করোনা প্রতিরোধে ব্রহ্মাস্ত্র হয়ে উঠতে পারে বাঙালির প্রিয় ডিম

করোনা প্রতিরোধে ব্রহ্মাস্ত্র হয়ে উঠতে পারে বাঙালির প্রিয়  ডিম

আজবাংলা     সানডে হো ইয়া মনডে রোজ খাও আন্ডে- জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন লাইন৷ কিন্তু আদৌ কি রোজ ডিম খাওয়া উচিত৷ সকলেরই কি এরকমভাবে ডিম খাওয়ার অনুমতি দেন চিকিৎসকরা ৷ একটা জিনিস নিশ্চিত ডিম একটি সুষম খাবার৷ আর এতে একাধিক গুণাগুন রয়েছে৷ বিশেষত করোনা ভাইরাস আবহে ইমিনিউটি নিয়ে যখন এত কথা হচ্ছে তখন ডিমকে কি দূরে সরিয়ে রাখা যায়৷ 

সকালের জল খাবারে প্রতিদিন ডিম খাওয়াই যায়৷ তবে না ডিম ভাজা না খেয়ে প্রতিদিন একটি করে সেদ্ধ ডিম খাওয়া যেতেই পারে ব্রেকফাস্টে৷ তাড়াহুড়ার কারণে যদি জল খাবার খাওয়ার সময় না থাকে তাহলেও একটি সেদ্ধ ডিম খেয়েই সেরে নিন সকালের জল খাবার। সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন, প্রোটিন৷ফলে সকাল বেলা একটি সেদ্ধ ডিম খেলে সারাদিন শরীরে শক্তি পাওয়া যায়।

সেদ্ধ ডিমে শরীরের জন্য উপকারী মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড কোলস্টোরল আছে। এগুলো স্যাচুরেটেড ফ্যাটকে সরিয়ে দিয়ে তার স্থান দখল করে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে। ফলে হার্ট ভালো থাকে। ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়বেটিসের জন্য এধরণের ফ্যাটগুলো খুবই উপকারী।সেদ্ধ ডিমের দুই তৃতীয়াংশই এ ধরণের উপকারী ফ্যাট দিয়ে গঠিত।সেদ্ধ ডিমে প্রাকৃতিক ভাবেই প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে।

সকাল বেলা জল খাবারে একটি সেদ্ধ ডিম খেলে ৬ গ্রামের বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়।ডিমের একটি প্রধান খাদ্য উপাদান হলো ভিটামিন এ। ভিটামিন এ রেটিনা ভালো রাখতে সাহায্য করে৷ কর্নিয়ার পাশের মেমব্রেনকে রক্ষা করে ৷ প্রতিদিন সকালে একটি সেদ্ধ ডিম খেলে খাবার তালিকায় ৭৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ যুক্ত হয়।সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন ডি যা হাড় ও দাঁত শক্ত করে। ভিটামিন ডি খাবার থেকে ক্যালসিয়াম ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তের ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

ফলে শরীরের হাড়ের কাঠামো মজবুত ও শক্ত হয় এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ হয়। প্রতিদিন সকালের জল খাবারে একটি সেদ্ধ ডিম খেলে ৪৫ আন্তর্জাতিক ইউনিট ভিটামিন ডি পাওয়া যায় যা হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।একটি বড় সেদ্ধ ডিমে প্রায় ৮০ ক্যালোরি আছে। ব্রেকফাস্টে খাবারে একটি মাত্র সেদ্ধ ডিম খেলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যায় এবং দূর্বলতা হ্রাস পায়। তবে মাত্রা নিশ্চিতভাবে মেপে খেতে হবে৷ ডিম অত্যন্ত সুস্বাদু বলে যদি বেশি সংখ্যায় কেউ খেতে থাকেন তাহলে তা শরীরের ক্ষতিসাধন করতে পারে৷