Comilla| বাংলাদেশের গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা কুমিল্লা

Comilla| বাংলাদেশের গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা কুমিল্লা

 বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা কুমিল্লা। বাংলাদেশ ৬৪টি জেলাতে বিভক্ত। বেশিরভাগ জেলাই স্বাধীনতার আগে থেকে ছিল, কিছু জেলা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গঠিত, আবার কিছু জেলা একটি মূল জেলাকে দুভাগে ভাগ করে তৈরি হয়েছে মূলত প্রশাসনিক সুবিধের কারণে। প্রতিটি জেলাই একে অন্যের থেকে যেমন ভূমিরূপে আলাদা, তেমনি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকেও স্বতন্ত্র। প্রতিটি জেলার এই নিজস্বতাই আজ বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে। সেরকমই একটি জেলা হল কুমিল্লা জেলা (Comilla)। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত একটি মহানগরী হল কুমিল্লা জেলা। তাঁত শিল্প হোক কিংবা খাদি, রসমালাই কিংবা মৃৎশিল্প এই সবের জন্য সমগ্র বাংলাদেশে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে কুমিল্লা জেলা।

এই জেলা পূর্বে ত্রিপুরা জেলা নামে পরিচিত ছিল৷ দেশ বিভাগের পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালে এই জেলা কুমিল্লা জেলা নামে পরিচিত হয়৷ বাংলাদেশের একটি অন্যতম জেলা হল কুমিল্লা জেলা। এই জেলার উত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, দক্ষিণে ফেনী জেলা ও নোয়াখালী জেলা; পূর্ব দিকে ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশ অবস্থিত এবং পশ্চিমে চাঁদপুর জেলা, মেঘনা নদী ও মুন্সিগঞ্জ জেলা ঘিরে রয়েছে সমগ্র জেলাটিকে। এছাড়া এই জেলার উত্তর-পশ্চিমে মেঘনা নদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা অবস্থান করছে। কুমিল্লা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলির মধ্যে প্রধান নদী গোমতী। এছাড়া ডাকাতিয়া, কাঁকরী নামে আরো দুটি নদীও রয়েছে। এই জেলার অধিকাংশ অংশই আসলে প্লাবনভূমি তবে ত্রিপুরার কাছাকাছি পার্বত্যভূমিও রয়েছে।

পশ্চিমে মেঘনা সমভূমি থেকে পূর্বে ত্রিপুরা পর্বতের পাদদেশ পর্যন্ত এই জেলার ঢাল পূর্ব থেকে পশ্চিমে গড়িয়েছে। এই জেলার উৎকৃষ্ট জলবায়ুর জন্য উদ্ভিদের প্রাচুর্য দেখা যায়। গাছপালার মধ্যে আম, জাম, কাঁঠাল, তেঁতুল, বেল, বট, খেজুর, নারিকেল, শিমুলতুলা, মান্দার, সুপারি, তাল, নিম, রয়না বা পিতরাজ, কদম্ব, শেওড়া, হিজল, গাব, জাম্বুরা, কুল, বন্য জামরুল, জারুল, জলপাই, আমড়া, গামার বা মেড্ডা, শাল, শিশু, ঝাউ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কুমিল্লা জেলার মোট আয়তন ৩০৮৫.১৭ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জনসংখ্যার বিচারে কুমিল্লা জেলা সমগ্র বাংলাদেশের তৃতীয় জনবহুল জেলা। এই জেলার জনসংখ্যা সমগ্র বাংলাদেশের প্রায় ৫৬,০২,৬২৫ জন। চৈনিক পরিব্রাজক ওয়াং চোয়াঙ কর্তৃক সমতট রাজ্য পরিভ্রমণের বৃত্তান্তে ‘কিয়া-মল-ঙ্কিয়া’ (Kiamolonkia) নামক যে স্থানের বিবরণ রয়েছে সেটি থেকেই কমলাঙ্ক বা কুমিল্লার নামকরণ হয়েছে বলে পন্ডিতেরা মনে করেন। ধর্মবিশ্বাস অনুসারে কুমিল্লা জেলার মোট জনসংখ্যার ৯৪.৬২% মুসলিম, ৫.২৬% হিন্দু এবং ০.১২% বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী।

