Belarus| পূর্ব ইউরোপের স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র বেলারুশ

Belarus| পূর্ব ইউরোপের স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র  বেলারুশ

ব্যাপক ছাড়ে  Amazon-এ শপিং করতে এই খানে ক্লিক করুন

পূর্ব ইউরোপের স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র বেলারুশ Belarus মূলত একটি সমতল ভূমি যার কোন প্রাকৃতিক সীমানা নেই। দেশের মধ্যভাগে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বে চলে গেছে বেলারুশ পর্বতশ্রেণী। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা জনবিরল অরণ্যে আবৃত। প্রায় ৩ হাজার নদী ও প্রায় ৪ হাজার হ্রদ দেশটির ভূগোলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বেলারুশ ঐতিহাসিকভাবে রুশ রাষ্ট্র বা রুশ প্রভাব বলয়ের অংশ ছিল।

বর্তমান বেলারুশের ভূখণ্ড অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে রুশ বিপ্লবের আগ পর্যন্ত রুশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল, এবং পরবর্তীতে 'বাইলোরুশীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র' সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি ইউনিয়ন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের প্রাক্কালে বেলারুশ স্বাধীনতা লাভ করে। মধ্যযুগ থেকে বেলারুশ অঞ্চলটি বিভিন্ন বিদেশী শাসনের অধীনে ছিল। এদের মধ্যে আছে পোল্যান্ডের ডিউক রাজত্ব, লিথুয়ানিয়ার ডিউক রাজত্ব, এবং পোলীয়-লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথ।

১৮শ শতকে এটিকে রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কেবল মধ্য-১৯শ শতকে এসে বেলারুশে জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটে। ১৯১৯ সালে বেলোরুশীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে বেলারুশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২২ সালে এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের চারটি প্রতিষ্ঠাকারী রাষ্ট্রের একটি ছিল। বেলারুশ এবং রুশ ভাষা বেলারুশ প্রজাতন্ত্রের সরকারি ভাষা। এর মধ্যে বেলারুশীয় ভাষাতে প্রায় ৯৮% জনগণ কথা বলে। ১০% লোক রুশ ভাষাতে কথা বলতে পারে। পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পোলীয় এবং জার্মান ভাষার প্রচলন আছে।

বেলারুশ প্রজাতন্ত্রটি এর পূর্ব অংশে ইউরোপীয় মহাদেশে অবস্থিত located এর আশেপাশের প্রতিবেশীরা হলেন রাশিয়া, ইউক্রেন, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড। বেলারুশের রাজ্য সীমানার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় 2, 969 কিলোমিটার। উপকূলরেখা পুরোপুরি অনুপস্থিত, বৃহত্তম নদী হল ডাইপার এবং হ্রদটি নারোচ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দেশটির প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হয়; এ সময় বেলারুশের এক-চতুর্থাংশ জনসংখ্যার মৃত্যু ঘটে এবং দেশটি অর্ধেকেরও বেশি অর্থনৈতিক সম্পদ হারায়।

 যুদ্ধপরবর্তী বছরগুলিতে বেলারুশ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠে। এটি জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরাষ্ট্রগুলির একটি ছিল। ১৯৯১ সালের ২৭শে জুলাই বেলারুশের আইনসভা দেশটির সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেন। আগস্ট মাসে দেশটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং এর মাধ্যমে ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে ভূমিকা রাখে। বর্তমান বেলারুশ সরকার একটি রাষ্ট্রপতিভিত্তিক প্রজাতন্ত্র। ১৯৯৪ সাল থেকে আলেক্সান্দর লুকাশেঙ্কো দেশটির রাষ্ট্রপতি। বেলারুশ ও রাশিয়াকে একত্রিত করে একটি মাত্র রাষ্ট্র রুশ ও বেলারুশ ইউনিয়ন করার ব্যাপারে ১৯৯৬ সাল থেকে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা চলছে। 

