সি ভি আনন্দ বোস এর জীবনী

সি ভি আনন্দ বোস এর জীবনী

আনন্দ বোস ১৯৭৭ ব্যাচের কেরল ক্যাডার আইএএস কর্মকর্তা। তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তিনি কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর সচিব, জেলাশাসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভারত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। কাজ করেছেন মেঘালয় সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও।

ইংরেজি, হিন্দি ও মালয়ালম ভাষায় তার দক্ষতা রয়েছে। তিনি প্রায় ৪০টি বইয়ের রচয়িতা। তিনি ২৯টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। শিক্ষাজীবনে ১৫টি স্বর্ণপদকসহ তিনি ১০০টির বেশি পদক লাভ করেন। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে প্রথম চাকরিতে কলকাতাতেই তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের বাইশতম রাজ্যপাল হিসেবে সি ভি আনন্দ বোস (C. V. Ananda Bose) ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর সম্প্রতি নিযুক্ত হন।

  আনন্দ বোস তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে জেলাশাসক, মুখ্যসচিব, সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন এর আগে।  ১৯৫১ সালের ২ জানুয়ারি কেরালার কোট্টায়াম জেলার একটি গ্রামে সি ভি আনন্দ বোস -এর জন্ম হয়। তাঁদের আসল পদবি কিন্তু  ‘বোস’ নয়। তাঁর বাবার নাম বাসুদেবন নায়ার এবং মায়ের নাম পদ্মাবতী আম্মা। তাঁর বাবা ছিলেন সুভাষচন্দ্রের ভক্ত।

মূলত নেতাজি সুভাষের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা থেকেই তিনি তাঁর পাঁচ পুত্র এবং তিন কন্যার মধ্যে ছয় জনের নামের শেষেই বোস পদবি যোগ করে দিয়েছিলেন। সেই প্রথা অনুসরণ করে সি ভি আনন্দ বোস তাঁর পুত্র বাসুদেব ও প্রয়াত কন্যা নন্দিতার নামের শেষেও ‘বোস’ পদবি যোগ করে দিয়েছেন।   বিদ্যালয় শিক্ষা সমাপ্তের পর আনন্দ বোস  কোট্টায়ামের কুরিয়াকোস এলিয়াস কলেজে ভর্তি হন। এখান থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক হওয়ার পর কেরালা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর পাস করেন।  এরপর তিনি বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্স, পিলানি থেকে দর্শনে পি এইচ ডি করেন। 

সি ভি আনন্দ বোস -এর কর্মজীবন শুরু হয় কলকাতায় স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (এস বি আই) প্রোবেশনারি অফিসার হিসাবে। এস বি আই এর  শ্যামবাজার ও চৌরঙ্গি  শাখায় কাজ করেছেন তিনি। কলকাতায় থাকতেন রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে। এখানে থাকাকালীন সময়ে ‘চৌরঙ্গির ফুলগুলি’ নামে  মালয়ালমে তাঁর ছোটগল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়। আনন্দ ১৯৭৭ সালের আইএএস পাস করেন । সরকারি আমলা হিসাবে তাঁর সমগ্র কর্মজীবনে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এছাড়া কেন্দ্রীয় বহু প্রকল্পও ছিল তাঁর মস্তিষ্ক প্রসূত।

আমলা হিসেবে কেরলে ‘সকলের জন্য আবাসন’-এর লক্ষ্যে তাঁর কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে জ্যোতি বসু তাঁকে বক্রেশ্বরে গরিবদের জন্য কম খরচে আবাসন তৈরি করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। বাগ্মী হিসাবে বেশ খ্যাতি আছে আনন্দের। টানা তিন বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা বক্তা হয়েছিলেন তিনি। এমনকি মুসৌরিতে আইএএস অফিসারদের  প্রশিক্ষণ কেন্দ্র লালবাহাদুর শাস্ত্রী ট্রেনিং অ্যাকাডেমির বিতর্কসভাতেও প্রথম হয়েছিলেন তিনি।  কর্মজীবনে কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর সচিব হিসাবে কাজ করেছেন আনন্দ বোস ।

এছাড়াও কেরল সরকারের বিভিন্ন দফতরে প্রধান সচিব হিসাবে তিনি তাঁর দায়িত্ব সামলেছেন। সার্ন (ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ) এবং  জেনেভা অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ফিউশন এনার্জি অর্গানাইজেশনে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। অ্যাটমিক এনার্জি এডুকেশন সোসাইটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হওয়ার আগে যেমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব সামলেছেন তেমনি মেঘালয় সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজও করেছেন।

আরো পড়ুন      জীবনী  মন্দির দর্শন  ইতিহাস  ধর্ম  জেলা শহর   শেয়ার বাজার  কালীপূজা  যোগ ব্যায়াম  আজকের রাশিফল  পুজা পাঠ  দুর্গাপুজো ব্রত কথা   মিউচুয়াল ফান্ড  বিনিয়োগ  জ্যোতিষশাস্ত্র  টোটকা  লক্ষ্মী পূজা  ভ্রমণ  বার্ষিক রাশিফল  মাসিক রাশিফল  সাপ্তাহিক রাশিফল  আজ বিশেষ  রান্নাঘর  প্রাপ্তবয়স্ক  বাংলা পঞ্জিকা ।