কুমিল্লা জেলার আদিনাম কমলাঙ্ক যেটির অপভ্রংশ কুমিল্লা যার অর্থ পদ্মফুলের দীঘি। এই অঞ্চল থেকে যে সমস্ত প্রাচীন নিদর্শনাদি পাওয়া গেছে তার থেকে জানা যায়, আনুমানিক খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দী থেকে ত্রিপুরা (যা পরবর্তীকালে কুমিল্লা জেলা নামে পরিচিত হয়) গুপ্ত সম্রাটদের অধীনে ছিল। নবাব সুজাউদ্দিন খানের ত্রিপুরা আক্রমণের কথা ইতিহাসে জানা যায়। ঐতিহাসিকদের মতে, সপ্তম থেকে অষ্টম শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত এই অঞ্চলে বৌদ্ধ দেববংশের রাজত্ব ছিল। নবম শতাব্দী থেকে হরিকেলের রাজারা কুমিল্লার শাসনভার অধিকার করে। তারপরে দশম শতাব্দী থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত এই অঞ্চলে চন্দ্র রাজবংশের শাসন ছিল। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায় এই জেলার শাসনভার। দেশের বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে কুমিল্লা জেলার নাম বিশেষভাবে জড়িত৷ ১৭৬৪ সালে সমশের গাজীর নেতৃত্বে ত্রিপুরার রাজাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছিল কৃষক আন্দোলন যা আজও স্মরণীয়৷ প্রিন্স ওয়ালেসের ভারত ভ্রমণের প্রতিবাদে ২১ নভেম্বর ১৯২১ সালে দেশব্যাপী ডাকা ধর্মঘটে কুমিল্লাবাসী সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেছিল। 

সেই সময় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লায় ছিলেন এবং তিনি তাঁর লেখা বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা দ্বারা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এইসময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মহাত্মা গান্ধী কুমিল্লা ভ্রমণ করেন। আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল চাষিদের বিদ্রোহ যেটি সংগঠিত হয়েছিল চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ১৯৩১ সালে। মোহিনী গ্রামের প্রায় চার হাজার চাষি রাজস্ব প্রদানের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ করে যাতে ব্রিটিশ গোর্খা সৈনিকদের অনবরত গুলিবর্ষণে চারজন চাষি প্রাণ হারান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কুমিল্লার জনগণ অংশগ্রহণ করেছিল। কুমিল্লায় বেশ কয়েকটি স্থানে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল যেমন, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, লাকসাম, হোমনা, বেলতলী এবং রসুলপুর। আবার এই জেলার বেতিয়ারা, মুদাফ্‌ফরগঞ্জ নগরিপাড়া, ক্যান্টনমেন্ট, কৃষ্ণপুর, ধনঞ্জয়, দিলাবাদ ও লাকসাম বিড়ি ফ্যাক্টরিতে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়।

অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন গান্ধীজী কুমিল্লায় ‘অভয় আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করেন যা খাদি শিল্পের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনুশীলন চক্রের আশ্রয়স্থল হিসেবে ‘অভয় আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল৷ গান্ধিজীর ডাকে বিদেশি কাপড় বর্জন করে ব্যাপক হারে চরকায় সূতা কাটা শুরু হয়েছিল। অভয় আশ্রম তখন বাজারে চরকা বিক্রির পাশাপাশি নিজেরাও খাদি বস্ত্র তৈরি করতে থাকে এবং বিভিন্ন গ্রামে তৈরি খাদি বস্ত্রও এই সময় অভয় আশ্রমের মারফত বাজারে বিক্রি হতে শুরু করেছিল। কুমিল্লা জেলায় ‘বাংলা’ ভাষার ব্যবহার প্রচলিত হলেও এই জেলার ভাষায় আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়৷ কুমিল্লার দাউদকান্দি, তিতাস, মেঘনা, হোমনা প্রভৃতি উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে সন্নিহিত ঢাকা অঞ্চলের ভাষার, চৌদ্দগ্রাম ও লাকসাম উপজেলার আঞ্চলিক ভাষায় নোয়াখালি এলাকার ভাষার অনেকটাই মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া এই জেলায় বেশ কিছু অনগ্রসর জাতি বসবাস করে যাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়৷ এই অঞ্চলে মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষরাও এখানে সমান অধিকারে বসবাস করেন। সমগ্র কুমিল্লা জেলা সতেরোটি উপজেলায় বিভক্ত। এছাড়া আঠারোটি থানা, আটটি পৌরসভা এবং সাতাশটি ওয়ার্ডযুক্ত একটি নগর-কর্পোরেশন রয়েছে কুমিল্লা জেলায়। এর উপজেলাগুলি হল যথাক্রমে – কুমিল্লা আদর্শ সদর, ব্রাহ্মণপাড়া, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, তিতাস, দাউদকান্তি, দেবিদ্বার, নাঙ্গলকোট, বড়ুরা, বুড়িচং, মনোহরগঞ্জ, মুরাদনগর, মেঘনা, লাকসাম, লালমাই, সদর দক্ষিণ এবং হোমনা। এই জেলার সংসদীয় আসনগুলির প্রতিটিই বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের শাসনাধীনে রয়েছে। কুমিল্লা জেলা ভ্রমণপিপাসু মানুষদের জন্য বটেই ইতিহাসপ্রেমী মানুষের কাছেও আকর্ষণীয়।