রাশিয়া ও বেলারুশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান। রাষ্ট্র দুইটি আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের সামরিক মিত্র। রাষ্ট্র দুটির আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গীভূত। বেলারুশীয় সেনাবাহিনী ও রুশ সশস্ত্রবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক জেলার '১ম গার্ডস আর্মি'র সমন্বয়ে একটি 'রেজিওনাল গ্রুপ অফ ফোর্সেস' গঠিত হয়েছে এবং যুদ্ধের সময় এটি একটি একক কমান্ডের অধীনে যুদ্ধ করবে। রুশ ও বেলারুশীয় সৈন্যরা নিয়মিতভাবে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করে থাকে। তদুপরি, বেলারুশের ভূখণ্ডে রাশিয়ার দুটি সামরিক ঘাঁটি বিদ্যমান। এদের মধ্যে একটি হচ্ছে 'হান্তসাভিচি রাডার স্টেশন'। বেলারুশের ব্রেস্ত প্রদেশের হান্তসাভিচি শহরের নিকটে অবস্থিত এই রাডার স্টেশনটির পরিচালনার দায়িত্ব রুশ মহাকাশ বাহিনীর। 

মিন্‌স্ক   Мінск, Менск

পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্র বেলারুশের রাজধানী নগরী। এটি বেলারুশের উত্তর মধ্যভাগে একটি নিচু পাহাড়ি এলাকাতে, সভিসলখ নদীর তীরে ও রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ৬৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এখানে প্রায় ২০ লক্ষ লোকের বাস। মিনস্ক বেলারুশের বৃহত্তম নগরী। প্রশাসনিকভাবে এটি মিনস্ক ওবলাস্তের কেন্দ্র এবং সমগ্র বেলারুশ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু। এটি একাধারে একটি শিল্পোৎপাদন ও পরিবহন কেন্দ্রও বটে। মিনস্কের অর্থনীতি মূলত একটি ভারী শিল্পখাত দ্বারা চালিত।

এখানে যন্ত্রপাতি নির্মাণ এবং মোটরযান যেমন ট্রাক ও ট্রাকটর নির্মাণ নগরীর আয়ের প্রধান উৎস। এছাড়া মোটর, বেয়ারিং চাকা, যান্ত্রিক ও ইলেকট্রনীয় সরঞ্জাম, বেতার, টেলিভিশন, ফ্রিজ (শীতায়ক) ঘড়ি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, বস্ত্র, কাগজ ও আসবাবপত্রের কারখানা আছে। মিনস্ক নগরীতে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে; বেলারুশের বিজ্ঞান অ্যাকাডেমিও এখানে অবস্থিত। আরও আছে চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের উপরে একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আছে। একটি ধ্রুপদী সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়, অপেরা গীতিনাট্যশালা ও ধ্রুপদী ব্যালে নৃত্যের দলসহ একাধিক নাট্যশালা ও জাদুঘর শহরটির সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।

২০০৬ সালে বেলারুশের জাতীয় গ্রন্থাগারটিকে সম্প্রসারিত করে একটি দৃষ্টি আকর্ষক হীরকাকৃতির ভবনে পরিণত করা হয়, যা বর্তমানে নগরীটির অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। নগরীতে একটি শীতকালীন ক্রীড়াকেন্দ্রও রয়েছে। মিনস্কের অনেক ভবনই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কালের সোভিয়েত স্থাপত্যশৈলীর নকশা অনুসারে কংক্রিটের তৈরি, দানবাকার ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বহীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পুরাতন প্রায় সব ভবনই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, এদের গুটিকয়েক এখনও টিকে আছে ও নগরীটির অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে; এগুলির মধ্যে বের্নাদিন খ্রিস্টান মঠ ও ১৭শ শতকে নির্মিত মারিনস্কি মহাগির্জা উল্লেখ্য।

১৯৮০-র দশকের শেষদিকে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও নিম্ন মজুরির কারণে বেলারুশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হয়ে পড়ে। সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রগুলির ঐক্য ধ্বসে পড়লে একটি কেন্দ্রীভূত অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য প্রচেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু এই রূপান্তর সম্পূর্ণ সফল হয়নি। ১৯৯১ সালে মিনস্ক স্বাধীন বেলারুশের রাজধানীতে পরিণত হয়। এরপর বেলারুশ প্রাক্তন সোভিয়েত দেশগুলি নিয়ে গঠিত স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথ সংস্থায় যোগদান করে; মিনস্ক নগরীতে এই নতুন সংস্থার প্রধান কার্যালয়টিকে স্থাপন করা হয়।

