বার্বাডোসঃ ক্যারিবীয় সাগরে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের রাষ্ট্র বার্বাডোস

বার্বাডোসঃ  ক্যারিবীয় সাগরে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের  রাষ্ট্র বার্বাডোস

বার্বাডোস ক্যারিবীয় সাগরে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। ক্যারিবীয় সাগরের দ্বীপগুলির মধ্যে এটি সবচেয়ে পূর্বে অবস্থিত। বার্বাডোস প্রায় তিন শতাব্দী ধরে একটি ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ১৯৬৬ সালে এটি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। অ্যাংলিকান গির্জা থেকে শুরু করে জাতীয় খেলা ক্রিকেট পর্যন্ত দেশটির সর্বত্র ব্রিটিশ ঐতিহ্যের ছাপ সুস্পষ্ট।

বার্বাডোসের বর্তমান অধিবাসীদের বেশির ভাগই চিনির প্ল্যান্টেশনে কাজ করানোর জন্য নিয়ে আসা আফ্রিকান দাসদের বংশধর।বার্বাডোস পর্যটকদের কাছে খুব প্রিয় একটি স্থান। দেশটির মোট আয়তন হচ্ছে ৪৩০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা হচ্ছে ২, ৭৯,০০০।  বার্বাডোসের শুভ্র বালির সৈকত ও দ্বীপের চারদিক ঘিরে থাকা প্রবাল প্রাচীর বিখ্যাত। বহু বছর ধরে আখ ছিল অর্থনীতির প্রধান পণ্য। ১৯৭০-এর দশকে পর্যটন শিল্প প্রধান শিল্পে পরিণত হয়।

দ্বীপটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটক গন্তব্যস্থলের একটি। দ্বীপের সরকার বার্বাডোসলে অফশোর ব্যাংকিং এবং তথ্যপ্রযুক্তির একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন।দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ব্রিজটাউন দেশটির বৃহত্তম শহর, প্রধান বন্দর ও রাজধানী।  বলা হয়ে থাকে, রাতের বার্বাডোস অনেক পর্যটকেরই ঘুম হারাম করে দেয় কয়েকদিনের জন্য! এতটাই সুন্দর ব‍ার্বাডোসের রাত। পৃথিবীর একমাত্র দুটো দেশ থেকে সাবমেরিনে চড়ে সাগরতলের প্রবালপ্রাচীর দেখা যায়, যার মধ্যে একটি দেশ হচ্ছে বার্বাডোস।

দিনের বেলায় সাগরতলের প্রবালপ্রাচীর আর রাতের বেলায় সাগরতলের জ্বলন্ত চোখওয়ালা মাছ, এই দুইয়ে মিলে সত্যিই অনেক পর্যটকদের বহুল কাঙ্খিত সেই স্বপ্নের জগতে পৌঁছে দিয়েছে। আর সেই সাথে উড়ন্ত মাছের ব্যাপারটা তো রয়েছেই ! ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম সমৃদ্ধ ও জনবহুল দেশ বার্বাডোস। ১৯৬৬ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করলেও এখনও দেশটির সাংবিধানিক প্রধান রানি এলিজাবেথ।

এক সময়ে প্রবলভাবে চিনি রফতানির উপর নির্ভরশীল দেশটির অর্থনীতি বর্তমানে পর্যটন ও অর্থায়নের মতো খাতে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে দেশটির প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী মিয়া মোত্তেলি নির্বাচিত হন। দেশটি প্রতিবছর সারাবিশ্বে প্রায় ৫৭ মিলিয়ন ডলারের রাম (একপ্রকারের মদ) রপ্তানি করে, যার দ্বারা ভারতীয়দের সিংহভাগ মদের চাহিদা পূরণ হয় !  উড়ন্ত মাছের দেশ বার্বাডোস। পৃথিবীতে উড়ন্ত মাছের মোট ১৩টি প্রজাতি বিদ্যমান রয়েছে। যারমধ্যে একটির (Hirundichthys affinis) দেখা পাওয়া যাবে বার্বাডোসে।

ডানাবিশিষ্ট এই মাছগুলো এতটাই পাতলা যে, এরা ঘন্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে প্রায় ৪৫ সেকেন্ড পর্যন্ত উড়তে পারে। অনেকের কাছেই এটা রুপকথার মত মনে হতে পারে। যদি এই রুপকথার চাক্ষুস সাক্ষী হতে ‍চান, তাহলে চলে আসুন বার্বাডোসে ! উড়ন্ত মাছ (Flying Fish): ফ্লাইং ফিশ বা উড়ন্ত মাছের কথা আগেই বলেছি। বার্বাডোসে এটি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ব্যবহৃত হয়।

শুধুমাত্র অত্যন্ত নরম ও থলথলে এ মাছটি খেতেই প্রতিবছর ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা থেকে অসংখ্য পর্যটক এ দেশে আসেন। পেঁয়াজ, মরিচ, ক্যাপসিকাম ও রসুনের মিশ্রণে এ মাছটি কারি বানিয়ে স্টিমড রাইসের সাথে পরিবেশন করা হয়।  সামুদ্রিক ডিম (Sea Egg/Sea Urchin): সজারুর মত দেখতে সমুদ্রের নিচে জন্মানো একপ্রকারের জীবন্ত উদ্ভিদ এই সী এগ/ সী আরচিন। ডিমের মত খোলস বিশিষ্ট এই বস্তুটি মাঝখানে ফাটিয়ে ভেতরের ক্রিমের মত নরম অংশটি কাঁচা খাওয়া হয়। এটি অত্যন্ত দামী ও বিলাসবহুল একটি খাবার।