ঐতিহ্যবাহী অতীতের স্বাক্ষর বহন করছে এখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশনসমূহ যেগুলির মধ্যে লালমাই ময়নামতি পাহাড়ের ধ্বংসাবশেষের মাটি খুঁড়ে প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন খুজেঁ পাওয়া গেছে। এই পাহাড়ের পুরাকীর্তিগুলির মধ্যে শালবন বিহার, রাণীর বাংলোর পাহাড়, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, সতের রত্নমুড়া, কুটিলা মুড়া, চন্দ্রামুড়া, চন্ডীমুড়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব স্থান থেকে যে সমস্ত মূর্তি, ধাতব তৈজসপত্র ও অন্যান্য নিদর্শন পাওয়া গেছে তা বর্তমানে ময়নামতি জাদুঘরে রক্ষিত আছে। এছাড়া অন্যান্য ঐতিহাসিক নির্দশনের মধ্যে রয়েছে সপ্তরত্ন মন্দির (জগন্নাথমন্দির), সতিশালা জামে মসজিদ, শশীদলের পাঁচ পীরের মাজার, হরিমঙ্গল মাঠ, রামগর বড়মাঠ, সাইতশালা রামমোহন মন্দির, হাসনাবাদ মাঠ শাহ সুজা মসজিদ, ধর্মসাগর, চন্ডীমাতার মন্দির (বরুড়াতে লালমাই পাহাড়ের উপরে অবস্থিত), চান্দলা শিবমন্দির (ব্রাহ্মণপাড়া, অষ্টাদশ শতাব্দী), হাতিয়াভাঙ্গা দূর্গ এবং শালবন বৌদ্ধ বিহার।

কুমিল্লার প্রাচীন ইতিহাসের গন্ধমাখা এসব স্থান পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কুমিল্লা জেলা বহু বিখ্যাত মানুষের জন্মস্থান যারা বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও আন্তজার্তিক পর্যায়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নবাব সিরাজুল ইসলাম, মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য্য, নবাব স্যার সামশুল হুদা, হরদয়াল নাগ, রায়বাহাদুর অমিন্দচন্দ্র রায় , বসন্ত কুমার মজুমদার, ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত, শচীন দেব বর্মন, সৈয়দ আবদুল জব্বার, এম এ আযম প্রমুখ ব্যক্তিত্ব৷ এঁরা সমাজসেবা, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন স্তরে নিজেদের ছাপ রেখে গেছেন। ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন, ফজলে নিজামি এবং ফুলেন্দু দাস কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়া এলাকার বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী হলেন ডঃ আখতার হামিদ খান। কুমিল্লা জেলার খদ্দর বা খাদি সারাদেশে বিখ্যাত।

