কয়লা কাণ্ডে লালার চার শাগরেদকে গ্রেফতার করল সিবিআই

কয়লা কাণ্ডে লালার চার শাগরেদকে গ্রেফতার করল সিবিআই

কয়লা দুর্নীতি মামলায় (Coal Scam) অন্যতম অভিযুক্ত পুরুলিয়ার ব্যবসায়ী অনুপ মাজি ওরফে লালার চার শাগরেদকে গ্রেফতার করল সিবিআই। ধৃতদের নাম নারায়ণ নন্দ, জয়দেব মণ্ডল, নীরদ মণ্ডল ও গুরুপদ মাজি। এদিন বাঁকুড়া ও আসানসোলে অভিযান চালায় সিবিআই। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করে এই চার জনকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। কয়লা কাণ্ডে বেশ কিছুদিন ধরেই তত্‍পর সিবিআই ও ইডি।

ইতিমধ্যে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে ডেকে জেরা করেছে। রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককে বেশ কয়েক বার নোটিস পাঠানো হলেও তিনি এখনও হাজিরা দেননি। গত শুক্রবার ইডি এই মামলাতেই জেরা করেছিল এডিজি সিআইডি জ্ঞানবন্ত সিংকে। লালাকে গ্রেফতার করতে পারছে না সিবিআই।

কারণ তাঁর সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়লা কাণ্ডে বাঁকুড়া থানার একদা আইসি অশোক মিশ্র, বিনয় মিশ্রর ভাই বিকাশ মিশ্রকে গ্রেফতার করেছে। লালার ডেরায় এর আগে একাধিক বার তল্লাশিতে গিয়েছিল সিবিআই। বিশেষ আদালতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি জানিয়েছিল, লালার বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে একাধিক কাঁচা হিসেবের খাতা পাওয়া গিয়েছে। যাতে একাধিক প্রভাবশালীর নাম রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন সেই লালার চার শাগরেদকে গ্রেফতার করল সিবিআই।

পুরুলিয়ার সাঁতুড়ি বলিতোড়ায় লালা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গুরুপদ মাজির বাড়ি ও অফিস সমেত চার জায়গায় হানা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা।জানা গিয়েছিল, এই দুই ব্যক্তিই কয়লা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে, বাম আমলে কয়লা পাচারের গোটা সাম্রাজ্য ছিল জয়দেব মণ্ডলের হাতে। তারপর বাম জমানা শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুইটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন ওই ব্যবসায়ী। ২০১১ সালে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকা থেকে জয়দেবকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু হাতিয়ারও বাজেয়াপ্ত করা হয়। তারপর জামিনে মুক্তি পেয়ে যান তিনি। এদিকে, পুরুলিয়ায় যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে গুরুপদ মাজির।