মনস্কামনা অনুযায়ী পুজো করলে প্রসন্ন হন বিঘ্নহন্তা

মনস্কামনা অনুযায়ী পুজো করলে প্রসন্ন হন বিঘ্নহন্তা

গণেশের অপর নাম বিঘ্নহর্তা। আবার তিনি বুদ্ধির দেবতা, তাঁর পুজো করলে তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী হওয়া যায়। ভাদ্রপদ মাসের চতুর্থী তিথিতে গণেশ উৎসব পালিত হয়। গণেশ চতুর্থীর দিন যে ব্যক্তি নিজের বাড়িতে নিয়ম-নীতি মেনে গণেশ পুজো করেন, তাঁর সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়।

মনস্কামনা অনুযায়ী কিছু প্রার্থনা করলে গণেশ প্রসন্ন হয়ে তা পূরণ করেন। কেউ যদি কোনও কারণে দুশ্চিন্তিত থাকেন ও শান্তি লাভ করতে না-পারেন, তা হলে গণেশ অথর্বশীষ পাঠ করা উচিত।

এই পাঠ শান্তি প্রদান করে। গণেশ চতুর্থীর দিন বাড়িতে গণেশ যন্ত্র স্থাপিত করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। মনে করা হয়, এই যন্ত্র বাড়িতে স্থাপন করলে ধনাত্মক শক্তির সঞ্চার হয়। পাশাপাশি, কোনও অশুভ শক্তিও বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে না। গজমুখ হওয়ায় তিনি গজানন।

গণেশ চতুর্থীর দিন হাতিকে সবুজ ঘাস খাওয়ানো উচিত। এতে প্রসন্ন হয়ে গণেশ, আপনার ওপর ক্রমাগত আসতে থাকা সমস্যা দূর করেন ও সমস্ত সংকট থেকে রক্ষা করেন। এদিন মন্দিরে গিয়ে গণপতি দর্শন ও প্রার্থনা করা উচিত।

আর্থিক অনটন দূর করার জন্য গণেশকে শুদ্ধ ঘি ও গুড়ের ভোগ দেওয়া উচিত। পরে ভোগের গুড় ও ঘি গোরুকে খাইয়ে দিন। চতুর্থী থেকে শুরু করে অনন্ত চতুর্দশী পর্যন্ত এই রীতি পালন করুন।

এর ফলে আর্থিক সমস্যা দূর হতে শুরু করবে ও অর্থ সঞ্চয় সম্ভব হবে। আবার ব্যবসা বা চাকরিতে উন্নতির জন্য গণেশ চতুর্থীর দিনে হলুদ রঙের গণেশ প্রতিমা নিজের বাড়িতে নিয়ে আসুন। এর পর তাঁর পুজো করে গোটা হলুদ অর্পণ করুন।

গোটা হলুদ অর্পণ করার সময়ে ‘শ্রী গজবকত্রম নমো নমঃ’ মন্ত্রের জপ করুন। এই মন্ত্র জপ করার সময়ে ১০৮টি দূর্বার গাঁঠে ভেজা হলুদ লাগিয়ে গণেশকে অর্পণ করুন। দশ দিন পর্যন্ত এই রীতি পালন করলে উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়।

বিবাহে বাধা এলে বা বিয়ের জন্য কোনও সুযোগ্য পাত্র অথবা পাত্রী না-পেলে, ২১টি গুড়ের টুকরো ও দূর্বা গণেশকে অর্পণ করা উচিত। এর ফলে বিয়ের পথে আগত বাধা দূর হয় ও শীঘ্র বিয়ের যোগ সৃষ্টি হয়।