দীনেশ ত্রিবেদীকে ফোন করে স্বাগত জানালেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং

দীনেশ ত্রিবেদীকে  ফোন করে স্বাগত জানালেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং

দলে থেকে দমবন্ধ হয়ে আসার কারণে আজ রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা করলেন দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)। ইস্তফার পর জল্পনা উস্কে দেয় তাঁর বিজেপিতে যোগদানের। কথায় বলে, 'এভরিথিং ইজ ফেযার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার।' রাজনীতিতেও বোধ হয় তাই। কারণ যে দীনেশ ত্রিবেদীর জন্য একদিন তৃণমূল ছেড়েছিলেন, সেই দীনেশ ত্রিবেদী বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর তাঁকেই ফোন করে স্বাগত জানালেন অর্জুন সিং।

দীনেশ ত্রিবেদী ইস্তফার পর জল্পনা উস্কে দেয় তাঁর বিজেপিতে যোগদানের। কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ, রাজীব বন্দোপাধ্যায়, অর্জুন সিং সকলেই তাঁকে বিজেপিতে যোগদানের জন্য আহ্বান। বিজেপি সর্বভারতীয় রাজ্য সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানিয়েছেন,'শুধু দীনেশ ত্রিবেদিজী নয়, সত্‍ পথে থেকে কাজ করতে হলে তৃণমূলে থাকা যায় না। উনি যদি বিজেপিতে আসতে চান, তাঁকে স্বাগত।' 'একবার রেলমন্ত্রী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ তিনি অন্তরাত্মা, মনের কথা জানিয়েছেন। উনি দলে এলে স্বাগত জানানো হবে। তৃণমূলে সকলকে দমবন্ধ অবস্থায় থাকতে হয়', প্রতিক্রিয়া বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের।

২০১৯ সালে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিট পাওয়ার আশায় ছিলেন অর্জুন সিং। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দীনেশ ত্রিবেদী টিকিট পাওয়ায় দল ছাড়েন অর্জুন সিং। এর পর বিজেপি-তে যোগদান করে সেই ব্যারাকপুর আসন থেকেই লোকসভা নির্বাচনে দীনেশকে হারান তিনি। সেই সময় দীনেশ- অর্জুন বাকযুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছিল।

স্বভাবতই আশা করা হয়েছিল, দীনেশ ত্রিবেদী বিজেপি-তে এলে আপত্তি থাকবে অর্জুনের। কিন্তু রাজনৈতিক মহলকে অবাক করে দিয়ে অর্জুন জানিয়েছেন, দীনেশ ত্রিবেদীকে বিজেপি-তে স্বাগত জানাচ্ছেন তিনি। দীনেশ ত্রিবেদীকে ভাল মানুষ, অভিজ্ঞ রাজনীতিক বলেও প্রশংসা শোনা গিয়েছে অর্জুনের গলায়। এখানেই শেষ নয়, দীনেশ ত্রিবেদীকে নিজে ফোন করে তৃণমূল ছাড়ায় অভিনন্দনও জানিয়েছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ।

অর্জুনের দাবি, তিনি দীনেশকে জানিয়েছেন বিজেপি-তে একসঙ্গে তাঁরা আরও ভাল ভাবে কাজ করবেন।  সূত্রের খবর, দীনেশ দলে এলে অর্জুন যে ভাল ভাবে তা নেবেন না, সেই আশঙ্কা বিজেপি নেতৃত্বেরও ছিল। তাই দীনেশকে দলে নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করার পর্বে অর্জুনের সঙ্গেও কথা বলেন দলের রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা। জানা গিয়েছে, অর্জুনের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে দীনেশকে সাংগঠনিক কোনও দায়িত্ব দেওয়া হবে না। বরং তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করে পাঠিয়ে সংসদে।