বেলপাহাড়ী ভ্রমণ

বেলপাহাড়ী ভ্রমণ
Belpahari

আজ বাংলা :  কলকাতা থেকে খুব কাছেই আমরা বাঙালিরা খুঁজে বেড়াই এমন কোন জায়গা যেখানে একটু শান্তি আছে এবং কলকাতার দূষণ ছেড়ে বেরিয়ে কিছুদিন স্নিগ্ধ পরিবেশে কাটানোর জন্য ।আমাদের অনেকেরই জানা নেই কাছেপিঠে এরকম রূপকথার কিছু জায়গা আছে যেমন ঝাড়গ্রাম জেলার অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র হল বেলপাহাড়ি ।

ঝাড়গ্রাম থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরের বেলপাহাড়ি ঝাড়গ্রাম জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র । এক সময় সন্ত্রাসের লীলাভূমি ছিল এই বেলপাহাড়ি, আর এখন শান্তির এই জনপদ হাতছানি দিয়ে ডাকে পর্যটকদের।যতদূর জানা যায় ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ শাসকদের হাত ধরেই পরিচিত হয় বেলপাহাড়ি।

এলাকার আদিম রনজাতিদের শাসন করার নামে তাদের অত্যাচার করেছিল ইংরেজ রা. পরবর্তীকালে ইংরেজ শাসকদের হাত ধরেই কাঁকড়াঝোড়, ঘাগড়া,গাড়রাসিনির মতো এক একটি এলাকা পরিচিত হয় বহির্জগতের সামনে। ৬০ এর দশক থেকে বেলপাহাড়ির কাঁকড়াঝোড়, ঘাগড়া,গাড়রাসিনি, লালজল এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়, মূলত ওই সময় হাওয়া বদলের জন্যেই বাঙালির একটা অংশ পুজোর সময় অথবা শীতের দিকে বেলপাহাড়ি বেড়াতে আসে. তখন উপযুক্ত যানবাহনও ছিল না. ঝাড়গ্রাম থেকে একটা জীপ্ গাড়ি করে যেতে হতো কাঁকড়াঝোড়। কুলাবেদা থেকে পাকদন্ডীর পাথুরে রাস্তা পেরিয়ে কাঁকড়াঝড় পৌঁছতে, কিংবা মেঠো লাল রাস্তা উজিয়ে গাড়রাসিনির পাহাড় পৌঁছতে দম বেরিয়ে যেত.

বেলপাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রে পৌঁছালে আপনারা দেখতে পাবেন ঘাঘরা, খাদারানী ড্যাম , কাকরাঝর, লালজোল পাহাড়, গাররাসিনি ট্রেকিং রুট ইত্যাদি।  বেলপাহাড়ীর দক্ষিণে রয়েছে পাহাড়ের বর্ণমালা । চারিদিকে শাল গাছের সবুজ সমারোহ আর মধ্যিখানে বিস্তীর্ণ রয়েছে ব্ল্যাক স্টোনের  গহবর ভেদ করে যেনো সাপের ফনার মতো বয়ে চলেছে জলরাশি।আসলে দক্ষিণে রয়েছে ঘাঘড়া পাহাড় অবস্থিত ।

বেলপাহাড়ি পাহাড় থেকে সৃষ্ট ঝরনার জল ঘাঘড়া পাহাড়ে বাধা পেয়ে নিচে তারাফেনী নদীতে মিশে গেছে । বেলপাহাড়ি পাহাড় থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার গেলে দেখা মিলবে আরো একটি মনোরম পাহাড় লালজল পাহাড়।সেই পাহাড়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে সেখানে অবস্থিত পাহাড়ে মোরা একটি ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম । তাই অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয় এই অঞ্চলটি ।

সেখান থেকে দুই কিলোমিটার গেলেই পড়বে পাহাড় সেখানে রয়েছে আদিম মানবের গুহা গুহাতে রয়েছে অসংখ্য বন্যপ্রাণী, পাহাড়ের উপর থেকে পুরো বেলপাহাড়ি গ্রাম দেখার দৃশ্য অতুলনীয় । এরপর পাহাড় থেকে একটু দূরে চলে গেলেই দেখা যাবে কাকড়াঝোড় গভীর অরণ্য । পাহাড় অতিক্রম করে অরণ্য তে পৌঁছে মন প্রাণ সব একেবারে জুড়িয়ে উঠবে । 

চিনময় রায় অভিনীত চারমূর্তি বলে একটি বাংলা সিনেমার সত্তর দশকের সেটির শুটিং স্পট ছিল এই কাকড়াঝোড় অরণ্য ।পাহাড় অরণ্য সমস্ত কিছু দেখা হয়ে গেলে এরপর বেলপাহাড়ীর আরও একটি দিক গরসিনী পাহাড়ে সেখানে রয়েছে দুটি মন্দির । তারপরই চোখে পড়বে পূর্বদিকে চারিদিকে জঙ্গলে মোরা খাদারানি ড্যাম ।

বেলপাহাড়ি সে রয়েছে অসংখ্য থাকার ব্যবস্থা রয়েছে অনেক অতিথিশালা এবং হোমস্টে , কাকড়াঝোড় অভয় অরণ্য তেও রয়েছে থাকার ব্যবস্থা ।কিভাবে যাবেন : কলকাতা থেকে ইস্পাত এক্সপ্রেস বা স্টিল এক্সপ্রেসে মাত্র ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট এই পৌঁছে যাবেন ঝাড়গাম স্টেশন সেখান থেকেই গাড়ি করে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেলপাহাড়ি। পুরোপুরি বেলপাহাড়ি সাইট সিন করতে দুদিন যথেষ্ট ।