ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে মৃত্যু হল বাংলার এক শ্রমিকের

ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে মৃত্যু হল বাংলার এক শ্রমিকের

মালদা : আবারও ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে মৃত্যু হল এক শ্রমিকের।ঘটনাটি ঘটেছে ব‍্যাঙ্গালোরে৷পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম মজিবুর রহমান (৪৭)৷ বাড়ি, মালদহের চাঁচল-১ নং ব্লকের মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গালিমপুর উত্তরপাড়ায়।পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার ব‍্যাঙ্গালোরের একটি সরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঠিকাদারের তত্বাবধানে বিমানে করে দেহ আনা হয় বাগডোগরা  বন্দরে৷শনিবার দুপুরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় দেহ৷বাড়িতে দেহ পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার-আত্মীয়-স্বজনেরা। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,সংসারে রয়েছে স্ত্রী- সন্তান ও বৃদ্ধা মা।এলাকায় কাজ না থাকায় পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা বজায় রাখতে স্থানীয় ঠিকাদারের সাথে দুমাসের  দাদন চুক্তিতে নির্মাণ কর্মীর কাজ গিয়েছছিলেন।

ব‍্যাঙ্গালোরে মাস খানেক ধরে কাজ করার পর সেখানে অনেক শ্রমিকই অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে পরিবারে জানিয়ে ছিল মজিবুর।একইভাবে মজিবুরও গত বৃহস্পতিবার অসুস্থ হলে সহকর্মীরাই স্থানীয় ইন্দোরনগর হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানেই অসুস্থ অবস্থায় মৃত‍্যু হয় তাঁর।সহকর্মীদের তরফে গ্রামের বাড়িতে মৃত‍্যু সংবাদ আসতে শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়।

জানা গেছে মতিহারপুর অঞ্চল এলাকার প্রায় ১৪ জন শ্রমিক সেখানে কাজে যায়।তাদের মধ‍্যে পাঁচজন অসুস্থ হলে মজিবুরের মৃত‍্যু হয়। শনিবার তাঁর দেহ  গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে।এবং এদিনই কবরস্থ করা হয়েছে।স্বামীর কফিন বন্দি দেহ আসতেই জ্ঞান হারা হয় স্ত্রী সালেহা বিবি। মা মোমিনা বেওয়া কান্নায় লুটিয়ে পড়ে বলেন,আমার আগে ছেলে দূনিয়া ছেড়ে  যাবে ভাবতে পারিনি।

মৃতের ছেলে সাহেব আলি কেঁদে বলেন,বাবার সাথে পরশুদিন কথা হল।বলছিল অামি খুব অসুস্থ।আমাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ব‍্যবস্থা কর।বাবা এইভাবে চলে যাবে মেনে নিতে পারছি না।এলাকাসূত্রে জানা গেছে,পরিবারটি এলাকায়  অতি দরিদ্র বলে চিহ্নিত।বাস্তু ভিটে টুকু ছাড়া চাষের জমিও নেই।মজিবুরের উপার্জনেই চলত গোটা সংসার।

এমতাবস্থায় পরিবারটির  সরকারি সাহায্য অত‍্যন্ত জরূরি বলে বাসিন্দারা দাবি করেছেন। বাড়িতে দেহ আসতেই শোকসন্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে যান মতিহারপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পিঙ্কি খাতূন।তিনি পরিবারটির সরকারি সাহায্যের জন‍্য  ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় বিধায়কের দারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।