড় । এই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলেছে শান্ত ছোট্ট নদী বড়ন্তি । আর নদীর ধারে গড়ে ওঠে পাহাড়ি সংসার সেই অঞ্চলের নাম হয়ে ওঠে বড়ন্তি অঞ্চল । বড়ন্তি নদীতে বাঁধ প্রকল্প চালু করে রামচন্দ্রপুর জলসেচ প্রকল্প তৈরি করা হয় । এখানে রয়েছে মুরাডি পাহাড়ের ওপর ছিন্নমস্তা মন্দির ।

পর্যটন কেন্দ্রের সাথে সাথে এই জাগ্রত মন্দিরে জমা হয় পর্যটকদের মনস্কামনার ভীড় । এখান থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে রঘুনাথপুরের গুটিপোকার চাষার রেশম শিল্প দেখার মতন । সমস্ত কিছু ঘুরে বেড়ানোর সাথে সাক্ষী থাকবে গ্রাম্য সরল জীবনযাত্রা যা আপনার অনুভূতি কে আরো এক কাঠি বাড়িয়ে তুলবে ।

আর সন্ধ্যে হলেই মেতে উঠবেন মহুয়ার গন্ধ এবং আদিবাসীদের মাদলের তালে তালে । আর যদি প্রশান্তির বিকেলে বড়ন্তি অঞ্চলে এসে পৌঁছায় তালে পলাশের লাল রঙে আপনি রঙিন হয়ে উঠবেন । 

এই অঞ্চলে গরমের প্রবল তাপদাহ তে ঘুরতে অসুবিধা , বর্ষাতে ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সমস্যা সৃষ্টি হয় । তাই সব থেকে ভালো সময়  বড়ন্তি ঘোরার জন্য হলো অক্টোবর থেকে মার্চ এপ্রিল মাসের মধ্যে। 

কিভাবে যাবেন ! হাওড়া থেকে আদ্রা চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার ট্রেনে অথবা যে কোন ট্রেনে আদ্রা পৌঁছে সেখানে থেকে লোকাল ট্রেনের মুরাডি। আর নয়তো হাওড়া বা শিয়ালদা থেকে যে কোন ট্রেনে আসানসোল এবং আসানসোল থেকে আদ্রা লাইনের যেকোনো ট্রেনের অল্প পথ মুরাডি। আর মুরাডি থেকেই  গাড়িতে করে পৌঁছে যাওয়া যাবে কিছু দূরে অবস্থিত বড়ন্তি অঞ্চলে । 

কোথায় থাকবেন ! বড়ন্তি তে থাকার জন্য পাবেন পলাশবাড়ী ইকো রিসোর্ট, ওয়াইল্ডলাইফ নেচার স্টাডি হাট , মানভূম হলিডে হোম, আকাশমনি রিসোর্ট ।