প্রাচীনকাল থেকে এখানের হস্তচালিত তাঁতশিল্প ছিল জগদ্বিখ্যাত। এই তাঁতের কাপড় বিদেশেও রপ্তানি হতো। ‘যুগী’ বা ‘দেবনাথ নামক পেশাজীবী সম্প্রদায় তাঁতশিল্পের সাথে তখন জড়িত ছিলেন। ব্রিটিশ ভারতে গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে ঐতিহাসিক কারণবশত এই অঞ্চলে খাদি-শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভের পাশাপাশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সেইসময়ে খাদি কাপড় তৈরি হতো রাঙামাটির তুলা থেকে। অসহযোগ আন্দোলনে বিদেশি বস্ত্র বর্জনে গান্ধীজির আহ্বানে সে সময় কুমিল্লায় ব্যাপক সাড়া জাগে যার পাশাপাশি খাদি বস্ত্র উৎপাদনও বেড়ে যায় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে থাকে কুমিল্লার খাদি বস্ত্র। এই বস্ত্র অচিরেই জনপ্রিয়তা অর্জন করে কুমিল্লার খাদি হিসাবে। আবার, বিজয়পুরের মৃৎশিল্পের সুখ্যাতিও নেহাত কম নয়, বাংলার লোকশিল্পের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম কুমিল্লার মৃৎশিল্প। অন্যান্য কুটির শিল্পের মধ্যে কুমিল্লার বেতের কাজ, শীতল পাটি, হুকা, মাদুর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সবশেষে এখানকার রসমালাইয়ের কথাও না বলে থাকা যায় না। 

আগে কুমিল্লাকে বলা হতো শিক্ষানগরী। কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লা শহরে অবস্থিত। কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা এই বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়। আগে সম্পূর্ণ চট্টগ্রাম বিভাগ কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ছিল। সাম্প্রতিককালে, আলাদাভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট শিক্ষা বোর্ড গঠিত হয়েছে। বর্তমানে কুমিল্লায় শিক্ষার হার ৬০.০২% (২০১১ সালের শিক্ষা জরিপ)।

 সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়  

০১ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়   ০২টি মেডিকেল কলেজ (সরকারি)   ০১ টি মেডিকেল কলেজ (বেসরকারি)   ০৩ টি ক্যাডেট কলেজঃ   ০১ টি বেসরকারি কলেজঃ   ৭৭ টি বাণিজ্যিক কলেজ  (সরকারি)   ০০ টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজঃ   ০১ টি পিটিআই   ০১ টি এইচএসটিটিআই   ০১ টি মেডিকেল এসিসটেন্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সরকারি)   ০১ টি মেডিকেল এসিসটেন্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বেসরকারি)   ০৬ টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়   ৩৩ টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল এল্ড কলেজ) সরকারি   ০৩টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল এল্ড কলেজ) বেসরকারি   ৩৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়   ১৪ টি সরকারি কলেজ   ২১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়   ৫৪৩ টি দাখিল মাদ্রাসা   ২৩০ টি আলিম মাদ্রাসা   ৭৬ টি ফাজিল মাদ্রাসা   ৬২ টি কামিল মাদ্রাসা   ১১ টি। 

প্রাথমিক বিদ্যালয়

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়   ২১০৬ টি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় (স্থায়ী)   ০০টি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় (অস্থায়ী)   ০০টি নন রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় (অনুমতি প্রাপ্ত)   ০০ টি নন রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় (অনুমতি বিহীন)   ০০ টি কিন্ডার গার্টেন   ২২৪৬ টি এনজিও পরিচালিত পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক বিদ্যালয়   ০০ টি এনজিও পরিচালিত শিক্ষাকেন্দ্র   ২৫০৩ টি স্বতন্ত্র  ইবতেদায়ী   ৫৬ টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়   ০০ টি উচ্চ মাদ্রাসা সংযুক্ত ইবতেদায়ী   ০০ টি পরীক্ষণ বিদ্যালয় (পিটিআই সংযুক্ত)   ০১ টি উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়   ১৫ টি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়   ০১ টি আনন্দ স্কুল   ০০টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়   ০০ টি শিক্ষার হার   ৬০.০২% (২০১১ সালের শিক্ষা জরিপ)।

