ভুটান ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান? তাহলে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

ভুটান ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান? তাহলে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

আজ বাংলা:   ভ্রমণ পিপাসু বহু মানুষ যাঁরা ঘুরতে ভালোবাসেন,  বিশেষ করে যারা পাহাড় ভালবাসেন, তাঁদের উইশ লিস্টের উপরের দিকেই থাকে ভুটান (Bhutan)। আপনি যদি প্রথমবার ভুটান যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে আপনার জন্য রইল একটা সাধারণ গাইডবুক।সড়ক পথে ভুটানে যেতে ফুন্টশেলিং থেকে পর্যটকদের ভারতীয় সচিত্র পরিচয়পত্র দেখিয়ে থিম্পু ও পারোর জন্য পারমিট নিতে হয়।

সচিত্র পরিচয়পত্র না থাকলে ভারতীয় দূতাবাস থেকে বিশেষ আইডেনটিফেকেশন স্লিপ নিয়ে পারমিট করতে হয়।থিম্পু বা পারো ছাড়াও পুনাখা, ওয়াংদি, বুমথাং, মঙ্গার, হা ভ্যালি ঘোরার জন্য থিম্পু অভিবাসন দফতর থেকে স্পেশাল এরিয়া পারমিট নিতে হয়। বিমানে ভুটানে গেলে পারো বিমানবন্দর থেকেই পারমিট দেওয়া হয়। 

১) চারিদিকে চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক দৃশ্য, সারি সারি পাহাড়, ট্র্যাডিশনাল লাইফস্টাইল দেখে প্রথম দর্শনেই ভুটানের প্রেমে পড়ে যাবেন। বুঝতে পারবেন কেন ভুটান ল্যান্ড অব হ্যাপিনেস।

২) আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে কোনও সময় ভুটান ট্রিপের পরিকল্পনা করতে পারেন। আর যদি ট্রেক করতে চান, তাহলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে যে কোনও সময় বেছে নিন। যদি ফুল দেখতে চান, তাহলে আপনার বেড়াতে যাওয়ার সময় মার্চ থেকে মে মাস ভালো।

৩) গরমের সময় ভুটান গেলেও ব্যাগে সব সময় শীত পোশাক রাখতেই হবে।  রাতের তাপমাত্রা সব সময়ই অনেকটা নেমে যায়।

৪) বাজেট যে কোনও কাজেই খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। ভুটান যাওয়ার আগে নেপাল সরকারের টুরিস্ট ফি কত সেটা জেনে নিন। কারণ বছরের সব সময় টুরিস্ট ফি এক থাকে না। এছাড়া আপনার নিজস্ব বাজেট যা হবে, তার সঙ্গে আলাদা করে ট্যাক্সের খরচ হিসেব করতে ভুলবেন না।

৫) এছাড়া হোটেল, গাড়ি এ সব ব্যবস্থা আগে থেকেই করে যেতে স্বচ্ছন্দ অনেকে। আবার অনেকে গন্তব্যে পৌঁছে ঠিক করেন। অতিমারির পরিস্থিতিতে যদি পরিকল্পনা করেন, তাহলে প্রি-বুকিং করে যাওয়াই ভাল। কোন কোন জায়গায় যেতে পারবেন, তা আগে থেকে খোঁজ নিয়ে নিন। 

থিম্পু শহরটা ঘুরে দেখুন। তবে অবশ্যই সকাল সকাল নাস্তা খেয়ে বের হবেন। যদি পায়ে হেঁটে কাছাকাছি জায়গা গুলো দেখেন তাহলে খরচ ও কম হবে আর ঘুরে ঘুরে নানা জায়গা দেখা যাবে। হাঁটা দূরত্বের মধ্যে থিম্পু শহরে দেখতে পারবেন- সিটি ভিউ পয়েন্ট, মেমোরিয়াল চর্টেন, ক্লক টাওয়ার, থিম্পু নদী, থিম্পু জং, লাইব্রেরি, থিম্পু ডিজং ও পার্লামেন্ট হাউস।

আর শহর থেকে একটু দূরের জায়গা গুলো দেখতে হবে ট্যাক্সিতে করে। যেমন- ন্যাশনাল তাকিন সংরক্ষিত চিড়িয়াখানা, বুদ্ধ দর্দেনমা স্ট্যাচু, থিম্পু ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চর্টেন। এর মধ্যে বাইরে কোথাও দুপরের খাবার খেয়ে নিন। আর তাসিং ডিজং বা থিম্পু দিজং এর পাশেই ইমিগ্রেশন অফিস। ওখানে আবেদনপত্র পূরণ করে পুনাখা শহরে ঢোকার পারমিট নিতে হবে। এর মধ্যেই আগামী দিন সকালে পুনাখা যাবার বাসের অগ্রিম টিকেট কেটে রাখতে হবে। কারন থিম্পু থেকে সারদিনে মাত্র ২ টা বাস পুনাখাতে যায়। আবার ট্যাক্সি শেয়ার করেও পুনাখা যেতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে সময় ১ ঘণ্টা কম লাগবে।

