চার বছরে হাজার কোটি টাকার মালিক যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বিনয় মিশ্র

চার বছরে হাজার কোটি টাকার মালিক যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক  বিনয় মিশ্র

দক্ষিণ কলকাতার চেতলা এলাকার বাসিন্দা। বছর ছ'য়েক আগে ছিলেন মার্বল ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বিনয় মিশ্র একটি অফিসে হিসেবরক্ষকের কাজ করতেন বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর। বিনয় ঘনিষ্ঠদের কথায়, ২০১৫ সালের পর থেকে এক যুব সাংসদের নজরে আসার পর থেকেই বিনয়ের উত্থান।

ওই সাংসদের হাত ধরেই ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে উঠতে থাকেন তিনি। গত জুলাইয়ে রাজ্য যুব তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক করা হয় বিনয়কে। তাঁকে পুলিশি নিরাপত্তাও দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিনয়ের উত্থান চমকে দেওয়া মতোই। বাণিজ্য নিয়ে স্নাতক হওয়ার পর গৃহশিক্ষকতা করতেন বিনয়।

মেধাবি ছাত্রও ছিলেন তিনি। বিভিন্ন ‘চাটার্ড ফার্ম’-এর সঙ্গে তাঁর যোগযোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও তাঁর পরিচয় হতে শুরু করে। মার্বেলের কারবারও করেছেন তিনি। তার পর, চোখধাঁধানোর মতো সম্পত্তির মালিক হতে শুরু করে। ২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত সাদামাটা জীবনেই অভ্যস্ত ছিলেন বিনয়।

রাসবিহারীতে পেল্লায় বাড়ি, চেতলায় একটি আবাসনে ৩টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। লেকডাউনেও একটি বাড়ির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। আজ, কৈখালিতেও তাঁর আরও একটি  ফ্ল্যাটের খোঁজ মেলে। গরুপাচারের ঘটনায় যাঁদের সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁরা বিনয় মিশ্রের ডেরায় বৈঠক করত বলে জানা যাচ্ছে।

ভুয়ো নামে কোম্পানি খুলে কোটি কোটি টাকা গায়েব করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এক দিকে যেমন বিনয়ের ডেরায় তল্লাশি চলছে, তেমনই প্রভাবশালীদের বিষয়ে খোঁজ শুরু হয়েছে।   সিবিআইয়ের কেস ডায়েরিতে বিনয়ের পরিচয়, রাজ্যের একজন প্রথম সারির নেতা এবং কয়লা পাচার চক্রের কিংপিন অনুপ মাজি ওরফে লালার ‘প্রটেক্টর’ হিসাবে।

হাজার হাজার কোটি টাকার বেআইনি কারবারের কাটমানি তাঁর হাত ঘুরেই পৌঁছয় এ রাজ্যের কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বর কাছে। এইসব বেআইনি কারবার দেখেও না দেখার ভান করে পুলিস এবং প্রশাসন। বিনয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ বলে জানা যাচ্ছে। কয়েক হাজার টাকার মালিক বিনয়ের উপার্জনের উৎস কী?

তার সন্ধানেই নেমেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বিভিন্ন সূত্র মারফত গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গরু এবং কয়লা পাচার-কাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বিনয়ের। তা নিশ্চিত হতেই বিনয়কে জেরা করতে চায় সিবিআই। ইতিমধ্যে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। জারি হয়েছে লুকআউট নোটিসও।