 স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ  হাসপাতাল   ০১ টি জেনারেল হাসপাতাল   ০১ টি পুলিশ হাসপাতাল   ০১ টি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল   ০১ টি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল   ০১ টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র   ২১ টি ডায়াবেটিক হাসপাতাল   ০২ টি চক্ষু হাসপাতাল   ০২ টি পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র   ১৩ টি টিবি ক্লিনিক   ০১ টি স্কুল হেল্থ ক্লিনিক   ০১ টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র   ৪৮ টি ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র   ১৩১ টি জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হার   ৬৭.১৫%

কুমিল্লা জেলা ২৭ ওয়ার্ড বিশিষ্ট ১টি সিটি কর্পোরেশন, ১৭টি উপজেলা, ১৮টি থানা, ৮টি পৌরসভা, ১৯২টি ইউনিয়ন, ৩,৬৮৭টি গ্রাম ও ১১টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।অন্যান্য জেলাসমূহের মত, কুমিল্লা জেলাতেও একজন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) বা জেলা প্রশাসক আছেন, যিনি জেলার সকল প্রশাসনিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় শহরের ধর্মসাগরের পূর্বদিকে ফৌজদারী এলাকায় অবস্থিত। কুমিল্লা মূল শহরটি আদর্শ সদর থানার অন্তর্ভুক। 

  উপজেলা আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) প্রশাসনিক থানা আওতাধীন এলাকাসমূহ

 কুমিল্লা আদর্শ সদর     আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে)  ১৮৮.৩৯ প্রশাসনিক থানা কোতোয়ালী   সিটি কর্পোরেশন (১টি): কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ইউনিয়ন (৬টি): কালিরবাজার, দুর্গাপুর দক্ষিণ, দুর্গাপুর উত্তর, আমড়াতলী, পাঁচথুবী এবং জগন্নাথপুর

ব্রাহ্মণপাড়া   আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ১২৮.৯০ ব্রাহ্মণপাড়া ইউনিয়ন (৮টি): মাধবপুর, শিদলাই, চান্দলা, শশীদল, দুলালপুর, ব্রাহ্মণপাড়া সদর, সাহেবাবাদ এবং মালাপাড়া

চান্দিনা     আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ২০১.৯২ চান্দিনা পৌরসভা (১টি): চান্দিনা ইউনিয়ন (১৩টি): সুহিলপুর, বাতাঘাসী, মাধাইয়া, মহিচাইল, কেরণখাল, বাড়েরা, এতবারপুর, বরকইট, মাইজখার, গল্লাই, দোল্লাই নবাবপুর, বরকরই এবং জোয়াগ

চৌদ্দগ্রাম    আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ২৬৮.৪৮ চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা (১টি): চৌদ্দগ্রাম ইউনিয়ন (১৩টি): কাশিনগর, উজিরপুর, কালিকাপুর, শ্রীপুর, শুভপুর, ঘোলপাশা, মুন্সিরহাট, কনকাপৈত, বাতিসা, চিওড়া, গুণবতী, জগন্নাথদীঘি এবং আলকরা

তিতাস    আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ১০৬.৩৪ তিতাস ইউনিয়ন (৯টি): সাতানী, জগতপুর, বলরামপুর, কড়িকান্দি, কলাকান্দি, ভিটিকান্দি, নারান্দিয়া, জিয়ারকান্দি এবং মজিদপুর

দাউদকান্দি    আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ২০৮.৬৬ দাউদকান্দি পৌরসভা (১টি): দাউদকান্দি ইউনিয়ন (১৫টি): দাউদকান্দি উত্তর, সুন্দলপুর, বারপাড়া, গৌরীপুর, জিংলাতলী, ইলিয়টগঞ্জ উত্তর, ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ, মালিগাঁও, মোহাম্মদপুর পশ্চিম, মারুকা, বিটেশ্বর, গোয়ালমারী, পদুয়া, পাঁচগাছিয়া পশ্চিম এবং দৌলতপুর

দেবিদ্বার    আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ২৩৮.৩৬ দেবিদ্বার পৌরসভা (১টি): দেবিদ্বার ইউনিয়ন (১৫টি): বড়শালঘর, ইউসুফপুর, রসুলপুর, সুবিল, ফতেহাবাদ, এলাহাবাদ, জাফরগঞ্জ, গুনাইঘর উত্তর, গুনাইঘর দক্ষিণ, রাজামেহার, ভানী, ধামতী, সুলতানপুর, বরকামতা এবং মোহনপুর

