আবারো চীনা সেনার অন্যায় অনুপ্রবেশ ভুটানে

আবারো চীনা সেনার অন্যায় অনুপ্রবেশ ভুটানে

আজবাংলা   আবারো চীনা সৈনিকের অন্যায় অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এবারে তাঁরা ভুটানে ধুকে গেছে। চীনা সৈনিকের গতিবিধির ওপর নজর রেখে ভারতীয় সেনাদের মনে হয়েছে, চীনারা ঝাম্ফেরি গিরিশিরার গিয়েমোচেন অবধি এলাকা অন্যায়ভাবে নিজেদের করতে চাইছে। এখন ভারত ও ভুটানের বক্তব্য, সিচেন লা-বাটাং লা ট্রাইজংশনই তিন দেশেরই সীমানার নির্ধারক।

এমন অবস্থায় ভুটানের সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, চীনা সৈনিকরা ১৩ এবং ২৪ অগস্ট তোর্সা নালার মূল ধারা হয়ে (ডোলং চু) ভুটানে ঢোকে। এরপর তারা দক্ষিণ ডোকলামে রাজা-রানি হ্রদের তীর থেকে ভুটানি পশুপালকদের তাড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, চীনা সৈনিকরা চুম্বি উপত্যকার পূর্ব ভুটানের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অন্দরে ঢুকে তারা রাস্তা এবং হেলিপ্যাড বানিয়েছে বলে অভিযোগ।

এর পাশাপাশি, চিনা বাহিনী ডোকলামের উত্তরের পাহাড়ের উপর নজরদারি যন্ত্র বসিয়েছে বলেও অভিযোগ। এর সঙ্গে তাঁরা ভুটানের পূর্ব সেক্টরের সাকতেৎ বনের প্রাণী ও বনের মালিকানার দাবীও তোলে। তবে, চীনার এই মনের ইচ্ছা পুরন হয়নি শেষপর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটি’ এর মেম্বারদের জন্য।

এখন ওই অভয়ারণ্যের পাশেই অরুণাচল প্রদেশ। ফলে বিষয়টি নিয়ে চিন্তার কারন রয়েছে ভারতের। এখন আমেরিকা-স্থিত জিইএফ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মসূচিতে আর্থিক সাহায্য করে থাকে। এরপর ২৯ জুন জিইএফ সাধারণ পরিষদের বৈঠকে চিনের প্রতিনিধি ওই অভয়ারণ্যের উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র রক্ষার জন্য ভুটানকে অনুদান দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি, ওই অভয়ারণ্যের মালিকানা ভুটানের নয়, ওটি বিতর্কিত অঞ্চল।

এখন ওই বৈঠকে উপস্থিত ভারতের প্রতিনিধি অপর্ণা সুব্রমণি চিনের ওই দাবিকে বিরোধিতা করেন। এর পাশাপাশি নেপালে থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরাও বেজিংকে সায় দেননি। এই পরিস্থিতিতে সাকতেং সংরক্ষণ প্রকল্পের (প্রজেক্ট নম্বর ১০৫৬১) জন্য ভুটানের অনুদান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন জিইএফ কর্তৃপক্ষ।

এই সীমান্তের সমস্যা শুরু ১৯৮৪ সাল থেকে। এখনো অবধি মোট ২৪ রাউন্ড বৈঠক হয়ে গেছে। আগের সবকটি বৈঠকে এবারের মত সমস্যা দেখা যায়নি। এখন চীনার প্রতিনিধি নতুন করে এই বিষয়টির ওপর জোর দেয়। এখন সূত্র মারফৎ জানা গেছে,  মধ্য সেক্টরে ভুটানকে ৪৯৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ছেড়ে দিয়ে বিনিময়ে পশ্চিম সেক্টরে ২৬৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চেয়েছে চিন।