বার্বাডোজ | Barbados

বার্বাডোজ |  Barbados

বার্বাডোস Barbados  ক্যারিবীয় সাগরে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। ক্যারিবীয় সাগরের দ্বীপগুলির মধ্যে এটি সবচেয়ে পূর্বে অবস্থিত। বার্বাডোস প্রায় তিন শতাব্দী ধরে একটি ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। বার্বাডোসের হাউস অফ অ্যাসেম্বলি এবং সেনেটের যৌথ অধিবেশনে ৭২ বছর ডেম সান্দ্রা মেসন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।সান্দ্রা মেসন ২০১৮ সাল থেকে বার্বাডোজের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।

আগামী ৩০ নভেম্বর ক্যারিবিয়ান দ্বীপটির ৫৫ তম স্বাধীনতা দিবস পালন করা হবে। সেই বিশেষ দিনেই শপথ নেবেন তিনি। ১৯৬৬ সালে বার্বাডোজ ব্রিটেনের থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। অ্যাংলিকান গির্জা থেকে শুরু করে জাতীয় খেলা ক্রিকেট পর্যন্ত দেশটির সর্বত্র ব্রিটিশ ঐতিহ্যের ছাপ সুস্পষ্ট। বার্বাডোসের বর্তমান অধিবাসীদের বেশির ভাগই চিনির প্ল্যান্টেশনে কাজ করানোর জন্য নিয়ে আসা আফ্রিকান দাসদের বংশধর।

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ব্রিজটাউন দেশটির বৃহত্তম শহর, প্রধান বন্দর ও রাজধানী। বার্বাডোসের শুভ্র বালুর সৈকত ও দ্বীপের চারদিক ঘিরে থাকা প্রবাল প্রাচীর বিখ্যাত। বহু বছর ধরে আখ ছিল অর্থনীতির প্রধান পণ্য। ১৯৭০-এর দশকে পর্যটন শিল্প প্রধান শিল্পে পরিণত হয়। দ্বীপটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটক গন্তব্যস্থলের একটি। দ্বীপের সরকার বার্বাডোসলে অফশোর ব্যাংকিং এবং তথ্যপ্রযুক্তির একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন। 

৩০০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান। ব্রিটিশ রাজবংশের আনুগত্য ছেড়ে সাধারণতন্ত্র রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপটি। মঙ্গলবারই বিশ্বের নবতম সাধারণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে বার্বাডোজ (Barbados)। সমুদ্র সৈকত ও ক্রিকেটর প্রতি প্রেমের জন্য বিশ্বে জনপ্রিয় ক্যারিবিয়ান (Caribian Island) দ্বীপটি। কিন্তু ব্রিটিশ শাসনের অধীনে দীর্ঘদিন দাসত্বের শৃঙ্খল বইতে হয়েছে তাদের। স্বাধীনতার পরও অধীনতার শৃঙ্খল থেকে পুরোপুরি মুক্তি পায়নি তারা।

দেশবাসীর মাথার উপর অদৃশ্য ছড়ি ঘুরিয়েছে ব্রিটেনের রানি। এবার ব্রিটিশ রাজবংশের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছে বার্বাডোজ।  সোমবার সন্ধে থেকে শুরু হবে সরকারি অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন সান্ড্রা মাসন (Sandra Mason)। বর্তমানে তিনি ব্রিটেনের রাজ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে বার্বাডোজের দেখভাল করেন। তাঁর হাতে দায়িত্বভার তুলে দেবেন ব্রিটেনের রাজ পরিবারের বংশধর প্রিন্স চার্লস।

সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দায়িত্বের হাতবদল হতে চলেছে বলে খবর।  আঠারো শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্রিটেনের রাজ পরিবারের 'দাস' ছিল বার্বাডোজ। ১৮৩৬ সালে সেই দাসত্ব প্রথা অবলুপ্ত হয়। কিন্তু স্বাধীনতা আসেনি। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল দেশটি। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৩৬ সালে স্বাধীনতা পায় ক্যারিবিয়ান দ্বীপটি। তারপরেও রাজতন্ত্র কায়েম ছিল সে দেশে। সরাসরি না হলে বকলমে দেশের সমস্ত কিছুই নিয়ন্ত্রণ করত ব্রিটেনের রাজপরিবার ও তাদের প্রতিনিধি। এবার সেই প্রথার অবসান।

রাজতন্ত্রের বদলে সাধারণতন্ত্র কায়েম হবে বার্বাডোজে। তবে ক্ষমতার এই হাতবদল নিয়েও ২ লক্ষ ৮৫ হাজার বাসিন্দার এই দেশে বিতর্ক রয়েছে।  গত বছরই সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মোট্টেলে জানিয়েছিলেন, ব্রিটিশ উপনিবেশের দিন শেষ। এবার নতুন সূর্ষ দেখবে বার্বাডোজ। এর পরই অক্টোবর মাসে বার্বাডোজের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন মাসন। তবে বার্বাডোজের বাসিন্দাদের আক্ষেপ, 'ক্ষমতার হাতবদল হলেও দেশের প্রকৃত সমস্যা সমাধানে নজর দেয় না কেউ-ই। আমরা যে তিমিরে ছিলাম, সেখানেই থেকে যাই।'

বার্বাডোজ সরকারের তথ্য পরিষেবার ওয়েবসাইট বলছে, একাধিক ধারার পেশায় সফলভাবে কাজ করেছেন ডেম সান্দ্রা মেসন। ম্যাসন পেশায় ব্যাঙ্কার ছিলেন। তার আগে একজন শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে, তিনি কিশোর ও পারিবারিক আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত শিশু অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেন।

বার্বাডোজ ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগো, ডোমিনিকা এবং গায়ানার সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের তালিকায় যোগদান করবে। অন্যদিকে অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা, বাহামা, বার্বাডোজ, বেলিজ, গ্রানাডা জামাইকা, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনসের রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন ব্রিটেনের রানি।