মাতৃভূমির টানে বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে দেশের কৃষিকাজে ভারতী-রামদে

মাতৃভূমির টানে বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে দেশের কৃষিকাজে ভারতী-রামদে

যতই যা-ই হোক, প্রথম বিশ্ব আর তৃতীয় বিশ্বের দেশে জীবনধারার একটা তফাত থাকেই! জীবনযাপনের বেশ কিছু সুবিধা প্রথম বিশ্ব তুলে দেয় তার নাগরিকদের হাতে যা এদেশে এখনও সুলভ নয়। তার পরেও অনেকেই এখন বিদেশের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে ফিরে আসছেন মাতৃভূমির মাটির টানে। দেশে খুঁজে নিচ্ছেন বিকল্প জীবনধারা যা একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, সুখময় এবং স্বাধীন ভাবে বাঁচার পথ প্রশস্ত করছে।

গুজরাতের পোরবন্দরের ভারতী খুটি এবং রামদে খুটির বর্তমান জীবনযাপনের কাহিনিও ঠিক সেরকম, ছায়াছবির গল্পের মতো, কিন্তু আদতে নিখাদ বাস্তব!জানা গিয়েছে যে রামদে ২০০৬ সালে লন্ডনে গিয়েছিলেন, দুই বছর সেখানে কাজ করার পর দেশের মেয়ে ভারতীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়। ভারতী সেই সময়ে রাজকোটে এয়ারপোর্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন, চলছিল এয়ার হোস্টেস কোর্সের ট্রেনিংও।

বিয়ের পরেও কিন্তু ভারতী তাঁর পড়াশোনা ছাড়েননি। বরং রামদের সঙ্গে লন্ডনে গিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি কোর্স শেষ করেন, হিথরো এয়ারপোর্ট থেকে একটি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোর্স করে সেখানে কাজ শুরু করেন। সব মিলিয়ে দম্পতির জীবন ভালেই কাটছিল! কিন্তু রামদের মনে স্বস্তি ছিল না। দেশে মা-বাবা একা রয়েছেন- সেই চিন্তা তাঁকে বিদেশে সুখে থাকতে দেয়নি।

তাই আলোচনার পরে দম্পতি ফিরে আসেন দেশে, কৃষিকাজ এবং পশুপালনের মাধ্যমে শুরু করেন জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস। এখানে বলে রাখা ভালো যে রামদে সাবেকি পদ্ধতিতে চাষ করেন না, তিনি অবলম্বন করেন জৈব পদ্ধতি। যেহেতু তার মাধ্যমে ফলনে সময় লাগে, সেই জন্য গরু-মোষ প্রতিপালন শুরু করেছেন তিনি, যাদের দেখভাল করেন ভারতী।

এই পশুপালনই তাঁদের নিয়মিত উপার্জনের উত্‍স বলে জানিয়েছেন দম্পতি। যাতে অন্যরাও অনুপ্রেরণা পান স্বাধীন ভাবে বাঁচার, সেই লক্ষ্যে ভারতী এবং রামদে Live Village Life With Om & Family নামে একটা YouTube চ্যানেলও তৈরি করেছেন, যার সাবস্ক্রিপশন ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন দম্পতি।