একুশে জুলাই-এ মমতার ভাষণে উধাও সিপিএম, নিশানায় বিজেপি

একুশে জুলাই-এ মমতার ভাষণে উধাও সিপিএম, নিশানায় বিজেপি

এবার একুশের শহিদ মঞ্চ থেকে কংগ্রেস-সিপিএমকে নিয়ে একটা কথাও বললেন না মমতা। আগাগোড়া শুধু নিশানা করে গেলেন বিজেপিকে। একুশে জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ এক অর্থে স্বতন্ত্র। এতদিন কোনও ভাষণে তাঁকে দেখা যায়নি সিপিএমকে আক্রমণ করতে   । এবার একুশের শহিদ মঞ্চ হয়ে গেল বিজেপিকে আক্রমণ মঞ্চ। দিল্লির মমতার ভার্চুয়াল ভাষণ শুনে একুশের মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন কংগ্রেসের পি চিদন্বরম ও দিগ্বিজয় সিং। এছাড়া এনসিপির শারদ পাওয়ার একাধিক আঞ্চলিক দলের নেতা-নেত্রীরাও ছিলেন।

কংগ্রেস যেহেতু ছিল, কংগ্রেসকে নিয়ে কোনও কথা বলার উপায় ছিল না। কিন্তু সিপিএমের কেউ ছিলেন না মমতার ভার্চুয়াল ভাষণের মঞ্চে। তাহলে কেন সিপিএমকে বিঁধলেন না কেন মমতা? রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে সিপিএম নিয়ে কেন স্পিকটি নট মমতা। তাঁর কি কোনও পরিকল্পনা রয়েছে সিপিএমকে নিয়ে এই নীরবতায়। অথচ ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ সিপিএমের বিরুদ্ধেই। সেখানে সিপিএম বা কংগ্রেস নিয়ে কোনও কথা বললেন না মমতা। মমতার ডাকে সাড়া দেওয়ায় শুধু ধন্যবাদ দিলেন কংগ্রেসকে।

একুশে জুলাই মমতার ভাষণ একেবারই অন্য আঙ্গিকে। সেখানে প্রতি ছত্রে ছত্রে শোনা গেল বিজেপিকে আক্রমণ। আর বিজেপির অপশাসন মুক্ত করতে বিরোধী ঐক্য গড়ার বার্তা। অন্য সভায় তিনি যা বলে থাকেন, এদিন তার ধারেকাছেও গেলেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় প্রত্যেক মঞ্চ থেকে বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসকে এক সূত্রে নিশানা করতেন। জগাই-মাধাই-গদাই বলে কটাক্ষ করতেন। সেসব উধাও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ব্রিগেড সমাবেশের কথা ঘোষণা করেন।

সেখানে সোনিয়া গান্ধী ও শারদ পাওয়ার-সহ বিজেপি বিরোধী শক্তিকে সেই মঞ্চে হাজির করানোর কথা বলেন। সেখানে তিনি কেরলের সিপিএম নেতৃত্বাধীন সরকারকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। সেই আভাস তিনি রেখে গেলন তাঁর একুশের ভাষণে। এই দিন নতুন চেহারায় প্রকাশিত জাগো বাংলা দেখে অনেকেই খানিকটা বিস্মিত হয়েছেন পত্রিকার লাল রঙের ব্যবহার দেখে। কাগজের মাস্ট হেডে জাগো বাংলা শব্দটি পুরোটাই লাল রঙের লেখা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি পাতায় বিভিন্ন সেগমেন্টের শিরোনামে আছে যথেষ্ট পরিমাণে লাল রঙের ব্যবহার। 

এমনকি লাল রঙে বাংলার একটি ম্যাপও চেপেছে জাগোবাংলা। চোখে পড়ার মতো লাল রংয়ের এমন ব্যবহারের ব্যাখ্যা তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। যদিও মমতার রাজনৈতিক উত্থান পর্বে লাল রং, লাল শব্দটি ছিল পরিত্যাজ্য। সিপিএমের সন্ত্রাসের নিয়ে বলতে গিয়ে বারেবারেই বলতেন লাল সন্ত্রাস শব্দটি। আবার তৃণমূলের সরকার গঠনের পর থেকেই দল ও সরকারের প্রতীকী রং হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে নীল-সাদা। সেই দলের মুখপত্রে লাল রংয়ের বহুল ব্যবহার নিয়ে দলের ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হয়নি।

নেতারা সকলেই দলের একুশের সভা নিয়ে ব্যস্ত। তবে মনে করা হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন বার্তা দিতে, যে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খাতায়-কলমে একটি ডানপন্থী দলের নেত্রী হলেও তার ভাবনা, পথচলা সবকিছুই বামপন্থী ঘরানায় জারিত। তাঁর সরকারের কর্মসূচির মধ্যেও আছে বামপন্থী ভাবনা চিন্তার ছাপ।