কাঁথি পুরসভা

কাঁথি পুরসভা

কনটাই মূলত হিন্দু রাজা গোপীনাথ পট্টনায়েক দ্বারা শাসিত উড়িষ্যার একটি শাখা রাজ্য হিজলি কিংডমের একটি অংশ ছিল। ১৮৫২ সালে ব্রিটিশ ভারতের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কনটইকে ছয়টি থানা সমন্বিত একটি উপ-বিভাগ হিসাবে ঘোষণা করেছিল - কনটাই, খেজুরি, রামনগর, ভগবানপুর, ইগ্রা এবং পটশপুর। কিন্তু সরকার নেগুয়ার কাছ থেকে কাজ চালিয়ে গেল।

912 বর্গমাইল (2,400 কিমি 2) জুড়ে থাকা মহকুমাটি ছিল বাংলার দ্বিতীয় বৃহত্তম। ১৮৬৩ সালে যখন কনটাইয়ের নিমক মহল (লবণের কারখানা ও ব্যবসায় কেন্দ্র) একটি মারাত্মক সঙ্কটের মুখে দাঁড় করিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়, তখন মহকুমা অফিস নেগুয়া থেকে পরিত্যক্ত নিমক মহল ভবনে স্থানান্তরিত হয়। বাংলা উপন্যাসের পূর্বসূরী বঙ্কিমচন্দ্র ছোটোপাধ্যায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে কাজ করেছিলেন।

ভারতের ২০০১ সালের আদম শুমারি অনুসারে কাঁথি শহরের জনসংখ্যা হল ৭৭,৪৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫২% এবং নারী ৪৮%। এখানে সাক্ষরতার হার ৮২%। পুরুষদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৫% এবং নারীদের মধ্যে এই হার ৭৮%। সারা ভারতের সাক্ষরতার হার ৫৯.৫%, তার চাইতে কাঁথির সাক্ষরতার হার বেশি। এই শহরের জনসংখ্যার ১০% হল ৬ বছর বা তার কম বয়সী। শহরটির অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল ২১.৭৮° উত্তর ৮৭.৭৫° পূর্ব। সমুদ্র সমতল হতে এর গড় উচ্চতা হল ৬ মিটার (১৯ ফুট)। কনটাই বর্ষার সময় ভারী বৃষ্টিপাত হয়। শীতকালে তেমন মারাত্মক হয় না। গ্রীষ্মকাল উত্তর ভারতের তুলনায় গড় এবং শীতল।

কাঁথি পুরসভার পুনর্দখল নিশ্চিত তৃণমূলের। প্রায় চার দশক পর। এতদিন কাঁথি পুরসভায় ‌‘‌রাজত্ব’‌ করত অধিকারী পরিবার। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাই কাঁথি পুরসভার দিকে আলাদা নজর ছিল। কিন্তু ২১ ওয়ার্ডের কাঁথি পুরসভায় তৃণমূল জিতেছে ১৭ ওয়ার্ডে। বিজেপি পেয়েছে মাত্র তিনটি আসন। নির্দল পেয়েছে একটি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, শুভেন্দুর বাড়ি যে ওয়ার্ডে, অর্থাৎ যে ওয়ার্ডের ভোটার অধিকারী পরিবার, সেই ১৫ নং ওয়ার্ডে জিতেছে তৃণমূল। জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী চক্রবর্তী ভট্টাচার্য। হেরেছেন কাঁথি উত্তরের বিজেপি বিধায়কও।   

১। জয়ী - সেক সাবুল (তৃণমূল) (১,১৪৭ ভোট) ২। জয়ী - শঙ্কর দাস (তৃণমূল) (১,১০২ ভোট) ৩। জয়ী - সঞ্চয়িতা জানা (তৃণমূল) (৩১৯ ভোট) ৪। জয়ী - আলেম আলি খান (তৃণমূল) (৫০১ ভোট) ৫। জয়ী - দেবাশিস পাহাড়ি (তৃণমূল) (১,০৫৫ ভোট) ৬। জয়ী- রিনা দাস (তৃণমূল) (৭৭ ভোট), ৭। জয়ী - অতনু গিরি (তৃণমূল) (২০০ ভোট) ৮। জয়ী - নিরঞ্জন মান্না (তৃণমূল) (৪৭৮ ভোট) ৯। জয়ী - লীনা দাস (তৃণমূল) (৪৫৪ ভোট) ১০। জয়ী-  অরূপ দাস (বিজেপি) (১৯২ ভোট) ১১। জয়ী - সুময় দাস (নির্দল) (১৯ ভোট) ১২। জয়ী - পম্পা জানা (তৃণমূল) (৮৫৬ ভোট) ১৩। জয়ী - সুপ্রকাশ গিরি (তৃণমূল) (২৫২ ভোট) ১৪। জয়ী- সুবল মান্না (তৃণমূল) (৭৬৮ ভোট) ১৫। জয়ী - তনুশ্রী চক্রবর্তী (তৃণমূল) (২২৮ ভোট) ১৬। জয়ী- রুমা দাস (তৃণমূল) (৬৮২ ভোট) ১৭। জয়ী- দুলাল রায় (বিজেপি) (১৮৮ ভোট) ১৮। জয়ী - সুশীল দাস (বিজেপি) (৭১৯ ভোট) ১৯। জয়ী - নিত্যানন্দ মাইতি, (তৃণমূল) ২০। জয়ী- শ্রাবনী পাল (তৃণমূল) ২১। জয়ী- সন্দীপ জানা (তৃণমূল)