আমফানের পর পুরোহিত ভাতাতেও দুর্নীতি! প্রাপকদের তালিকায় নাম অব্রাহ্মণ তৃণমূল নেতার

আমফানের  পর পুরোহিত ভাতাতেও দুর্নীতি! প্রাপকদের তালিকায় নাম অব্রাহ্মণ তৃণমূল নেতার

কৃষ্ণনগর   গত মাসের ১৪ তারিখে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে ব্রাহ্মণদের ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের আট হাজার দুঃস্থ ব্রাহ্মণদের প্রতি মাসে এক হাজার করে টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। পুজোর মাস থেকেই সেই ভাতা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি।

 

সেই অনুযায়ী সবই ঠিক চলছিল। তাল কাটল সুবিধাপ্রাপ্ত পুরোহিতদের তালিকা প্রকাশের পড়ে। কারণ অব্রাহ্মণ ব্যক্তিদের নাম দেখা গিয়েছে সেই তালিকায়। আমফানের  ক্ষতিগ্রস্তদের মতোই এবার পুরোহিত ভাতার তালিকা তৈরিতেও বেনিয়মের অভিযোগ উঠল।

অভিযোগ, পুরোহিত ভাতার তালিকায় এমন বেশ কিছু পদবীর ব্যক্তির নাম রয়েছে যারা আদতে ব্রাহ্মণ নয়।চলতি সপ্তাহে নদিয়া জেলার তেহট্ট এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক পুরোহিত ভাতা এবং বাংলা আবাস যোজনার অধীনে ঘর পাওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা প্রকাশিত হয়।

সেখানে দেখা গিয়েছে যে তালিকায় বহু পুরনো মন্দিরের পুরোহিতদের নাম না থাকলেও নাম রয়েছে নদিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্যা টিনা সাহার স্বামীর নামও! এদিকে যারা বহু বছর ধরে বিভিন্ন মন্দিরে পুজো করে আসছেন তাঁদেরই নাম নেই।

ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তেহট্ট মহাকুমা এলাকার পুরোহিতেরা। বুধবার ভাতার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জানাতে ব্লক অফিস যান তেহট্টের ব্রাহ্মনরা।বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের তরফে কারা তালিকাটি বানিয়েছেন তা নিয়ে। এ প্রসঙ্গে তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারেননি।

তবে তেহট্ট-১ বিডিও অচ্যুতানন্দ পাঠক জানিয়েছেন, জেলা থেকেই তাঁদের কাছে পুরোহিত ভাতার একটি তালিকা পৌঁছয়। সেই তালিকা অনুসারে পুরোহিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। একথা শোনার পর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধিকাংশ পুরোহিত।

তাঁদের কথায়, সাহা, ঘোষ, সরকার, বিশ্বাস পদবীধারী ব্যক্তিরা কখনই ব্রাহ্মণ হতে পারেন না। তাঁদের অভিযোগ, জেলা পরিষদের সদস্য টিনা সাহার স্বামী নিলয় সাহা কখনই ব্রাহ্মণ হতে পারেন না। সেক্ষেত্রে তার নাম তালিকায় এল কিভাবে? স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাহ্মণরা।

এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রাজ্যের একাধিক জেলায়। ঘোষ, সরকার, বিশ্বাস পদবির ব্যক্তিদের নাম রয়েছে পুরোহিত ভাতা প্রাপকদের তালিকায়। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। আরও বড় বিষয় হচ্ছে এই সুবিধা প্রাপকদের মধ্যে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের স্থানীয় নেতানেত্রীদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামও রয়েছে। যা নিয়ে স্বজনপোষোন এবং দূর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।