নাঙ্গলকোট    আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ২৩৬.৪৪ নাঙ্গলকোট পৌরসভা (১টি): নাঙ্গলকোট ইউনিয়ন (১৬টি): বাঙ্গড্ডা, পেড়িয়া, রায়কোট, মৌকরা, মক্রবপুর, আদ্রা দক্ষিণ, জোড্ডা পশ্চিম, ঢালুয়া, দৌলখাঁড়, বক্সগঞ্জ, সাতবাড়িয়া, হেসাখাল, বটতলী, জোড্ডা পূর্ব, রায়কোট দক্ষিণ এবং আদ্রা উত্তর

বরুড়া   আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে)২৪১.৬৫ বরুড়া পৌরসভা (১টি): বরুড়া ইউনিয়ন (১৫টি): আগানগর, ভবানীপুর, খোশবাস উত্তর, খোশবাস দক্ষিণ, ঝলম, চিতড্ডা, শাকপুর, ভাউকসার, শিলমুড়ি দক্ষিণ, শিলমুড়ি উত্তর, গালিমপুর, আড্ডা, আদ্রা, লক্ষ্মীপুর এবং পয়ালগাছা

বুড়িচং  আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ১৬৩.৭৬ বুড়িচং ইউনিয়ন (৯টি): রাজাপুর, বাকশীমূল, বুড়িচং সদর, ষোলনল, পীরযাত্রাপুর, ময়নামতি, মোকাম, ভারেল্লা এবং ভারেল্লা দক্ষিণ

মনোহরগঞ্জ আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ১৬৩.৫৯ মনোহরগঞ্জ ইউনিয়ন (১১টি): বাইশগাঁও, সরসপুর, হাসনাবাদ, ঝলম উত্তর, ঝলম দক্ষিণ, মৈশাতুয়া, লক্ষণপুর, খিলা, উত্তর হাওলা, নাথেরপেটুয়া এবং বিপুলাসার

মুরাদনগর আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ৩৩৯ বাঙ্গরাবাজার ইউনিয়ন (১০টি): শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধইর পূর্ব, পূর্বধইর পশ্চিম, বাঙ্গরা পূর্ব, বাঙ্গরা পশ্চিম, চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর উত্তর এবং টনকী মুরাদনগর ইউনিয়ন (১২টি): কামাল্লা, যাত্রাপুর, রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ, মুরাদনগর সদর, নবীপুর পূর্ব, নবীপুর পশ্চিম, ধামঘর, জাহাপুর, ছালিয়াকান্দি, দারোরা, পাহাড়পুর এবং বাবুটিপাড়া

মেঘনা  আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে) ৯৮.৪৭ মেঘনা ইউনিয়ন (৮টি): চন্দনপুর, চালিভাঙ্গা, রাধানগর, মানিকারচর, বড়কান্দা, গোবিন্দপুর, লুটেরচর এবং ভাওরখোলা

লাকসাম  লাকসাম পৌরসভা (১টি): লাকসাম ইউনিয়ন (৮টি): বাকই, মুদাফফরগঞ্জ, মুদাফফরগঞ্জ দক্ষিণ, কান্দিরপাড়, গোবিন্দপুর, উত্তরদা, আজগরা এবং লাকসাম পূর্ব

লালমাই  লালমাই ইউনিয়ন (৯টি): বাগমারা উত্তর, বাগমারা দক্ষিণ, ভুলইন উত্তর, ভুলইন দক্ষিণ, পেরুল উত্তর, পেরুল দক্ষিণ, বেলঘর উত্তর, বেলঘর দক্ষিণ এবং বাকই উত্তর

সদর দক্ষিণ  সদর দক্ষিণ ইউনিয়ন (৬টি): বিজয়পুর, চৌয়ারা, গলিয়ারা, বারপাড়া, জোড়কানন পশ্চিম এবং জোড়কানন পূর্ব

হোমনা  আয়তন (বর্গ কিলোমিটারে)  ১৪২.৭৯ হোমনা পৌরসভা (১টি): হোমনা ইউনিয়ন (৯টি): মাথাভাঙ্গা, ঘাগুটিয়া, দুলালপুর, চান্দেরচর, আছাদপুর, নিলখী, ভাসানিয়া, ঘারমোড়া এবং জয়পুর