‘ইউরোপের ফুসফুস’ হিসাবে পরিচিত, বেলারুশ। দেশটির ৪০ শতাংশ জায়গা বনাঞ্চল। এখানে সবুজের বাহার ইউরোপের যেকোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। দেশটির রাজধানী মিনস্কেও প্রায় প্রতিটি কমিউনিটিতে অসংখ্য পার্কের দেখা মেলে। বেলারুশিয়ান পতাকার সবুজ স্ট্রিপটি এর বনভূমির প্রতীক। এখানকার রাস্তায় বের হলে আপনি খুব কম বিজ্ঞাপন দেখবেন। আর যে বিজ্ঞাপনগুলো দেখা যায় সেগুলোতে দেখা মিলবে দেশপ্রেম, পারিবারিক আদর্শ, কঠোর পরিশ্রম, ট্রাফিক আইন মানার সঠিক নিয়মসহ আরো কিছু সামাজিক বিষয়াদি যা জীবনকে সুন্দর করতে সাহায্য করে।

বেলারুশিয়ানরা সবজি খেতে খুব পছন্দ করেন। আলু তাদের সবচেয়ে প্রিয় খাবার। এই আলু দিয়েই তারা প্যানকেক, ডাম্পলিংস থেকে শুরু করে ৩০০ ধরণের খাবার তৈরি করতে পারে।  বেলারুশ ভ্রমণ করার সময় পর্যটকরা প্রথম যে কথাটি বলেন তা হল এই দেশটি সবুজ, পরিষ্কার, এবং নিরাপদ। রাশিয়া ও ইউক্রেনের তুলনার এখানকার রাস্তাগুলো বেশ আকর্ষনীয়। বিশ্বের বৃহত্তম ডাম্প ট্রাক বেলারুশে তৈরি হয়। BelAZ-75710 মডেলের এই ট্রাকের ওজন ৩৬০ টন, চাকার উচ্চতা ৪ মিটার। যদি কেউ এই ধরণের একটি ট্রাক কিনতে চান তবে ব্যয় করতে হবে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার!

এই দেশের স্কুলে পড়ুয়া ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন তারা বড় হয়ে কি হতে চায়, তাদের বেশিরভাগই উত্তরে বলে, তারা প্রোগ্রামার হতে চায়। এই পেশা বেলারুশে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। প্রোগ্রামারদের বেতন সমস্ত প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় বেশি। বেলারুশকে বলা হয় পূর্ব ইউরোপের “সিলিকন ভ্যালি”। প্রায় ১০ বছর আগে, এখানে হাই টেক পার্ক তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় ১৭০ টি সংস্থায় কাজ করছেন ২৭ হাজার আইটি বিশেষজ্ঞ। বেলারুশকে বলা হয় পূর্ব ইউরোপের লাস ভেগাস।

রাশিয়ায় যখন জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন বেলারুশে প্রচুর ক্যাসিনো খোলা হয়েছিল, এ কারণেই অনেক রাশিয়ান এখানে আসেন। বেলারুশের  বেকারত্বের হার ১ শতাংশের কম। তাই গৃহহীন এবং দরিদ্র্য মানুষ কম দেখা যায় এখানে।  বেলারুশিয়ান ন্যাশনাল লাইব্রেরিকে বলা হয় ‘‘The Diamond of Knowledge’. যদিও লাইব্রেরি ভবনের কাঠামোটি পৃথিবীর অন্যতম কুৎসিত  ভবন হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।বলা হয়ে থাকে, প্রতি বছরে সারা ইউরোপের মধ্যে বেলারুশ থেকে সবচেয়ে বেশি গুপ্তধনের সন্ধান মেলে।

অতীতে এখানকার ভূমিতে অনেক যুদ্ধ বিগ্রহ লেগে থাকতো। ধারণা করা হয়, সে সময়  রাজারা বা সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকেরা তাদের ধনরত্ন মাটির নিচে লুকিয়ে রাখতেন। সে কারণেই হয়তো পায়ের তলার মাটি খুঁড়লেই এখানে গুপ্তধনের সন্ধান মেলে!  এটি বলা হয়েছে যে 82২% বেলারুশিয়ান কোনও না কোনও ধর্মের অনুসারী। তাদের বেশিরভাগই রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের বেলারুশিয়ান এক্সট্রাকটে মেনে চলেন তারপর রোমান ক্যাথলিক ধর্ম আসে comes সংখ্যালঘুরা গ্রীক ক্যাথলিক, ইহুদী, ইসলাম এবং নব্যপ্যাগানিজম অনুশীলন করে। ননরিলিজিয়াস মানুষও রয়েছে।

[ আরও পড়ুন থাইল্যান্ড ]