চাণক্য নীতি | সব সময় অর্থকষ্টে ভোগে কোন ধরনের মানুষেরা

চাণক্য নীতি |  সব সময়  অর্থকষ্টে ভোগে কোন ধরনের মানুষেরা

চাণক্য পন্ডিত ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক অনন্য অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। চাণক্য নীতি Chanokyo Niti বা বানীর জন্য তিনি আমাদের কাছে অবিস্মরণীয়। খ্রিস্টপূর্ব 370 থেকে 283 অব্দ পর্যন্ত ছিল তার জীবনকাল। একাধারে তিনি ছিলেন দার্শনিক, পন্ডিত, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিবিদ। এত বছর পুরনো কালেও চানক্য তার চানক্য নীতি কথা বানীর মধ্যে দিয়ে যে ভূমিকা আমাদের সমাজের জন্য রেখে গেছেন তা আজও আমাদের কাছে অনবদ্য।

চাণক্যের আরেক নাম ছিল কৌটিল্য । কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র ভারতবর্ষে এখনো পর্যন্ত অদ্বিতীয় একটি গ্রন্থ।চাণক্যের বাণী আজও আমাদের সামাজিক, মানসিক, রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয় জীবন সবদিক থেকেই আমাদের কে সুন্দর এবং সুপরিকল্পিত ভাবে বাঁচতে সাহায্য করে। নিচে চাণক্য নীতি র কিছু মূল্যবান বাণী উল্লেখ করা হলো। 

ঋনকর্তা পিতা শত্রুর্মাতা চঃ ব্যভিচারিণী।
বার্তা রূপবতী শত্রুঃ সুত্রঃ শত্রুরপন্ডিতঃ।। 

যে সকল মানুষ ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা করেন না তাদের ঘরে কখনোই লক্ষী বসবাস করে না। নেতিবাচকতা একজন ব্যক্তির দক্ষতা নষ্ট করে দেয়। ভাল মন্দের বিভেদ বোঝার ক্ষমতা দূর করে। পাশাপাশি যে মানুষ খারাপ কাজ করে এবং লোকের নামে খারাপ কথা শুনতে আগ্রহী তারাও লক্ষীহীন হন। পাশাপাশি, লোভী মানুষেরও কখনো অর্থকষ্ট দূর হয় না৷ লোভ মানুষকে নিষ্ঠুর ও স্বার্থপর করে তোলেন। এই ধরনের মানুষকে মা লক্ষী একেবারেই পছন্দ করেন না

সব সময় ভাল মানুষের সংস্পর্শে থাকা উচিত। তাঁরা সব সময় আপনাকে ঠিক পরামর্শ দেবেন। যখন চারপাশে অসৎ লোক ভিড় করে, তখন মানুষ ঠিক ভুলের পার্থক্য করতে পারে না। একদিন তার পরিণাম ভুগতে হয়, যন্ত্রণায় ভরে যায় গোটা জীবন। বলছে চাণক্য নীতি। আচার্য চাণক্য বলেছেন, মানুষকে তার সঙ্গীর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সঙ্গ অসৎ হলে ব্যক্তির মধ্যে ভুল চরিত্রলক্ষণ ফুটে ওঠে। বুদ্ধি-বিবেক প্রয়োগ করা বন্ধ হয়ে যায়, ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, ফলে পস্তাতে হয়। সেই রাজাই সফল হন, যাঁর পরামর্শদাতারা সৎ। যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য সবাইকে ভুল বোঝায়, তাদের থেকে দূরে থাকা ভাল।  তাই দেখে নিন চাণক্যের পরামর্শ। 

 আলোচনা থেকে কখনও পিছিয়ে আসবেন না- যে আলোচনায় ভয় পায়, সে কখনও সফল হতে পারে না। আলোচনাই মানুষের ভুল ধরিয়ে তাকে এগিয়ে নিয়ে চলে। তাই যে বন্ধু আপনার সমালোচনা করেন তিনিই প্রকৃত বন্ধু। আর যে আপনার ভুল কাজেরও প্রশংসা করে, তার থেকে সাবধান হন।

 নিজের কাজ নিজে করুন- প্রত্যেকের নিজের কাজ নিজে করা উচিত। যে ছোট ছোট কাজের জন্যও পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তার সমস্যা বাড়তে থাকে। যাদের দিয়ে সে কাজ করায়, তারাই একদিন সমস্যায় ফেলে তাকে।

 লোভ থেকে দূরে থাকুন- লোভ বহু সঙ্কটের কারণ। লোভ মানুষকে অনেক সময় এমন সঙ্গে এনে ফেলে যার ফলে সে অন্যায় করতে বাধ্য হয়।  তাই কোনও কিছুর ওপর লোভ করবেন না।

 নিজের সুখসুবিধেয় বেশি গুরুত্ব দিলে দুর্বল হয়ে পড়বেন- যতটা প্রয়োজন তার থেকে বেশি কিছুর প্রতি আকর্ষণ সংবরণ করুন। এ কথা ভুলে গেলে সঙ্কট দেখা দেয়। তাই নিজের ক্ষমতা বুঝেই ব্যয় করুন। যে এ কথা ভুলে যায় তার ভবিষ্যতে সমস্যা বাড়ে।