দর্শনীয় স্থান

  • অভয় আশ্রম
  • অর্জুনতলা মসজিদ
  • আনন্দবিহার
  • ইটাখোলা মুড়া
  • উজিরপুর টিলা
  • উত্তর তেতাভূমি জমিদার বাড়ি
  • কর্নেলের মুড়া
  • কুটিলা মুড়া
  • কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন
  • কুমিল্লা জগন্নাথ মন্দির
  • কুমিল্লা বিমানবন্দর
  • কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ
  • কুমিল্লা রেলস্টেশন
  • কুমিল্লা সেনানিবাস
  • কোটবাড়ি
  • কোটবাড়ি মুড়া
  • কোবা জামে মসজিদ, চর বাকর
  • গুণবতী রেলস্টেশন

  • চন্ডী মুড়া
  • চারপত্র মুড়া
  • চিতোড্ডা মসজিদ
  • ছিলা মুড়া
  • জগন্নাথ দীঘি, লাল মাঠ
  • জাহাপুর জমিদার বাড়ি
  • দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ
  • ধর্মসাগর
  • নজরুল ইন্সটিটিউট, কুমিল্লা
  • নবাব ফয়জুন্নেসা জমিদার বাড়ি
  • নূর মানিকচর জামে মসজিদ
  • পাক্কা মুড়া
  • বড় শরিফপুর মসজিদ
  • বালাগাজীর মুড়া
  • বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী
  • বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন
  • বৈরাগী মুড়া
  • ভাউকসার জমিদার বাড়ি
  • ভৈরব চন্দ্র সিংহের জমিদার বাড়ি
  • ভোজ রাজার বিহার
  • মজিদপুর জমিদার বাড়ি
  • ময়নামতি
  • ময়নামতি ওয়ার সেমেট্রি
  • ময়নামতি ঢিবি ১
  • ময়নামতি ঢিবি ১ক
  • ময়নামতি ঢিবি ১খ
  • ময়নামতি ঢিবি ২ক
  • ময়নামতি ঢিবি ২খ
  • মহেশ চ্যারিটেবল ট্রাস্ট
  • রাখাল রাজার জমিদার বাড়ি
  • রাজ রাজেশ্বরী কালী বাড়ী
  • রাজেশপুর ইকোপার্ক
  • রাণী ময়নামতি প্রাসাদ ও মন্দির
  • রূপবান কন্যা (রূপবানী) মুড়া
  • রূপবান মুড়া
  • লতিকোট মুড়া
  • লাকসাম রেলওয়ে জংশন
  • লালমাই চন্ডী মন্দির
  • লালমাই পাহাড়
  • লালমাই রেলওয়ে স্টেশন
  • শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম

  • শাহ্পুর দরগাহ্ শরীফ
  • শালবন বৌদ্ধ বিহার
  • শাহ সুজা মসজিদ
  • শ্রীকাইল সরকারি কলেজ
  • সতেররত্ন মন্দির
  • হাতিগাড়া মুড়া
  • হোচ্ছাম হায়দার চৌধুরীর জমিদার বাড়ি

যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কুমিল্লার যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নতমানের। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সড়ক 'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড' কুমিল্লা শহরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। বর্তমানে, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক কুমিল্লা শহরের পাশ দিয়ে গেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে কুমিল্লার দূরত্ব ৯৭ কিলোমিটার। সড়ক অথবা রেলপথের মাধ্যমে ভ্রমণ করা যায়। তবে রেলপথে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে মোট ১৯৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন আরএইচডি, এলজিইডি ও সিটি কর্পোরেশন সকল রাস্তা তদারকি করে থাকে। কুমিল্লাতে আরএইচডি এবং এলজিইডি'র আঞ্চলিক সদর দপ্তর রয়েছে। কুমিল্লায় একটি অব্যবহৃত বিমানবন্দর রয়েছে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা যুদ্ধবিমান উঠা-নামা করার জন্য বানিয়েছিল। আন্তজেলা বাস টারমিনালটি আশ্রাফপুরে অবস্থিত । এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর এর বাস ছেড়ে যায় ।

[ আরও পড়ুন ]