পুনাখা (Punakha) চলে যাবেন। এখানে আসলে গাড়ি ভাড়া করে পুরো শহরটা দেখে নিলে ভালো হবে। প্রথমেই যেতে পারেন দোচুলা পাস কারন ওখানে যাওয়া বেশ সময় সাপেক্ষ আর ফেরার পথে আরও কিছু স্থান দেখতে পারবেন। দো চুলা পাস ঘুরতে ৩.৫ থেকে ৪ ঘণ্টার মতো লাগবে। তারপর ফেরার পথে পুনাখা জং (Punakha Dzong), ন্যাশনাল লাইব্রেরি, আর্ট স্কুল, ফোক হেরিটেজ মিউজিয়াম এই জায়গা গুলো দেখে আসতে পারেন। এরপর এই দিন হয়ত আর সময় হবে না। আর রাফটিং না করলে পুনাখার আসল মজা আসলে পাওয়া যাবে না। তাই এই দিন পুনাখাতে থেকে যাওয়া ভালো।

লাখাং মন্দির, পেলিরি মন্দির, তালো মনস্ট্রি দেখে ফু ছু নদীতে রাফটিং এর জন্য যেতে পারেন। এই দিন আসলে রাফটিং এ বেশী সময় দিলে ভালো লাগবে। আর রাফটিং এর সাথেই সাসপেনশন ব্রিজ (Suspension Bridge) দেখা হবে। সময় থাকলে ন্যাশনাল পার্ক আর টর্সা ন্যাচারাল রিজার্ভার দেখে আসতে পারেন। তবে হ্যাঁ, সন্ধ্যার মধ্যে পুনাখা থেকে থিম্পু হোটেলে ফিরে আসলে ভালো কারণ পরের দিন আবার পারোর উদ্দ্যেশে রওনা দিতে হবে। তাই রাতে ভালো ঘুমের দরকার আছে।

পারো যেতে পারবেন ট্যাক্সি বা গাড়ি ভাড়া করে। সকালে চলে যেতে পারেন চেলে লা পাসে যা ভুটানের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা। এখান থেকে জলমহরি পর্বত দেখা যায়। তারপর এক এক করে গাড়ি বা ট্যাক্সি ভাড়া করে টাইগারস নেস্ট (Tiger Nest), ন্যাশনাল মিউজিয়াম, রিনপুং জং, পারো মনস্ট্রি (Paro Taktsang), কিচু মনস্ট্রি, পারো চু সহ আরও কিছু জায়গা ঘুরে দেখবেন।

পারোতে একদিন থেকে তাং সাং দেখলে ভালো হবে কারন শহর থেকে তাং সাং ৮০ কিলো দূরে। আর রাতে পারোতেই থাকা ভালো আর সন্ধ্যার মধ্যেই সকালে ফুন্টশোলিং যাবার টিকিট কেটে রাখতে হবে। আর বিমানে ঢাকায় ফিরতে হলে পারো থেকে আর ফুন্টশোলিং যেতে হবে না, পারোতেই থেকে যেতে হবে। তারপর পারো বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ড্রুক এয়ারলাইন্স এ ঢাকায় ফেরা যাবে। আর সেই ক্ষেত্রে পারোর বাকি জায়গা গুলো দেখে নিতে পারবেন যা আগে দেখা বাকি ছিল। তাই বিমানে ভুটান আসা যাওয়া করলে এক দিন সময় কম লাগতে পারে।

আরো পড়ুন      জীবনী  মন্দির দর্শন  ইতিহাস  ধর্ম  জেলা শহর   শেয়ার বাজার  কালীপূজা  যোগ ব্যায়াম  আজকের রাশিফল  পুজা পাঠ  দুর্গাপুজো ব্রত কথা   মিউচুয়াল ফান্ড  বিনিয়োগ  জ্যোতিষশাস্ত্র  টোটকা  লক্ষ্মী পূজা  ভ্রমণ  বার্ষিক রাশিফল  মাসিক রাশিফল  সাপ্তাহিক রাশিফল  আজ বিশেষ  রান্নাঘর  প্রাপ্তবয়স্ক  বাংলা পঞ্জিকা